শরিয়াহ সম্মত ওয়েব পরিবেশ. আরওসন্ধানকরুন

খাবার গ্রহণের আগে ছয়টি সহজ সুন্নাহ

Syukur seadanya © Odua | Dreamstime.com

ইসলাম সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম। মানুষের জীবনের সব বিষয়ে যথোপযুক্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল সমাধান দিয়েছে ইসলাম। জীবন সফলতার দ্বীপ্তিময় পথ সুগম করে দিয়েছে অতি অল্প নেক আমলের মাধ্যমে। হেদায়াতের পাথেয় হিসেবে আল্লাহ ধরায় পাঠালেন কোরআন ও তাঁর প্রিয় মাহবুব মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে। তাঁকে মাইলফলক হিসেবে স্থাপন করেছেন মানবজাতির জন্য। তাঁর জীবনকে গড়েছেন পৃথিবীর পূর্বপরের সব মানুষ থেকে শ্রেষ্ঠ মাধুর্যে। ভালোবাসায় দিগ্বিজয়ী। তাঁকে বানিয়েছেন সবার পথিকৃৎ।

তিনি মানবসেবার কল্যাণ, সুখ-শান্তি কামনায় অনায়াসে মেহানত, পরিশ্রম করেছেন। তিনি আল্লাহর ফরমানে মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থাপন করেছেন নিজের জীবনের কাজকর্ম। অণু থেকে অণু বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছেন তাদের। তাঁর প্রতিটি কর্ম অনুসরণযোগ্য। সফলতায় পৌঁছার সর্বপেক্ষা উত্তম মাধ্যম। জীবন সাজানোর পাথেয়। তাঁর জীবনের কর্মপদ্ধতিগুলো মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরতে পারলে জীবন পৌঁছে যাবে সফলতার স্বর্ণ শিখরে।

খাবার গ্রহণের আগে ছয়টি সহজ সুন্নাহ জেনে নিন

না খেয়ে কোনো প্রাণী বেঁচে থাকতে পারেনা। সুস্থতার জন্য পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাবার গ্রহণ জরুরী। এছাড়া ভোজনরসিক বাঙালীর খাবারের প্রতি কিছুটা ভালবাসাও রয়েছে। তবে আহার ও পানাহার বিষয়ে ইসলাম কিছু শিষ্টাচার শিক্ষা দেয় আমাদের। আসুন জেনে নিই কিছু মূল নীতিমালা।

১। বিসমিল্লাহ বলে খাবার শুরু করা
খাওয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা। রাসুল (সা.) খাবার প্রারম্ভে সব সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলে খাবার শুরু করতেন। এবং তাঁর অন্য সাথিদের খাবার শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে উৎসাহিত করতেন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর নাম নিয়ে ও ডান হাত দ্বারা খানা খাও। এবং তোমার দিক হতে খাও।’ (বুখারি, হাদিস : ৫১৬৭, তিরমিজি, হাদিস : ১৯১৩)
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, যখন তোমরা খানা খেতে শুরু করো তখন আল্লাহর নাম স্মরণ করো। আর যদি আল্লাহর নাম স্মরণ করতে ভুলে যাও, তাহলে বলো, ‘বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওআখিরাহ।’ (রিয়াজুস সালেহিন : ৭২৯)। তিনি মানবজাতিকে শিক্ষা দিয়েছেন, তোমরা খাবার গ্রহণের প্রারম্ভের দোয়া ভুলে গেলে যখন স্মরণ হবে তখন এই দোয়া পড়বে।

