খুশকি দূর করতে কার্যকরী পেঁয়াজের রস

dandruff
ID 10424047 © Zurijeta | Dreamstime.com

শীতকালে ত্বক রুক্ষ হয়ে যাওয়া যেমন স্বাভাবিক তেমনি খুশকির সমস্যাও নতুন নয়। মাথার স্ক্যাল্পে প্রতিনিয়ত নতুন কোষ হয়, আর মৃত কোষগুলি ঝড়ে যায়। আর এর থেকে মুক্তি পেতে কোনও না কোনও উপায় খোঁজার চেষ্টা করি আমরা।
আসুন জেনে নেওয়া যাক এমন বেশ কয়েকটি কার্যকরী ভেষজ উপাদান সম্পর্কে যেগুলো খুশকির সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে পারে সহজে! আর এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোর দামও সামান্য। তাই অল্প খরচে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই খুশকির সমস্যার সমাধান করুন।

নিমপাতা: নিমপাতার সর্বরোগহর গুণের কথা কারও অবিদিত নয় ৷ খুশকির প্রকোপ কমাতেও তা দারুণ কাজে দিতে পারে৷ এক মুঠো নিমপাতা পেস্ট তৈরি করে নিন ৷ স্নানের এক ঘণ্টা আগে সেটা মাথায় লাগিয়ে শাওয়ার ক্যাপ পরে থাকুন ৷ তার পর ভেষজ কোনও শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ভালো করে ধুয়ে নিন ৷ আগের দিন রাতে এই পেস্টটা লাগিয়ে পরদিন শ্যাম্পু করতে পারলেও খুব ভালো ফল পাবেন ৷ পেস্ট লাগাতে চান না? এক মুঠো নিমপাতা ভিজিয়ে দিন এক মগ গরম জলে ৷ সারা রাত এইভাবে রাখুন ৷ পরদিন স্নান সেরে মাথা ধুয়ে নিন এই জলে, তাতেও নিয়ন্ত্রণে আসবে খুশকি ৷ নিমের নিয়মিত ব্যবহার আপনার মাথার তালুর চুলকানি কমাবে, যে ফাঙ্গাসের কারণে খুশকির বাড়বাড়ন্ত হয়, সেগুলিকে ক্রমশ অকেজো করে দেয় নিমের নির্যাস ৷

লেবুর রস: পাতিলেবুর রস নিংড়ে নিন ৷ তার পর সেটা মাথায় লাগিয়ে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে চুল ধুয়ে নিন ৷ লেবুর রসের অ্যাসিড ফাঙ্গাস বিনষ্ট করতে খুব কার্যকর ভূমিকা নেয় ৷ বাজারচলতি যে কোনও অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ প্রডাক্টে থাকে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ৷ লেবুর রস তা থেকে মুক্ত ৷ এক কাপ জলে একটি লেবুর রস মিশিয়ে শ্যাম্পুর পর চুল ধুয়ে ফেললেও খুব ভালো ফল পাওয়া যায় ৷ যতদিন না পুরোপুরি খুশকিমুক্ত হচ্ছেন ততদিন পর্যন্ত এই মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারেন ৷ কমলালেবুর খোসা শুকনো করেও পাতিলেবুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে নেওয়া যায়৷ 3-4টি শুকনো কমলালেবুর খোসা আর আন্দাজমতো পাতিলেবুর রস ব্লেন্ডারে দিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন ৷ তার পর সেই পেস্টটা মাথায় লাগিয়ে এক ঘণ্টা রেখে চুল শ্যাম্পু করে নিন হালকা কোনও শ্যাম্পু দিয়ে ৷ খুশকির পাশাপাশি সমস্ত দুর্গন্ধের হাত থেকেও মুক্তি পাবেন ৷ সপ্তাহে 2-3বার রিপিট করা যায় ৷

পেঁয়াজের রস: দুটা মাঝারি মাপের পেঁয়াজ ভাল করে বেটে এক মগ বা ৩০০-৩৫০ মিলিলিটার পানিতে মিশিয়ে নিন। মাথায় এই পেঁয়াজের রস ভাল করে মাখিয়ে মিনিট পনেরো মালিশ করুন। এরপর ৫ মিনিট রেখে উষ্ণ পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন। এ ভাবে সপ্তাহে দু’-তিন বার পেঁয়াজের রস মাথায় মাখলে খুশকির সমস্যা থেকে দ্রুত রেহাই মিলবে।

