খোশ আমদেদ হিজরি নববর্ষ ১৪৪১

সত্ত্ব Omar Faruque ৩০-আগস্ট-২০১৯

হিজরি নববর্ষকে খোশ আমদেদ। কালের গর্ভে হারিয়ে গেল ১৪৪০ হিজরি। চলে এলো ১৪৪১ হিজরি, আমরা অনেকেই হিজরি সনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবহিত নই। তাই এটি বিগত সময়ের মুহাসাবা ও সামনের জন্য নতুন সঙ্কল্পে উজ্জীবিত হওয়ার সময়। অতীতের যে সময়টুকু আল্লাহ তায়ালার মর্জি মোতাবেক অতিবাহিত করার তাওফিক হয়েছে তার জন্য শোকরগোজারি আর যা গাফিলতি-উদাসীনতা ও আল্লাহর নাফরমানিতে বরবাদ হয়েছে তার জন্য অনুশোচনাই হলো মুমিনের করণীয়।

হিজরি বর্ষের প্রথম মাস মহররম। কুরআন ও সুন্নাহে এ মাস ফজিলতপূর্ণ। কিন্তু আশুরা ও শাহাদতে হুসাইন রা:-এর কারণে এ মাসকে মঙ্গলজনক মনে করা হয়, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। হজরত হুসাইন রা:-এর শাহাদত অবশ্যই মুমিনের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং তার শাহাদত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করাও প্রত্যেক মুমিনের অপরিহার্য কর্তব্য। কিন্তু তাই বলে কোনোরূপ ভিত্তিহীন ধারণা পোষণের অবকাশ নেই।

আমরা আমাদের জীবন থেকে একটি পরিপূর্ণ বছর বিদায় দিচ্ছি যাতে আমরা আমাদের আমলগুলো সংরক্ষণ করেছি, যা হাশরের দিন আমাদের আমলে তুলে ধরা হবে। কতই না দ্রুত দিনগুলো কেটে গেছে, কত বন্ধু এতে আমরা হারিয়েছি, কত বিপদের এতে আমরা মুখোমুখি হয়েছি, কত পাপই না আমরা এতে করেছি। দিবা-রাত্রি আমাদের এসব আমলের সংরক্ষণস্থল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, ‘সব মানুষই সকালে উপনীত হয় নিজেকে বিক্রেতা হয়ে, হয়ত সে স্বীয় আত্মাকে আজাদকারী হয়, অথবা সে স্বীয় আত্মার ধ্বংসকারী হয়।’

উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘তোমরা তোমাদের আত্মার হিসাব নাও নিজেদের হিসাব দেয়ার আগে, তাকে ওজন করো নিজেদের ওজন দেয়ার আগে।’ সুতরাং এ বছরের শুরুতেই পাঁচ ওয়াক্ত সালাত মসজিদে জামাতের সাথে আদায় করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হও। দ্বীনের জ্ঞান লাভ, তার প্রসার ও শিক্ষা দান এবং মিথ্যা, গিবত, পরচর্চা, অশ্লীল কথা থেকে জিহ্বাকে হেফাজত করার মাধ্যমে নৈতিক পথের সংগ্রহ করো। খাওয়া দাওয়া, হারাম পরিহার ইত্যাদি ক্ষেত্রে সতর্কতা ও পরহেজগারি অবলম্বন করো, মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতি অনুরাগী হও। নিকট ও দূরবর্তী সবার জন্য ন্যায় ও কল্যাণকর কাজ করতে সচেষ্ট হও, হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতা থেকে আন্তরকে পবিত্র রাখ।

মানুষের সম্মান হননের ক্ষেত্রে সতর্ক হও। ‘সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ হতে নিষেধ’ এ নিদর্শন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা করো। সন্তান, স্ত্রীসহ সবার অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে ব্রত হও। রাস্তাঘাটে ও স্যাটেলাইট মিডিয়ার হারাম বা নিষিদ্ধ দৃষ্টি থেকে নিজের চক্ষুকে অবনত রাখ। মনে রেখো, রাত-দিন দুনিয়া থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এবং আখেরাতের নিকটবর্তী হচ্ছে। সুতরাং সে বান্দার জন্য সুসংবাদ, যে নিজের জীবন থেকে উপকৃত হয়েছে এবং গত বছরের আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নতুন বছরকে গ্রহণ করেছে। প্রতিদিনের সূর্য অস্তমিত হয়ে তোমাকে তোমার জীবন কমে যাচ্ছে-এ সতর্ক সঙ্কেত দিচ্ছে। বিবেকবান সে, যে গত দিন থেকে উপদেশ নেয় এবং আজকের জন্য সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে, আগামীকালের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নেয়।

সুতরাং নিকটবর্তী সফরের জন্য রসদ প্রস্তুত করো। সর্বোত্তম পাথেয় হচ্ছে যাতে আল্লাহভীতি রয়েছে তা, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে মর্যাদাবান সে ব্যক্তি যে তাঁকে (আল্লাহকে) সবচেয়ে বেশি ভয় করে। আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো, আগামী দিনের জন্য মানুষ কী পেশ করেছে, সে যেন তা দেখে নেয়। আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমরা যা করছ তা সম্পর্কে সম্যক খবরদার।’ (সূরা আল-হাশর-১৮)।

Source: The Daily Bangladesh

Photo: Unsplash