গরমে প্রখর তাপ থেকে রক্ষা পেতে যা জানা জরুরি

Photo by Nikola Ancevski on Unsplash

আমাদের দেশে গ্রীষ্ম ঋতুই বেশি বিরাজ করে। বৈশাখ শুরু হতে না হতেই গরমের প্রকোপ বাড়তে থাকে। জৈষ্ঠ্যতে তা অতিরিক্ততে পৌঁছে  যায়। গরমে ডিহাইড্রেশন থেকে শুরু করে নানা কারণে রোগের সৃষ্টি হয়; এছাড়া অনেকেই কষ্টে ভোগেন।

এথেকে মুক্তি পেতে কিছু জিনিস জানতে হবে,সেগুলো হল

বেলা বাড়ার সাথে সাথে তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়তে থাকে।সূর্য বেলা বারোটার সময় একেবারে মাথায় গিয়ে পৌছায়।ফলে সরাসরি এই প্রখর তাপে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই বেলা ১২টা থেকে দুপুর ৩টে পর্যন্ত খুব দরকার না থাকলে কেউ বের হবেন না।

সূর্যের প্রখর তাপ এড়াতে ছাতা ছাড়া গতি নেই। ছাতাই তখন একমাত্র উপায় এই রোদ থেকে বাঁচতে। বাইরে বের হলে ছাতাকে অবশ্যই আপনার সঙ্গী করুন, এই রোদের হাত থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি মিলবে। এছাড়া আপনি ছোটো ক্যাপ বা টুপিও ব্যবহার করতে পারেন, যা আপনাকে গরম রোদের মধ্যেও টিকিয়ে রাখবে।

প্রতিটা সময়ে এক এক রকমভাবে আমাদের তালমিলিয়ে চলতে হয়। কোন সময়ে কি পড়ব সেটা অনেকটাই গুরুত্বপূর্ণ।এসময় সুতির জামা কাপড় ব্যবহার করুন। দেহকে আরাম প্রদান করবে। কারন সুতির কাপড় হালকা, মোটা জিন্স বা কাপড়ের চেয়ে এগুলো পড়লে ঘাম কম হবে দেহকে ঠান্ডা রাখবে। উজ্জ্বল রং এর চেয়ে হালকা রং ব্যবহার করুন, কারণ হালকা রং উজ্জ্বল রঙের থেকে তাপ কম শোষণ করে। ফলে দেহে গরমটা কম লাগবে।

গরমে প্রচণ্ড ঘাম হয়, ফলে দেহ থেকে প্রচুর পরিমাণে জল লবন বেরিয়ে যায়। ফলে প্রায় সময়ই জল তেষ্টা পেয়ে থাকে।এইসময় রোদ থেকে এসে তৎক্ষনাৎ জল খাবেন না, এতে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। ফলে গলা ব্যাথা সর্দির উপক্রম হতে পারে। এইসময় নুন চিনির জল খেতে পারলে খুব ভালো হয়, শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া জল লবনের ভারসাম্য রক্ষা করে। গরমে প্রচুর পানি পান করতে হবে যাতে কোনোমতেই শরীর ভারসাম্যহীনতায় না ভোগে। রাস্তার ধারে সরবত এড়িয়ে চলুন, এসময় ফলের জুস খেতে পারেন। এছাড়া বাচ্চাদের ক্ষেত্রে আর এস খাওয়ান।

গরমে প্রতিদিন গোসল অবশ্যই করতে হবে, তবে দেহ ঠান্ডা থাকবে। আর দেহকে ঠান্ডা রাখা এই সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া দেহ জীবানু মুক্ত থাকবে। বাইরে যখনই বেরোবেন একটা রুমাল রাখবেন, ওটা ভিজিয়ে নিয়ে মুখে দিতে পারবেন। চোখে মুখে একাধিক বার পানি দেবেন যাতে শরীর ঠান্ডা থাকে।

গরমে যতটা পারবেন বাইরের যেকোন খাবার এড়িয়ে চলুন। ভারী ফাস্টফুড জাতীয় খাবার একদম খাবেন না। গরমে হজম ক্ষমতা অনেকটাই কমে যায়।বিশেষ করে বয়স্কদের তো একদম খাওয়া যাবে না। গরমে খুব হালকা খাবার খান। শাক সবজি ফলমূল বেশি বেশি করে খান, এতে শরীরে এনার্জি বাড়বে।

বাইরে বেরোলে খোলামেলা জুতো ব্যাবহার করুন। এতে জুতা থাকাকালীনও বাতাস বইবে। ফলে পায়ে ঘাম না হয়ে ঠান্ডা থাকবে।

বালতি হোক বা বোতল সবসময় ঘরে পানি ভর্তি করে রাখতে হবে। যাতে তেষ্টা পাওয়ার সাথেই সাথেই পানি পান করতে পারেন। এছাড়া ঘরকে ঠান্ডা রাখে এই পানিভর্তি বালতি।

পুরোনো বা বাসি খাবার এড়িয়ে চলুন, যতটা সম্ভব না খাওয়াই ভালো। গরমে বেশিক্ষণ খাবার ঠিক থাকেনা, নষ্ট হয়ে যায়। তাই দেখে খাবার খেতে হবে, নইলে পেটের সমস্যা যেমন ডায়ারিয়া, বমি বা ডিহাইড্রেশন হয়ে যাবে।তাই ঠিকঠাক দেখে খাবার খান।

হিট স্ট্রোক থেকে সতর্ক থাকুন। প্রচন্ড গরমে মানুষের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা অনেকসময় হারিয়ে যায়, ফলে এই স্ট্রোক হবার সম্ভাবনা থাকে। মাথায় যন্ত্রণা, মাংস পেশি তে ব্যাথা, দ্রুত শ্বাস প্রশ্বাস, মাথা ঝিমঝিম করা,দুর্বল বোধ করা। এসব অনুভূতি জাগলে অবশ্যই ডাক্তার এর কাছে যান, তারপর প্রেশারটা চেক করে নিন।