খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা যা সাধারণত স্কুলপাঠ্যে থাকে না

dreamstime_s_123116688

(১ম পর্ব)

নৈতিকতা ও মূল্যবোধ

আপন চরিত্রগুণে পৃথিবীর সব মহামানব ইতিহাসে তাদের স্থান করে নিয়েছেন। নৈতিকতা ও মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে তারা অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন।

নীতির প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ এবং যথার্থ মূল্যায়ন থেকেই আসে নীতিবোধ। আর এই নীতিবোধ থেকেই জন্ম নেয় নৈতিকতা। অপরদিকে নিজের বুদ্ধি ও সক্ষমতার দ্বারা প্রতিটি বিষয় ও কাজের ভালোমন্দ ও দোষগুণ মূল্যায়ন করার মানসিকতাই হলো মূল্যবোধ। মানুষের জীবনকে শুদ্ধ ও প্রগতিশীলতার সাথে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রথম সিঁড়ি হলো নৈতিকতা ও মূল্যবোধ।

সুষ্ঠু সমাজ নির্মাণে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শিক্ষার প্রসার ঘটার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এটি শেখার জন্য যথার্থ ব্যবস্থাপনা ও অনুশীলনের প্রয়োজন। কারণ এ ধরনের শিক্ষা মূলত একটি চলমান প্রক্রিয়া। শিশুর মূল্যবোধ ও নৈতিকতা বিকাশের প্রথম ও প্রধান উৎস হল তার পিতামাতা বা অভিভাবক। তারা যদি সৎ ও সুন্দর চরিত্র এবং মার্জিত ও অমায়িক আচরণের অধিকারী হন, তবে সন্তানরা তা দেখেই আয়ত্ত করে নিবে। নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শিক্ষা এটি একটি সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া। যার বীজ বপিত হয় পরিবারে; আর বিকশিত হয় সমাজে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও সর্বোপরি রাষ্ট্রে যা নিহিত।

সাহস

অনলাইনে সাহসের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তার সাধারণ চিত্র হল কেউ পাহাড় থেকে নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ছে, বা কোনো দুরারোহ পর্বতগাত্রে বসে আছে বা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে। তবে এগুলো মূলত সাহসের প্রতিচ্ছবি নয়। আর বাচ্চাদের সামনে আপনি সাহসের এই প্রতিচ্ছবিও তুলে ধরতে পারবেন না।

যারা শারীরিকভাবে সাহসী বা দমকল বাহিনী যারা মানুষের প্রাণ রক্ষা করেন তাদেরকে হীন করতে নয়, বরং কেবল আমাদের সন্তানকে শারীরিক সাহসিকতার বাইরে কিছু শেখানোর জন্য আমি এমন্তব্যটি করেছি।

সাহসকিতার প্রসঙ্গে বলা যায় যে, সম্ভবত অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস এবং নিজের স্বার্থের পরিপন্থী হলেও সত্য কথা বলার সাহস অর্জনের চেয়ে আর কোনো জরুরি কাজ নেই।

প্রয়োজনের সময় সাহসিকতার পরিচয় দেওয়া খুবই ভাল। তবে আমাদের মাঝে সাহস এবং নীতিগত আধ্যাত্মিকতা যা আজকাল খুব বিরল হয়ে উঠছে।যার প্রভাব আমাদের সন্তানদের উপর্ব পড়েছে। মার্ক টোয়েন কত চমৎকার কথাই না বলছেন: “এটা খুবই কৌতূহলের বিষয় যে, শারীরিক সাহসিকতার সন্ধান পাওয়া খুবই সহজ; কিন্তু নৈতিক সাহসিকতা খুবই বিরল!”

সততা

আপনার সন্তানকে ছোট থেকেই সততা সম্পর্কে সচেতন করুন। সে যেন সর্বদা সত্য কথা বলে। তার ছোটখাটো মিথ্যাকেও আপনি প্রশ্রয় দিবেন না। প্রশ্রয় দিলে এটি তার মিথ্যা বলার প্রবণতাকে বাড়িয়ে দিবে। মিথ্যা বলা বা কাউকে ঠকানো ইত্যাদি কোনো বিষয়কে অবহেলার নজরে দেখবেন না। তাকে সর্বদা সত্য বলতে শেখান। আবার সে যদি মিথ্যা বলে ফেলে তবে সেটি নিয়ে খুব বেশি রাগারাগিও করবেন না। বরং তাকে শেখান কিভাবে সে সত্য কথা বলবে।

দায়িত্ববোধ

ছোট বয়স থেকেই বাচ্চারা যদি দায়িত্ব নেওয়া শেখে তবে তারা দায়িত্ববান মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। তবে খুব বেশি কাজের দায়িত্ব তাদের উপর চাপানো যাবে না। খুবই ছোট ছোট কিছু কাজ যেমন নিজের খেলনা ঠিকমত দেখে রাখা, ঠিক জায়গায় গুছিয়ে রাখা, অপরিচ্ছন্ন কাপড়টি পরিষ্কার করার স্থানে রাখা, অথবা ছোট ভাই বা বোনের যত্ন নেওয়া ইত্যাদি। এই ছোট ছোট বিষয়গুলোই তার মধ্যে দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করবে।

সংকল্প

সংকল্প ছাড়া কোনো শিশুই তার কাজে সফলতা অর্জন করতে পারে না। এটি শুধু বাচ্চাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। সংকল্প ছাড়া কেউই কোনোদিন জীবনে সাফল্য অর্জন করতে পারে নি। তাই এই বিষয়টির সাথে ছোট থেকেই বাচ্চাদেরকে পরিচয় করে দিন।

উদারতা ও সমবেদনা

যখন অন্য কোনো বাচ্চা পিছলে পড়ে যাবে বা কোনো বিপদে পড়বে, তখন আপনার বাচ্চাটি যেন না হেসে পড়ে যাওয়া বাচ্চাটিকে উঠতে সাহায্য করে। অন্যের কষ্টে সে যেন খুশি না হয়। এটি তাকে হিংসা থেকে দূরে রাখবে। অন্যের কষ্টে খুশি হওয়ার কিছু নেই, বরং এই ঘটনাটি যে তার সাথেও হতে পারত- এই বিষয়টি তাকে ভালোভাবে বুঝিয়ে বলুন।

সমালোচনা বা ঠাট্টা না করা

শিশুদেরকে এটা বোঝাতে হবে যে, সমালোচনায় সে যেমন কষ্ট পায়, তেমনি তা অন্যদেরকেও কষ্ট দিতে পারে। এ কারণে অন্যদের সম্পর্কে মন্দ সমালোচনা করা তাদের উচিত নয়। শুধুমাত্র মজা পাওয়ার জন্য অযথা কাউকে উত্যক্ত করা বা তাকে নিয়ে ঠাট্টা করা কখনই গ্রহণযোগ্য নয়।

(চলবে)