গর্বের ৭ ডিসেম্বর, শেরপুর থেকেই শুরু বিজয় দিবসের প্রস্তুতি

Uncategorized Tamalika Basu ০৬-ডিসে.-২০১৯

শেরপুর: ১৯৭১ সালের ২৫ মে। শেরপুর আক্রমণ করে পাক হানাদার বাহিনী। এখনকার রামচন্দ্রকুড়া ফরেস্ট অফিস, হাতিপাগার তৎকালীন বিডিআর ক্যাম্প, তিনআনী বাজার, নাকুগাঁও স্থলবন্দরের ঢালু সীমান্তে কয়েকশো বাংলাদেশিকে হত্যার পর পাশের ভোগাই নদীতে ভাসিয়ে দেয়। শেরপুরের সীমান্তবর্তী এ পাহাড়ি জনপদের স্মৃতিতে আজও ভাস্বর হয়ে আছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দিনগুলো।

মুক্তিযুদ্ধে শেরপুর ছিল ১১ নম্বর সেক্টরের অধীনে। স্বাধীনতাযুদ্ধের দীর্ঘ ৯ মাসে বর্তমান শেরপুর জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ৩০ থেকে ৪০টি খণ্ডযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে। এসব যুদ্ধে পাক হানাদারদের নির্মমতার শিকার হয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলার সোহাগপুর গ্রামে ১৮৭ জন, শেরপুর সদর উপজেলার সূর্যদী গ্রামে এক মুক্তিযোদ্ধাসহ ৬৯ জন, ঝিনাইগাতী উপজেলার জগৎপুর গ্রামে ৬১ জন মুক্তিকামী মানুষ শহীদ হন।

১ ডিসেম্বর নালিতাবাড়ীকে শত্রুমুক্ত করতে প্রথম আক্রমণ চালায় মুক্তিযোদ্ধারা। কিন্তু সফল হতে পারেনি তারা। ওইদিন দুই যোদ্ধা শহীদ হন। রাজাকাররা দুই যোদ্ধার মরদেহ নিয়ে পৈশাচিক উল্লাসে মেতে ওঠে। তাদের পায়ে রশি বেঁধে টেনে নিয়ে শহরের অদূরে মাটি চাপা দেয়। ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মিত্রবাহিনীর একটি ও মুক্তিযোদ্ধাদের দুটি দলের সমন্বিত আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে হানাদাররা। টানা দুইদিন দুইরাত স্থায়ী ওই সম্মুখযুদ্ধে পরাস্ত হয়ে রাতের আঁধারে পালিয়ে যায় হানাদার-রাজাকাররা। জামালপুরের কামালপুর দুর্গ দখলমুক্ত হওয়ার প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাকবাহিনীর সব ক্যাম্প ধ্বংস হয়ে যায়। শেরপুরের আহম্মদনগরের পাক ক্যাম্প থেকেও পিছু হটতে থাকে পাক সেনারা।

অবশেষে পাক সেনারা ৬ ডিসেম্বর রাতের আধারে শেরপুর শহরের ওপর দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ি দিয়ে জামালপুর পিটিআই ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়। পরদিন ৭ ডিসেম্বর মুক্ত হয় শেরপুর।

এদিন মিত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জগজিৎ সিং অরোরা শেরপুর শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্ক মাঠে এক সংবর্ধনা সভায় শেরপুরকে মুক্ত বলে ঘোষণা দেন। এ সময় মুক্ত শেরপুরে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

এসময় ‘জয়বাংলা’ স্লোগানে উপস্থিত জনতা চারদিক মুখরিত করে তোলে। ৭ ডিসেম্বর সকালে নালিতাবাড়ীর আকাশে বাতাসে ধ্বনিত হয় জয়বাংলা স্লোগান। জগজিৎ সিং অরোরা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আগামী ৭ দিনের মধ্যে ঢাকা মুক্ত করার আশা ব্যক্ত করেছিলেন। তাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এ দিনটি শেরপুর জেলার আপামর জনসাধারণের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যময়, গৌরবোজ্জ্বল ও অবিস্মরণীয় দিন।