খুব ভোরে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া সম্পর্কে ইসলামী নির্দেশনা

jog morning

রাতে তাড়াতড়ি ঘুমাতে যাওয়া আর সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা সুস্বাস্থ্য, সম্পদ ও জ্ঞান অর্জনের জন্য পূর্বশর্ত। বিষয়টি রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনেক হাদিসেরও ভাষ্য। আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে দেরি করে ঘুমানো অপছন্দ করতেন। এ কারণে তিনি সাহাবায়ে কেরামকেও তাকিদ দিতেন যেন তারা এ’শার পরপরই ঘুমিয়ে যান।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এশার নামাজকে রাতের এক-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার পর পড়তে পছন্দ করতেন। আর এ’শার আগে ঘুমানো এবং এ’শার পর না ঘুমিয়ে গল্প গুজব করাকে অচছন্দ করতেন।

খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠার উপকারিতা

খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠা সুস্বাস্থ্য ও জ্ঞানের পূর্বশর্ত। বলা যায় এটি সফলতার চাবিকাঠি। কেননা খুব ভোরে বা দিনের শুরুতে সকল কাজে কল্যাণ থাকে। শুধু ইবাদত-বন্দেগীই নয়, দুনিয়াবি কাজের জন্যও এটি সবচেয়ে উপযুক্ত ও বরকতময় সময়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম ভোরবেলার কাজের জন্য বরকতের দু’আ করেছেন। 

সখর গামেদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এই দু’আ করেছেন, “হে আল্লাহ, আমার উম্মতের জন্য দিনের শুরুকে বরকতময় করুন।” এ জন্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো যুদ্ধাভিযানে বাহিনী পাঠানোর সময় দিনের শুরুতে পাঠাতেন। বর্ণনাকারী বলেন, সখর (রাযিঃ)-ও তাঁর ব্যবসায়ী কার্যক্রম ভোরবেলা শুরু করতেন। এতে তাঁর ব্যবসায় অনেক উন্নতি হয়। তিনি সীমাহীন প্রাচুর্য্য লাভ করেন। (আবু দাউদ)

তাছাড়া এ সময় বান্দার রিজিক বন্টন হয়। যারা তখন ঘুমিয়ে থাকে তারা সফলতা ও রিজিকের বরকত থেকে বঞ্চিত হয়। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, “সকালবেলায় রিজিকের অন্বেষণ করো! কারণ, সকালবেলা সফলতা ও বরকত অর্জনের উপযুক্ত সময়।” (মাজমাউজ যাওয়ায়েদ)

ফাতেমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আমার ঘরে এসে আমাকে ভোরবেলায় ঘুমন্ত অবস্থায় দেখলেন, তখন আমাকে পা দিয়ে নাড়া দিলেন এবং বলেলেন, মা আমার! ওঠো! তোমার রবের পক্ষ থেকে রিযিক গ্রহণ করো! অসলদের দলভুক্ত হয়ো না। কেননা আল্লাহ সুবহে সাদিক থেকে সুর্যোদয় পর্যন্ত মানুষের মধ্যে রিযিক বন্টন করে থাকেন।” (আত তারগিব ওয়াত তারহীব)

কী বলছে গবেষণা

খুব ভোরে উঠা মানুষগুলো সবার থেকে আলাদা ও কর্মদক্ষ হয়ে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠে কিংবা রাতে কম ঘুমায়, অন্যদের তুলনায় তাদের বুদ্ধিমত্তা ভাল হয়।

টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিক্ষার্থী ভোরবেলায় জাগ্রত হয়, তারা অন্যদের তুলনায় পরীক্ষায় বেশি নম্বর প্রাপ্ত হয়। তাদের জিপিএ অন্যদের তুলনায় বেশি হয়। এই সাফল্যের পিছনে বাড়তি উৎপাদনশীলতা এবং ভাল ঘুম হওয়াকেই তারা কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, “আল্লাহ ঐ বান্দার উপর রহম করুন, যে রাত্রিকালে উঠে নামাজ আদায় করে এবং তাঁর স্ত্রিকেও জাগায় এবং সেও নামাজ আদায় করে। যদি সে (স্ত্রী) নিদ্রার চাপে উঠতে না চায়, তবে সে (ভালোবেসে) তার মুখে চোখে পানি ছিটিয়ে দেয়। আল্লাহ ঐ নারীর উপরও রহম করুন, যে রাত্রিতে উঠে নামাজ আদায় করে এবং তার স্বামীকে ঘুম থেকে জাগায় এবং সেও নামাজ আদায় করে। যদি সে ঘুম থেকে উঠতে না চায়, তবে তবে সে (ভালোবেসে) তার মুখে চোখে পানি ছিটিয়ে দেয়।” (আবু দাউদ)

মৃত্য ঝুঁকি, ডায়াবেটিস, স্নায়ুরোগসহ যাবতীয় জটিল রোগ থেকে বাঁচতে সুস্থ জীবন যাপনের জন্য দেরি না করে নিয়ম মাফিক একই সময়ে ঘুমানো এবং ঘুম থেকে ওঠা, ঘুমের সময় ল্যাপটপ ও মোবাইল ব্যবহার না করার মত অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষক চিকিৎসকরা।

আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষের জন্য এ উপদেশ দিয়েছেন এবং সকাল বেলা তাড়াতাড়ি ঘুম থকে উঠে সূর্যোদয়ের আগেই ফজর নামাজ আদায় করার বিধান নিয়ে এসেছেন।

দেরিতে হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রিয়নবীর এই উপদেশকেই স্বীকার করেছে মাত্র। এতেই প্রমাণিত হয় ইসলামই একমাত্র বিজ্ঞানসম্মত পূর্নাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। যার প্রতিটা বিধান মানুষের জন্য উপকারী।

আল্লাহ তা’আলা মানুষকে ইসলামের বিধানের আলোকে জীবন পরিচালনা করার এবং রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়ার এবং সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থকে ওঠার তৌফিক দান করেন। সুস্থ ও সুন্দর রোগমুক্ত জীবন উপভোগ করার তৌফিক দান করেন। আমীন।