খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা যা সাধারণত স্কুলপাঠ্যে থাকে না

dreamstime_s_178142785 (2)
Uzaktan Eğitim Metodunun Çocuklar Üzerindeki Olumlu ve Olumsuz Etkileri

(২য় পর্ব)

পশুপাখিদের ক্ষতি না করা

শিশুরা সাধারণত পশুপাখিদের কাছাকাছি গেলে উত্তেজিত হয়ে পড়ে । কেউ কেউ পশুপাখির প্রতি আকৃষ্ট বোধ করে, কেউ কেউ ভয় পায়, আবার কেউ আত্মরক্ষারও চেষ্টা করে, আবার কেউ একেবারেই শান্ত থাকে। তাদেরকে এই শিক্ষা দেওয়া উচিত যে, পশুপাখিরাও আমাদের মতই জীবন্ত প্রাণী। তারা নিজস্ব উপায়ে যোগাযোগ করে এবং বন্ধুত্ব করে। তাদেরও অনুভূতি শক্তি আছে। এ কারণে ক্ষতিকর পশু এবং যেসব পশু ক্ষতিকর নয়, তাদের মধ্যে পার্থক্য শিশুদেরকে বুঝতে হবে। তাদেরকে ক্ষতিকর পশুদের থেকে দূরে থাকতে এবং পোষা প্রাণীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার পরামর্শ দিতে হবে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ একটি উপায় হতে পারে তাদেরকে পশুপাখিদেরকে নিয়ে তৈরী বিভিন্ন শো এবং ডকুমেন্টারি দেখানো। ঘরে গৃহপালিত কোনো পশু রেখে তাকে যত্ন করা শেখানোও শিশুদেরকে পশুদের প্রতি সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন পশুটি কোনো রোগে আক্রান্ত না হয় বা ক্ষতিকারক না হয়।

প্রকৃতিকে ভালবাসা

বেশিরভাগ মানুষই  স্বত্ত্বাগতভাবে প্রকৃতিকে ভালোবাসে। মানুষ প্রকৃতির মাঝেই নিজেকে খুঁজে পায়। শহরের যান্ত্রিকতাময় জীবন কখনও কাউকে নিজের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় না। শুধুমাত্র প্রকৃতিই পারে নিজের সাথে নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিতে। আপন স্বত্তাকে খুঁজে পেতে। পাহাড়, মেঘ, ঝর্ণা, বৃক্ষ, শীতল বাতাস এগুলোর মাঝে নিজের পরিচয় খুঁজে পাওয়া যায়।

অনেক ক্ষেত্রে আমরা নিজেরাই প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার বদলে ক্ষতি করে ফেলি। বৃক্ষ নিধন, পাহাড় কাটা, বন উজাড়, নদী ভরাট ইত্যাদি করে প্রকৃতিকে আমরা বিশিয়ে তুলি। এ ধরনের কাজগুলোর দ্বারা প্রকৃতির প্রভূত ক্ষতি হয়। যার দরুন আমাদের আশেপাশের প্রকৃতি হুমকির মুখে পড়ে। আর হুমকির মুখে পড়ে মানবজীবন।

তাই আমাদের আগামী দিনের প্রজন্মকে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা শেখাতে হবে। প্রত্যেক শিশুকেই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে যোগদান করতে উৎসাহিত করতে হবে। বাড়ির আশেপাশে গাছপালা লাগিয়ে সেগুলির পরিচর্যা শেখাতে হবে। এভাবে আমরা যদি প্রকৃতির সাথে মানিয়ে নিতে পারি তবেই আমাদের আশেপাশের প্রকৃতি সুন্দর রাখতে পারব। কেননা প্রকৃতির মাঝেই আছে অনাবিল সুখ। আসলেই প্রকৃতি সুন্দর। আর সুন্দরকে কে না ভালোবাসে!

তাই, আসুন  নিজেরা প্রকৃতিকে ভালোবাসি এবং বাচ্চাদের মাঝেও প্রকৃতির ভালোবাসা জন্মে প্রকৃতিকে হুমকি থেকে রক্ষা করি।

আদব-কায়দা শেখানো

শিশুরা অনুকরণপ্রিয় হয়ে থাকে। তার আশপাশে যা ঘটে সে তা অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এ কারণে শিশুদেরকে ছোট বয়স থেকেই কিছু মার্জিত আদব-কায়দা শিখিয়ে দেওয়া উচিত। এসব কিছুর মধ্যে শিশুদেরকে মিথ্যা না বলা শেখানো, বড়দেরকে দেখলে সালাম কিংবা শুভেচ্ছা জানানো হতে পারে অন্যতম একটি অংশ। বাসার সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা, কেউ কিছু দিলে তার পরিবর্তে ধন্যবাদ জানানো কিংবা কেউ ধন্যবাদ দিলে তার পরিবর্তে কী বলতে হবে এসব বিষয় শিশুকে শেখানো যেতে পারে। এছাড়া শিশুরা যেহেতু পরিবারের সঙ্গে সময়ের বড় একটি অংশ কাটায় সেহেতু তার ভাষাগত দিকেও খেয়াল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া কারও সঙ্গে ঝগড়া না করা, তার চেয়ে বয়সে ছোটদের স্নেহ করা, যে কোনো কাজের ক্ষেত্রে এগিয়ে আসার মনোভাব শিশুর মাঝে সৃষ্টি করতে হবে। শিশুকে কারও ঘরে প্রবেশ করার সময় অনুমতি নেয়া কিংবা দরজায় নক করার বিষয়েও শিক্ষা দিতে হবে।

পরিচ্ছন্নতা শেখানো

শিশুদেরকে বিভিন্ন রোগব্যাধি ও জীবাণু থেকে রক্ষা করতে পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। এজন্য শত ব্যস্ততার মাঝেও পিতামাতাসহ সন্তানের সচেতন অভিভাবকরা শিশুদেরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সচেতন থাকেন। শিশুদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বাড়তি টেনশনও করেন অনেক অভিভাবক। অথচ শিশুকে যদি নিজ থেকেই নিজের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা শেখানো যায় তাহলে তা হবে সোনায় সোহাগা।

একারণে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের পরিচ্ছন্নতার প্রতি সচেতন করে তুলতে হবে। মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য পরিচ্ছন্নতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একারণে হাদিসে পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতাকে ‘ঈমানের অঙ্গ’ বলা হয়েছে।

শিশুদের সার্বিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় অভ্যস্ত করা খুবই জরুরি। বিভিন্ন রকম খেলার মাধ্যমে বা পুরষ্কারের বিনিময়ে তাদেরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে উৎসাহিত করা যেতে পারে।

যে সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হল এগুলো অনেকাংশেই সমাজে অবহেলিত। বিদ্যালয় গুলোতে এগুলির মধ্যে কোনোটি পড়ানো হলেও তা শুধুমাত্র বইয়ের পাতাতেই সীমাবদ্ধ থাকে। শিশুদের ব্যক্তিগত জীবনে তা অতটা প্রভাব ফেলে না। তাই শিশুর মানসিক বিকাশও এগুলির অভাবে অনেকটা ব্যহত হয়। তাই আমাদের উচিত এই শিক্ষাগুলো শিশুদের মাঝে ব্যপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া।

(সমাপ্ত)