২। কষ্ট করে যে রেঁধেছে তাকে খুশী করা
খাবারের প্রশংসা করা মুস্তাহাব, খাবার আয়োজন ও রাধুনীর জন্য কিছুটা ভালো লাগা কাজ করে এতে। সাথে সাথে আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা হবে। দোষ-ত্রুটি না ধরা। আমাদের অনেককে দেখা যায় খাবারের মধ্যে নানারূপ দোষ-ত্রুটি ধরতে। এই নিয়ে আমাদের পরিবারে ঝগড়াঝাটি হচ্ছে দেদার। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদের মতো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটছে। অথচ রাসুল (সা.)-এর পূর্ণ জিন্দেগিতে কখনো খাবারের দোষ ধরতেন না।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কখনো এমন করতেন― জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় পরিবারের নিকট তরকারী চাইলেন। তারা বললেন, আমাদের কাছে সিরকা ছাড়া আর কিছু নেই। তিনি সিরকা আনতে বললেন এবং তার দ্বারা খেতে লাগলেন। অতঃপর বললেন, সিরকা কতইনা উত্তম তরকারী; সিরকা কতইনা উত্তম তরকারী। (মুসলিম : ৩৮২৪)

৩। স্বর্ণ-রৌপ্যের পাত্রে পানাহার করা যাবে না
স্বর্ণ-রূপার পাত্র হচ্ছে অহংকারী ও কাফেরদের জন্য। সোনা-রূপার পাত্রে পানাহার করতে নবী করীম (সা) নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন,
তোমরা সোনা-রূপার পাত্রে পানাহার কর না।
আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি রূপার পাত্রে পানাহার করে, সে ব্যক্তি নিজ উদরে জাহান্নামের আগুন পূর্ণ করে’।

৪। দস্তরখানা বিছিয়ে খাওয়া
রাসুল (সা.) খাওয়ার সময় দস্তরখানা বিছিয়ে খেতেন। এটা অনেক বড় এক সুন্নাত। তিনি এ ব্যাপারে অনেক যত্নশীল ছিলেন। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার খালাম্মা একবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে গুইসাপ, কাঁধের গোশত ও দুধ হাদিয়া পাঠালেন। তিনি গুইসাপকে দস্তরখানার ওপরে রাখলেন। তিনি এটা খাননি। তিনি দুধ পান করলেন। এবং ছাগলের গোশত খেলেন। এই হাদিস দ্বারা বুঝে আসে, রাসুল (সা.) দস্তরখানা বিছিয়ে খেতেন। অন্য এক হাদিসে আছে, তিনি খাবারগুলো দস্তরখানার ওপরে রাখলেন। (তুহফাতুল ক্বারি ১০/৩৫৬)

৫। খাবারের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ ও শেষে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা। এটি এক চমৎকার সুন্নাহ 
বিসমিল্লাহ বলে শুরু করলে শয়তানের প্রভাব ও শরীক হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। রাসূল (সা) বলেন,
‘অবশ্যই শয়তান (মুসলিমের) খাবার খেতে সক্ষম হয়; যদি খাওয়ার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ না বলা হয়’।

৬। পড়ে যাওয়া খাবার উঠিয়ে পরিষ্কার করে খাওয়া
যদি কোনো খাবার পড়ে যায় তবে সে খাবার তুলে নিয়ে ময়লা ফেলে খেতে হবে। কারণ ঐ পতিত খাবারে বরকত থাকতে পারে। রাসূল (সা) বলেন,
কারো খাবারের লোকমা হাত থেকে পড়ে গেলে তার ময়লা দূর করে সে যেন তা খেয়ে ফেলে। আর শয়তানের জন্য তা ছেড়ে না দেয়। তিনি আরো বলেন, তোমরা জান না যে, তোমাদের কোন্ খাবারে বরকত আছে’।

আমরা যদি আমাদের জীবন চলার পথে রাসুল (সা.)-এর সুন্নাতগুলো পূর্ণতার সঙ্গে জীবনে প্রতিষ্ঠা করতে পারি, তাহলে আমাদের জীবন হবে সুন্দর থেকে সুন্দরতম। আমাদের শেষ পরিণাম হবে মধুময়। সুখ-শান্তির আভায় ভরপুর। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সুস্থ রাখুন ও সুন্নাহ মোতাবেক চলার তাওফিক দিন। আমীন!

কিছুবলারথাকলে

যোগাযোগকরুন