খাদ্য এবং সুস্বাস্থ্য – রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশনা

ID 188008681 © Alina Koval | Dreamstime.com

একটি সুন্দর জীবন গড়ে তুলতে আমরা প্রতিনিয়ত প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি। জীবনের কষাঘাতে লক্ষ্যের দিকে চালনার সময় আমরা আমাদের শারীরিক সত্তাকে প্রায়শই অবহেলা করি, ভারসাম্যহীন খাবার গ্রহণ করি এবং শারীরিক অনুশীলনের প্রয়োজনীয়তাকে উপেক্ষা করি।

আপনার শরীর একটি আমানত

আমাদের শরীর ও মন উভয়ই আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে আমাদের উপর আমানত। এই আমানত রক্ষার্থে আমরা কিভাবে জীবনযাপন করছি সেটিও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

নবী করিম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে কেউ পারিবারিক সুরক্ষা এবং সুস্বাস্থ্যের অনুভূতি নিয়ে দিন শুরু করে এবং সেদিনের জন্য তার নিকট পর্যাপ্ত রিযিক থাকে, সে যেন পুরো দুনিয়ার সব নিয়ামত পেয়ে গেছে।” (তিরমিযী)

দ্বীনের স্বার্থেই আমদেরকে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য উৎসাহিত করা হয়। কারণ আমরা দেখি যার ওজন বেশি, তার শারীরিক সমস্যাও বেশি এবং সালাত আদায়ের সময় তারাই বেশি চেয়ার দখল করে।

এটি একটি দুঃখজনক পরিস্থিতি যখন একজন ব্যক্তি সিজদা করতে এবং রুকুতে যেতে বেদনা অনুভব করে। এ কারণে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল চান আমরা যেন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হই।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহর নিকট দুর্বল মুমিন অপেক্ষা সবল মুমিন বেশি পছন্দনীয়।” (বুলুগুল মারাম)

আমরা কীভাবে ফিটনেস এবং সক্রিয় জীবনযাপন বজায় রাখব সে সম্পর্কে কুরআন ও সুন্নাহয় অনেক দিকনির্দেশনা রয়েছে। এখানে কিছু আয়াত ও হাদিস উল্লেখ করা হল।

১- দু’আ করুন

যখনই কোন কিছুর দিকে যাত্রা করার সময় তখনই আমাদের উচিত আল্লাহর কাছে দু’আ করা। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত আমরা কোনোকিছু বাস্তবায়ন করতে পারব না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “দু’আ একটি স্বতন্ত্র ইবাদত।” (তিরমিযী)

২- খাদ্যাভ্যাস

-পরিমিতভাবে খান

“হে বনী আদম, তোমরা প্রতি সালাতে তোমাদের বেশ-ভূষা গ্রহণ কর এবং খাও ও পান কর; কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপচয়কারীদেরকে পছন্দ করেন না। (আল কুরআন-৭:৩১)

সুতরাং, পরিমিত পরিমাণে খান। অপচয় করবেন না।

– খাওয়ার সময় তাড়াহুড়া করবেন না

“আল্লাহর রাসূল পাত্রে ফুঁ দিয়ে খেতে নিষেধ করেছেন।” (ইবনে মাজাহ)

যখন খাবার গরম থাকে, আমরা প্রায়শই এটি ঠান্ডা করার জন্য ফুঁ দিই যাতে আমরা তাড়াতাড়ি এটি খেতে পারি। এই তাড়াহুড়া প্রায়শই আমাদের পাকস্থলির ক্ষতি করে।

তাড়াহুড়ার কারণে আমাদের খাওয়া বেশি হয়ে যায়। আর ঠান্ডা খাবার খেলে খাবারের গন্ধে খাবারের প্রতি আগ্রহ কিছুটা হলেও কমে যায়, যার দরুন বেশি খাওয়া যায় না।

-একসাথে খান

নবীজীর কিছু সাহাবী একদিন বললেনঃ

“আমরা খাই কিন্তু সন্তুষ্ট হই না।”

নবীজী তখন বললেনঃ

“সম্ভবত তোমরা আলাদা খাও।”

সাহাবায়ে কেরাম হ্যা-বাচক উত্তর দিলে তিনি তখন বললেনঃ

“একসাথে খাও এবং খাবার গ্রহণের পূর্বে আল্লাহর নাম নাও। এটা তোমাদেরকে সন্তুষ্ট করবে।” (আবু দাউদ)

৩- কর্মঠ থাকুন

নবীজী ও তাঁর সকল সাহাবী কর্মঠ ছিলেন। যার কারণে তাদের বেশিরভাগেরই সুঠাম শরীর ছিল। নবীজীর বয়স যখন ৫০ এর উপরে তখন তিনি যুদ্ধে সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এটা থেকে সহজেই অনুমান করা যায় যে, তিনি কতটা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন।

– অশ্বারোহন

“ঘোড়ার প্রশিক্ষণ, স্ত্রীর সাথে বিনোদন এবং তীর-ধনুক চালনা ব্যতীত একজন মানুষ আনন্দের জন্য যা কিছু করে করে তা সবই নিরর্থক।” (আবু দাউদ)

অশ্বারোহনে অনেক উপকারিতা রয়েছে। এটি আপনার পেশি গুলিকে শক্তিশালী করবে এবং আপনার পরিপাকেও সাহায্য করবে।

– হাঁটাচলা

রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করার সময় আমরা প্রায়শই যানবাহন নেওয়া পছন্দ করি কারণ এটি সুবিধাজনক এবং আমাদের পক্ষে কম শক্তির প্রয়োজন হয়। কিন্তু নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাটতেন এবং দ্রুত গতিতে চলতেন। এটি এমন একটি অনুশীলন যা আমাদের মেনে চলা উচিত; এই নীতিটি আজ বিশ্বজুড়ে চিকিত্সকরাও পরামর্শ দিচ্ছেন।

– দৌড়ানো

আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, “নবীজী একবার আমার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছিলেন এবং আমি তাঁকে হারিয়ে দিই।” (ইবনে মাজাহ)

এটি হাইলাইট করে যে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল একাই দৌড়াদৌড়ি করেননি, তিনি তাঁর স্ত্রীর সাথে দৌড়েছেন!

এ সকল দিকনির্দশনাগুলি আমরা যদি মেনে চলতে পারি তবে এটি আমাদের স্বাস্থ্যকেও ফিট রাখবে এবং ইসলাম অনুশীলন করাও আমাদের জন্য সহজ হবে।