গঙ্গায় কমছে দূষণ, বাড়ছে ইলিশের স্বাদ

বিশ্ব Tamalika Basu ১৮-জুন-২০২০

লকডাউনের প্রভাব পড়েছে নদীর ইলিশে। তবে এবার ক্ষতিকর ভাবে নয়। বরং নিজের ঐতিহ্য ফিরে পাচ্ছে ইলিশ। ইলিশের নামের সাথে যে স্বাদ ও গন্ধ জড়িয়ে আছে, এতদিন তা লুকিয়ে ছিল। লকডাউনের কারণে ইলিশ ফিরে পাচ্ছে তার নিজস্ব স্বাদ ও গন্ধ। এমনটাই বলছেন ভারতীয় গবেষকরা।

ডিম পাড়ার সময় ইলিশ গভীর সমুদ্রের নোনা জল থেকে নদীতে আসে। পোনার মাপ ৩-৪ ইঞ্চি হওয়ার পর তারা ফের সমুদ্রের দিকে ফিরতে শুরু করে। বর্ষায় ও শীতে মোহনা থেকে গঙ্গা বেয়ে ফরাক্কা পর্যন্ত প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পথ যায় ইলিশের ঝাঁক। এই যাত্রাকে পরিযান বলে। পানি পরিষ্কার থাকলে এই পরিযান হয় যথাযথ। আর ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ এক প্রান্ত থেকে দৌড়ে বেড়ায় অন্য প্রান্তে। লকডাউনের কারণে এই পরিযানই এ বার ইলিশের জন্য এতটাই সুখকর হবে যে, তার প্রভাব পড়বে স্বাদে-গন্ধে-আকারে।

সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিআইএফআরআই)-এর নদী-মৎস্য বিভাগের সাবেক প্রধান ইলিশ-বিশেষজ্ঞ উৎপল ভৌমিক বলছেন, ‘‘পানির মান এবং ভাল খাবার সব সময়েই মাছের জন্য অত্যন্ত ভাল। পরিযানের পথে এবার গঙ্গার ইলিশ সেটাই পাবে। যার নিট ফল, স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় হয়ে ওঠা।’’

লকডাউনে বন্ধ কলকারখানাগুলো। নদীতে চলছে না নৌযানও। জেলেদের থামিয়ে দিয়েছে ঝড় আমফান। এসব কারণে, গঙ্গায় দূষণের পরিমাণ এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে গেছে। অপরদিকে বৃষ্টিতে নদীর পানির অবস্থা ভাল। সব মিলিয়ে গঙ্গার পরিষ্কার পানির কারণেই ইলিশের পরিযানের পথ অত্যন্ত সুখকর হয়ে উঠবে এ বছর। শুধু পরিযানের পথ নয়, পরিষ্কার পানির কারণে এবার গঙ্গায় মাছের খাবারের পরিমাণও বেড়েছে অনেক গুণ।

কিন্তু তার সঙ্গে স্বাদ ও গন্ধের বৈজ্ঞানিক কোনো সম্পর্ক আছে? আছে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্রের নোনা জল থেকে ইলিশ যত নদীর উজানে যেতে থাকে ততই তার শরীর থেকে ঝরতে থাকে আয়োডিন, লবণের মতো খনিজ পদার্থ। পরিযানের সময়ে ইলিশ কিছু খায়ও না। তাই ইলিশ যত বেশি মিষ্টি জলে থাকতে পারবে, তত তার দেহ থেকে কমবে লবণসহ বিভিন্ন খনিজ। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে তার স্বাদও।