ক্ষমা নবুয়তি চরিত্রের মহৎ গুণ, এই বিষয়ে জেনে নিন

আকীদাহ Contributor
ক্ষমা

আদর্শ ও মহৎ চরিত্রের অন্যতম উপাদান ‘ক্ষমা’

একটি আদর্শ ও মহৎ চরিত্রভাবনা কল্পনা করলে সবচে প্রথম যে বিষয়গুলো আসে তার অন্যতম হলো ক্ষমা। মহান আল্লাহর বিভিন্ন গুণাবলির অন্যতম একটি গুণ হলো ক্ষমাশীলতা। আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন আয়াতে বিভিন্ন ভঙ্গিতে তার ‘ক্ষমা’ গুণটির কথা বর্ণনা করেছেন।

সূরা বাকারার ৭৩ নম্বর আয়াতের, তরজমা : নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

শুধু এক স্থানে এই ক্ষমার আলোচনা করেননি বা ‘ক্ষমা’ নামক মহৎ গুণের কথা বলেননি। আল্লাহ তায়ালা নিজের গুণ ক্ষমার উল্লেখের সঙ্গে সঙ্গে নবীজিকে (সা.) এই গুণের আদেশ দিয়েছেন এবং জোর তাগিদের সঙ্গে দিয়েছেন।

আল্লাহ ঘোষণা দিচ্ছেন, তরজমা : আপনি ক্ষমা করতে থাকুন আর ভালো ভালো কাজের আদেশ দিতে থাকুন। আর মূর্খদের (সঙ্গে অর্থহীন তর্কবিতর্ক) এড়িয়ে চলুন’ (সূরা আরাফ : আয়াত নম্বর ১৯৯)।

সমাজে ওই ব্যক্তিকেই মহৎগুণের অধিকারী বলা হয়, যার মধ্যে ‘ক্ষমা’ করার সৌজন্যতা আছে। ক্ষমা না করে প্রতিশোধ নিয়ে নেয়ার দ্বারা অধিকাংশ সময় বিষয় ফায়সালা হয় না। একটি নষ্ট আচরণ বা অন্যায় দূর করতে রাগ, ক্রোধ, কঠোর আচরণ, কড়া মেজাজ ও প্রতিশোধ পরায়ণতা যতটুকু কাজে আসে, তার থেকে শতগুণ বেশি কাজে আসে ক্ষমা করার দ্বারা।

ইতিহাস থেকেই উদারহণ দিই। মক্কাবিজয়ের কথা আমরা সকলেই জানি। কী ঘটেছিল ওইদিন? মক্কার কাফেরদের ভেতরে শুরু হয়ে গেছে ভয়ানক ঝড়-বিপত্তি যে, আজকে কারো ক্ষমা নেই, মুহাম্মাদের হাতেই আজ আমাদের মরতে হবে। কিন্তু তিনি কী সিদ্ধান্ত নিলেন! শুধু মক্কার কাফের বেঈমানগোষ্ঠী নয়, পুরো পৃথিবী অবাক হয়ে গেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই ক্ষমার ঘোষণায়। তিনি ঘোষণা করলেন, আজ আমি তোমাদের থেকে প্রতিশোধ নিতে আসিনি, তোমাদের সকলকে ক্ষমা করে দেয়া হলো। আজ কারো পাপ নেই, অপরাধ নেই।

হাদিসের আলোকপাতায় ক্ষমার গুরুত্ব আদেশ ফজিলতের বিশাল বর্ণনা এসেছে। ক্ষমার মহত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে রাসূল (সা.) ঘোষণা করছেন,

দানে সম্পদ কমে না, (বরং দানের মাধ্যমে আল্লাহ সম্পদ বাড়িয়ে দেয়) ক্ষমা বান্দার সম্মান বাড়িয়ে দেয়, আর আল্লাহর সন্তুষ্ঠির জন্য যে ব্যক্তি নরম আচরণ করে (নিজেকে ছোট করে) আল্লাহ তাকে উচ্চ আসন দান করে

অর্থাৎ: ‘যে বান্দা অত্যাচারিত হয়েও জালিমকে ক্ষমা করে দেয়, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সম্মানিত করবেন’।

আমাদের সমাজের অবস্থা কী? কেউ কোনোভাবে কারো ওপর কর্তৃত্বশীল হলে; তার অবস্থা পরিবর্তন হয়ে যায়। সে যেন হয়ে যায় আসমানের তারকা, তার কর্মচারী ও অধীনস্থদের ভুলের কোনো ক্ষমা করে না।

মালিকরা মনে করে কর্মচারীগণ তার কেনা গোলাম; তাই তার অন্যায় বা ভুলকে ক্ষমা করে না, ক্ষমা করলে তা মালিকানার সম্মান নষ্ট হয়ে যায়। এমন ভাবে ওস্তাদরাও ছাত্রদের ভুলগুলো ক্ষমার করতে পারে না। ছাত্রদের সঙ্গে যা তা ব্যবহার শুরু করে। সমাজের সর্বক্ষেত্রে এই প্রবণতা দেখা যায় যে, ভুলের কোনো ক্ষমা নেই। আর এই ‘ক্ষমা নেই’ এর প্রভাব থেকে দুষ্ট চিন্তার উদ্ভব ঘটে। যার ফলে সমাজে অনেক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার জন্ম দেয়।

আসুন! নিজেরা ক্ষমার গুণ অর্জন করি। ক্ষমার বার্তার পৌঁছে দিই সমাজের মাঝে। আল্লাহ যে কোরআনের বারবার নিজেকে ঘোষণা করেছেন ক্ষমাশীল ও ক্ষমাপরায়ণ, সেই মহান গুণের অধিকারী নিজেরা হই। ক্ষমার সৌরভে ভরে যাক আমাদের সমাজ ও আশপাশ।

Source: The Daily Bangladesh

Photo: Omar Faruque

Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.