SalamWebToday নিউজলেটার
সালামওয়েবটুডে থেকে সাপ্তাহিক নিবন্ধ পাওয়ার জন্য সাইন আপ করুন
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

খাওয়ার টেবিলে সুপরিবেশ বজায় রাখবেন কীভাবে?

পরিবার ০৮ জুন ২০২০
খাওয়ার টেবিলে
Ramadan bersama keluarga © Odua | Dreamstime.com

খুব বেশি এবং খুব দ্রুত খাওয়া ইসলামী শিষ্টাচার অনুযায়ী অযৌক্তিক বলেই চিহ্নিত… কম খাওয়া কিংবা শরীরের পক্ষে ঠিক যেটুকু খাওয়া প্রয়োজন সেটিই ভাল বলে মান্যতা পায়। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমরা বাচ্চাদের কেন বেশি খাওয়ার জন্য বাধ্য করে থাকি? এই বিষয়ে আলোচনা প্রয়োজন।

একসময় এমন পরিবার ছিল যে, যেখানে প্রতিটি খাবার পরিতৃপ্তি সহকারে উপভোগ করা হত। বিসমিল্লাহ থেকে শুরু করে আলহামদুলিল্লাহর সমাপ্তি ঘটে থাকত আহারের পর্যায়। বাচ্চারাও সমস্ত পুষ্টিকর, বিচিত্র এবং মুখরোচক খাবার তৃপ্তি সহকারে উপভোগ করত। এই রকম পরিবেশ আপনার আমার বাড়িতেও তৈরি হতে পারেন। খাওয়ার টেবিলে সুষম আহারের পাশাপাশি সুষম পরিবেশ বজায় রাখার দায়িত্ব অভিভাবকেরই। কয়েকটি পদ্ধতি অবশ্যই রয়েছে।

খাওয়ার টেবিলে শিষ্টাচারঃ

বাবা-মা হিসাবে যারা আমাদের বাচ্চাদের জন্য ভাল চান, তারা শিশুদের পুষ্টিবর্ধক খাবারগুলো দেওয়ার পাশাপাশি খাওয়ার টেবিলে শিষ্টাচারকে উত্সাহিত করে থাকেন। আমরা চাই যে তারা বিভিন্ন রান্নার পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি খাবার ও স্বাস্থ্যকর ক্ষুধার প্রতি স্বাস্থ্যকর মনোভাব গড়ে তুলুক। খাবারের সময়গুলি একপ্রকার যুদ্ধ ক্ষেত্রেও পরিণত হতে পারে। আমাদের বাচ্চাদের খাওয়ার অভ্যাসগুলি তাদের কী হওয়া উচিত, সে সম্পর্কে আমাদের চিন্তাভাবনা এবং মতামতের পার্থক্য হতে পারে। খুব আস্তে খাওয়া, খুব তাড়াতাড়ি খাওয়া, বেশি কিছু না খাওয়া আবার বেশি খাবার খাওয়া, খাবার শেষ না করা, নির্ধারিত সময়ে ক্ষুধার্ত বোধ না করা, গোলযোগ করা এমন সাধারণ বিষয়গুলি শিশুকে খাবার খাওয়ানোর সময় দেখা দিতে পারে। সাধারণ প্রতিক্রিয়া এবং মোকাবিলার কৌশলগুলির মধ্যে শিশুর প্রতি পুরষ্কার, জবরদস্তি, সংবেদনশীল ব্ল্যাকমেল, দর কষাকষি এবং কখনও কখনও জোর করাও দেখা যায়। কার্যত আমাদের প্রত্যেকেরই একটা জিনিস মনে রাখতে হবে যে, ভাল মা হওয়ার কোনও বৈধতা বা মাপকাঠি এটা হতে পারে না যে কীভাবে, কখন এবং কী পরিমাণ আপনার বাচ্চারা খায়।

আমরা এখন যা করতে পারি তারই কয়েকটি পদ্ধতি উল্লেখ করা হল। পরিবারের সকলে মিশে যথাসম্ভব একসাথে খাওয়া যেতে পারে। কোনও ফোন বা টিভি বন্ধ রাখাই ভাল। খাবার পরিবেশিত হবে একটি গ্যাজেট-মুক্ত অঞ্চলে। শিশুদের প্লেটে সমস্ত কিছু খাওয়ার কোনও চাপ না দেওয়া উচিত। সবার প্রথমে শেষ করার জন্য কোনও উত্সাহ বা পুরষ্কার নেই। খাবারের সময়গুলিকে মজাদার করা যেতে পারে, পারস্পরিক গল্প এবং কথা বলার মাধ্যমে। খাবারের সময়গুলিকে একটি সাধারণ, দৈনন্দিন ঘটনা হিসাবে তৈরি করে ফেলার পরিবর্তে আমরা চেষ্টা করব পরিশেষে আমাদের খাবারের জন্য আল্লাহকে ধন্যবাদ জানাতে এবং আমরা একসাথে টেবিলটি সাফ করতে।

টেবিলে সু-পরিবেশ কেন গুরুত্বপূর্ণঃ

আমাদের দেহকে শক্তি দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উৎস হল খাদ্য, খাদ্যই আমাদের পরিপুষ্টি দিয়ে থাকে। শিশুরা এই সংযোগটি পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও তবে তারা তাদের সীমাটি জানে। আমাদের কাছে যা উদ্বেগজনক মনে হতে পারে তা হ’ল তারা যদি খাবারের যথার্থ মূল্যায়ন অনুভব করতে না পারে। এছাড়া অসংখ্য সাংস্কৃতিক পরিসরও শিশুর খাদ্যাভাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সুতরাং আপনার শিশুর ব্যক্তিগত ইচ্ছে এবং অনিচ্ছার উপরে নির্ভর করছে সে ঠিক কোন ধরনের খাবার খেতে পছন্দ করবে। যেমন অতিরিক্ত ঝাল খাবার তার পছন্দ হবে? নাকি মিষ্টি খাবার? নাকি কোনও মশলাদার খাবার খাওয়ার প্রতি তার একপ্রকার ঝোঁক তৈরি হবে? বলা যায়, আপনার শিশুটিকে তার ইচ্ছে মতো, তার পরিমাণ মতো আহার করতে দিন। অতিরিক্ত জোর করার প্রয়োজন নেই। মোটামুটি সুষম আহারের ব্যালেন্স থাকা প্রয়োজন। অতিরিক্ত মশলাদার খাবারও বর্জন করা যেতে পারে, কারণ শিশুর হজমজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এইভাবেই আপনি আপনার শিশুর সুস্থ বিকাশের পথটি গড়ে তুলতে পারবেন।