টক দই: আপনার পুরো চুলে মাখানো যায়, এমন পরিমাণ দই দু’ দিন বাইরে ফেলে রাখুন ৷ দইটা একটু টক হয়ে গেলে বেশি ভালো কাজ হবে ৷ স্নানের এক ঘণ্টা আগে সেটা মাথায় খুব ভালো করে লাগিয়ে নিন ৷ স্ক্যাল্প তো বটেই, চুলের গায়েও লাগাবেন ৷ মাস্কের মতো এই প্রলেপটা লাগিয়ে রাখুন ৷ তার পর ভালো করে চুল ধুয়ে শ্যাম্পু করে নিন৷ দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিডের প্রভাবে আপনার চুল হয়ে উঠবে নরম, কোমল ও উজ্জ্বল ৷ নিয়মিত ব্যবহারে খুশকি মুক্ত থাকতে পারবেন ৷

মেথি: মেথি সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে ছেঁকে নিয়ে ভাল করে বেটে নিন। ছেঁকে নেয়া পানি ফেলে দেবেন না। এবার বেটে নেয়া মেথি চুলের গোঁড়ায় মাথার ত্বকে ভাল করে লাগিয়ে নিন। ঘণ্টা খানেক রেখে চুল ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। চুল ধোয়ার পর মেথি ভিজিয়ে রাখা পানি দিয়ে আরও একবার চুল ধুয়ে নিন। এ ভাবে সপ্তাহে দু’বার মেথি-মালিশ করলে উপকার পাওয়া যাবে দ্রুত।

গ্রিন টি: শরীরের পাশাপাশি চুলের স্বাস্থ্যও ভালো রাখে এই অ্যান্টি অক্সিডান্টসমৃদ্ধ চা ৷ এক কাপ গ্রিন টি বানিয়ে নিন৷ তার মধ্যে মেশান কয়েক ফোঁটা পিপারমিন্ট এসেনশিয়াল তেল আর এক চাচামচ কোনও ভালো মানের সাদা ভিনিগার৷ ঠান্ডা করে নিন৷ স্নানের আগে চুলটা ভিজিয়ে নিন সাধারণ তাপমাত্রার জলে৷ তার পর এই মিশ্রণ চুলে ঢালুন৷ ঘষে ঘষে মাথার ত্বকে মিশ্রণটা লাগিয়ে নিন পাঁচ মিনিট ধরে৷ তার পর কোনও মৃদু সালফেটমুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করে চুলটা ধুয়ে নিতে হবে৷ কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন৷ কন্ডিশনার কখনওই মাথার তালুতে লাগাবেন না৷ চুলের গোড়া থেকে আন্দাজ এক ইঞ্চিমতো ছেড়ে গোটা চুলের গায়ে কন্ডিশনার লাগান, তাতে চুল নরম থাকবে৷ ভালো করে ধুয়ে নিন মিনিট তিনেক পর৷

মনে রাখবেন:

যদি খুশকি খুব বেড়ে যায়, তা হলে আপনার চুলের স্বাস্থ্যহানি হবে ৷ মাথার তালু চুলকাবে বেশি, চুল পড়তেও পারে ৷ তবে একবার খুশকি সেরে গেলে এবং মাথার তালু ফাঙ্গাসমুক্ত হলে ফের চুল গজাবে ৷

স্ক্যাল্প সোরিয়াসিস হলেও চুল পড়ে ৷ এক্ষেত্রে কিন্তু ডাক্তারের পরামর্শমতো প্রডাক্ট ব্যবহার করা একান্ত আবশ্যক ৷

বাড়াবাড়িরকম খুশকি সারাতে হলে সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে মেডিকেটেড অ্যান্টি ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ৷ বাজারচলতি শ্যাম্পু ব্যবহার বন্ধ রাখুন কিছুদিনের জন্য ৷

নারকেল তেল, খাঁটি অলিভ অয়েল, টি ট্রি অয়েল খুশকি সারাতে কার্যকর বলে মনে করা হয় ৷ প্রতিটির মধ্যেই অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি ফাঙ্গাল গুণাগুণ বর্তমান ৷ সেই সঙ্গে তেল চুলের ময়েশ্চরাইজ়ারের জোগান দেয় ৷ ফলে চুল থাকে নরম-কোমল৷