খেয়ে দেখেছেন কখনো ‘টার্কিশ পিৎজা’? জেনে নিন রেসিপি

turkish pizza

তুরস্কের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবারের নাম হল লামাকুনআমরা ‘স্ট্রিট ফুড’ বলতে বা চটজলদি মুখোরোচক খাবার বলতে যা বুঝে থাকি, লামাকুন হল তাই। লামাকুনের উপকরণ এবং রন্ধনপ্রণালীর সঙ্গে ইতালিয় পিৎজার মিল লক্ষ করা যায় লামাকুনকে তাই বিদেশি বহু পর্যটকই নাম দিয়েছেন ‘টার্কিশ পিৎজা’ লামাকুন বানানোও বেশ সহজ মূলত পাতলা ময়দার আস্তরণ বা ডোয়ের উপরে মাংসের কিমা, পেঁয়াজ, টমেটো, কাঁচা লঙ্কা, মরিচ এবং অন্যান্য মশলা ছড়িয়ে এটিকে ভাল করে ভাজা হয়ে থাকে এরপরে একধরনের সবজির স্যালাড এবং লেবুর রস দিয়ে পরিবেশন করা হয়ে থাকে বানানোর প্রক্রিয়া ভীষণই সহজ এবং যেহেতু এই খাবারটি খেতেও মন্দ নয় তাই অল্পসময়ের মধ্যেই লামাকুন বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে

এই প্রসঙ্গে আরও কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করা যায় লামাকুন খাবারটির চল সেইভাবে চালু হওয়ার আগে স্পিহা এবং মানাকিশের মতো বিভিন্ন ধরণের খাবার ওসমানীয় সাম্রাজ্যে বিশেষত তুরস্ক, আর্মেনিয়া, সিরিয়া, লেবানন এবং ইরাকের দেশগুলিতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। খাবারের এই পদগুলোতেও আমরা দেখতে পাই ময়দার ডোয়ের উপর মাংসের কিমা দিয়ে প্রস্তুত করার পদ্ধতি। আরও একটি মত উঠে আসে এই প্রসঙ্গে। পাতলা ময়দার ডোয়ের উপরে মাংসের কিমা দিয়ে প্রস্তুত খাবারের পদটির নাম হল লাহম বাজিন (ময়দার মাংস)… অনেকসময়ে একে লাহমজিন নামেও উল্লেখ করা হয়ে থাকে অনেকেই এক্ষেত্রে মনে করেন যে এই লাহমজিন থেকে লামাকুন নামটি এসেছে। অবশ্য তুরস্কের উচ্চারণ লাহমজুন।  ১৯৬০-এর দশকের পরে এই পদটি তুরস্কে ব্যাপক আকার ধারণ করার আগে, এটি তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলগুলিতে উর্ফা এবং গাজিয়ানট্যাপের আশেপাশে পরিচিত ছিল।

লামাকুন পদটির যাবতীয় ইতিবৃত্ত পড়তে পড়তে অবশ্যই এই খাবারটি বাড়িতে রান্না করতে অনেকেরই ইচ্ছা করতে পারে তাই সেকল পাঠকদের জন্য রইল লামাকুন বানানোর রেসিপি

উপকরণ-

ডোয়ের জন্য- ২৫০ গ্রাম ময়দা, ১ চা-চামচ ইস্ট, ১ চা-চামচ লবণ, ১/২ চা-চামচ চিনি এবং ২৫০ মিলিলিটার জল, ৩ চা-চামচ অলিভ ওয়েল।

টপিং-এর জন্য- ১ চামচ অলিভ অয়েল, ১ টা পেঁয়াজ ভাল করে কুচানো, ২ কোয়া রসুন (ভাল করে কুচানো),  ৫০০ গ্রাম মাংস, ২ চা-চামচ জিরা গুড়ো,  ২ চা-চামচ ধনে গুড়ো, ২ চা-চামচ পেপারিকা, ১ টা টমেটো (কুচানো),  ১ চামচ টমেটো পেস্ট, কুচানো মিন্ট বা পুদিনা পাতা, ধনে পাতা কুচানো,  ২ চামচ কুসকুস, ১২৫ গ্রাম টক দই বা ইয়োগার্ট, ২ চা-চামচ হরিশা (ঝাল লঙ্কা পেস্ট)

প্রণালী-

প্রথমে একটি বড় পাত্রে ময়দা ঢেলে ফেলুন। ইস্ট মিশিয়ে তার মধ্যে নাড়ুন। ভালভাবে মেশানো হয়ে গেলে লবণ এবং চিনি দিয়ে ভাল করে মিশ্রণটিকে মেশান। এরপর মিশ্রণটির কেন্দ্রে একটি গর্ত তৈরি করুন। জল এবং তেল ঢালুন গর্তের মধ্যে। উপকরণগুলো ভাল ভাবে মিশে না যাওয়া পর্যন্ত নাড়াচাড়া করুন। উপকরণগুলো ভাল করে মিশে গেলে ডোয়ের আকৃতি নেবে। ডো-টিকে গুড়ো ময়দার উপরে রেখে আরেকবার ভাল করে মেখে নিন। এরপর একটি বড় পাত্রে দু-এক ফোঁটা তেল ঢালুন এবং ডোটিকে তার মধ্যে রেখে সম্পূর্ণ বিষয়টিকেই ঢাকা দিয়ে রাখুন কয়েক ঘণ্টার জন্য।

এরপর মাঝারি আঁচে একটি ফ্রাই প্যানে তেল গরম করুন। ৫ মিনিটের জন্য তার মধ্যে পেঁয়াজ দিয়ে নাড়তে থাকুন। রসুন এবং মাংসের টুকরো ওর মধ্যে যোগ করে দিন। ৫-৮ মিনিট বা মাংস প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। মিশ্রণের মধ্যে এরপর জিরা, ধনে এবং পেপারিকা দিন এবং আরও ১ মিনিট নাড়ুন। টমেটো এবং পেস্ট যোগ করে দিন ওর মধ্যে।  ৫ মিনিট মতো ভাল করে মাংস সেদ্ধ হতে এবং মশলা মিশতে দিন। এরপর মিশ্রণে পুদিনা এবং ধনে পাতা যোগ করে আবারও নাড়তে থাকুন, যতক্ষণ পর্যন্ত মিশ্রণটিতে মশলা ভালভাবে মিশে না যায়।

এরপর ওভেনে ২৩০-২৫০ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার আঁচে ময়দার ডো-টি দিন, পাউরুটি বা রুটি তৈরির জন্য. বেকিং-এর সময়েই ওভেন ট্রেতে আপনি কুসকুস ছড়িয়ে দিতে পারেন।

পাউরুটি তৈরি হয়ে গেলে ওর উপরে ফ্রাইং প্যানে প্রস্তুত মিশ্রণটিকে আস্তে আস্তে ঢেলে দিন। এরপরে তার উপরে বাকি কুসকুসগুলো দিয়ে পরিবেশন করুন।

 

তথ্যসূত্র- উইকিপিডিয়া এবং বিভিন্ন ফুড ব্লগ