গবাদিপশু উৎপাদনে নীরব বিপ্লব ঘটেছে বাংলাদেশে

সত্ত্ব Omar Faruque ৩০-আগস্ট-২০১৯

২০১৪ সালে দেশে গরুর মাংসের চাহিদা ছিল ৭৬ লক্ষ ৩০ টনের বেশি। উৎপাদিত হয়েছে ৪৫ লক্ষ ৬১ টনের বেশি। ঘাটতি ছিল প্রায় ২২ লক্ষ টন। অপরদিকে, গরুর দুধের চাহিদা ছিল এক কোটি ৪০ লক্ষ টন, উৎপাদিত হয়েছে ৬ লক্ষ টন। ঘাটতি ছিল ৭৯ লক্ষ টন।

সরকারের নানা উদ্যোগে বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে গরু ও ছাগল উৎপাদনে। গত একবছরে উৎপাদন বেড়েছে প্রায় তিন লাখ। দেশে সারাবছর মাংসের জোগান ও কোরবানির চাহিদা মেটানোর পর বিদেশেও রফতানি হচ্ছে গরু-ছাগলের মাংস। গবাদিপশু উৎপাদনে নীরব বিপ্লব ঘটেছে দেশে। অথচ পাঁচ বছর আগেও কোরবানির ঈদে বৈধ-অবৈধ পথে ভারত, নেপাল ও মিয়ানমার থেকে ২০ থেকে ২৫ লাখ গরু আমদানি করে দেশের চাহিদা পূরণ করতে হতো। সারাবছরে এই সংখ্যা ছাড়িয়ে যেত ৪০ লাখে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের চলতি বছরের কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর তথ্য বিশ্নেষণে গরু-ছাগলের এই সংখ্যা জানা গেছে। আসন্ন কোরবানি ঈদ উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার গবাদিপশুর সংখ্যা-সংক্রান্ত একটি চিঠি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। আসন্ন ঈদুল আজহায় এবারও কোরবানির গরুর চাহিদা মেটাবে দেশি গরু।

এর জন্য এক কোটি ১৭ লাখ ৮৮ হাজার ৫৬৩টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। চোরাই পথে গরু-ছাগল না এলে কোনো সংকট হবে না। এর মধ্যে গরু-মহিষের সংখ্যা ৪৫ লাখ ৮৮ হাজার ৫৬৩ এবং ছাগল-ভেড়ার সংখ্যা ৭২ লাখ। সরকারি আটটি খামারে উট-দুম্বাসহ কোরবানির প্রাণী রয়েছে আরও সাত হাজার। গত বছর কোরবানিতে জবাই হয়েছিল ১ কোটি ১৫ লাখ পশু। এর মধ্যে ছাগল-ভেড়া ছিল ৭১ লাখ। গরু ৪৪ লাখ।

দেশে গত বছরের চেয়ে গরুর উৎপাদন বেড়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার আর ছাগল-ভেড়ার উৎপাদন বেড়েছে এক লাখ। এর আগে ২০১৭ সালে কোরবানিতে জবাই হয়েছিল ১ কোটি চার লাখ ২২ হাজার পশু। ধারাবাহিকভাবে দেশে গরু-ছাগলের উৎপাদন বাড়ছে। ২০১৮ সালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় মাংস উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ বলে ঘোষণা দেয়।

জাতিসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার [এফএও] তথ্য অনুযায়ী, গবাদিপশু উৎপাদনে বিশ্বে দ্বাদশ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এককভাবে ছাগল উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ। ছাগলের দুধ উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয়।

২০১৪ সালে ভারত সরকার হঠাৎই এ দেশে গরু পাঠানো বন্ধ করে দেয়। এরপর গরু-মোটাতাজাকরণে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিল থেকে আড়াই শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হয় খামারিদের। ওই সুবিধা পেয়ে সারাদেশে অসংখ্য শিক্ষিত বেকার তরুণ গরুর খামার গড়ে তোলেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত খামারির সংখ্যা হচ্ছে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৪১৬ জন। সারাদেশে গরু-ছাগলের খামার গড়ে উঠেছে প্রায় দেড় লাখ। ফলে গরু-ছাগলের উৎপাদন বাড়ছে।

Source: The Daily Sun

Photo: Omar Faruque