গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস? কী খাবেন, কীভাবে চলবেন?

diabetes
ID 146843742 © Antikainen | Dreamstime.com

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস একটা চিন্তার কারণ, ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। এমনিতে একজন প্রেগন্যান্ট মায়ের অনেক যত্নের প্রয়োজন হয়, সেখানে ডায়াবেটিস আরো চিন্তা বাড়িয়ে তোলে। বিশেষ যত্নের দরকার হয়। নিয়ম মেনে চলতে হয়। তাহলে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব হয়।
মহিলারা সাধারণত দুইভাবে ডায়াবেটিসে ভোগেন। এক. গর্ভ সঞ্চারের আগে থেকেই ডায়াবেটিস, দুই. গর্ভকালীন সময়ে ডায়াবেটিস।
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস সাধারণত সন্তান জন্মদানের পর সেরে যায়। এদের পরবর্তীতে, মায়ের টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকগুণ বেড়ে যায়।
গর্ভকালীন সময়ে মায়ের রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী থাকলে তা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস। গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি এবং এর ভয়ঙ্কর সব জটিলতা সম্পর্কে আমরা অনেকেই অবগত নই।
গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীর অনেক বেশি কাজ করে। তবে সাধারণত প্রথম ৬ মাসে বাড়তি ক্যালোরির প্রয়োজন হয় না। সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে যখনই ক্ষুধাবোধ হবে তখনই খাবেন।

কী ভাবে চলবেন এই নয় মাস?

আপনি যদি সেই শ্রেণীর মহিলাদের আওতায় পড়েন যারা গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে থাকতে অথবা নাও থাকতে পারেন, সেক্ষেত্রেও আপনি গর্ভাবস্থার ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে পারেন। এটা সম্ভব আপনার ডায়েটের পরিবর্তনের মাধ্যমে এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে। নীচে এ ব্যাপারে কয়েকটি পদক্ষেপের কথা আলোচনা করা হলঃ

আপনার দৈনিক খাদ্য তালিকায় খাদ্য তন্তু যোগ করুনঃ এটা আপনি করতে পারেন আপনার খাদ্য তালিকায় প্রচুর পরিমাণে হোল গ্রেইন বা সম্পূর্ণ শস্য,তাজা শাকসবজি এবং ফল যোগ করে।প্রতিদিনের খাবারে ১০ গ্রাম করে তন্তুর পরিমাণ বৃদ্ধি করলে সেটি গর্ভাবস্থার ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ২৬% হ্রাস করে।
অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুনঃ মিষ্টি জাতীয় খাবার বর্জন করুন এবং সেই সব খাবারের পরিমাণ কমান যেগুলি শর্করা পূর্ণ বা যেগুলিতে শর্করার প্রাচুর্য আছে।খাবারের চাহিদা মেটাতে অস্বাস্থ্যকর খাদ্য থেকে দূরে থাকুন।

বারে বারে খানঃ খাবার খাওয়ার সংখ্যা বড়ান,অল্প করে কিন্ত বারে বারে খান। একবারে অনেকটা খাবার খাওয়ার চেয়ে বারে বারে অল্প অল্প করে খান সেটা অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর ব্যাপার।
বুদ্ধিমত্তার সাথে পছন্দ করুনঃ নানা ধরনের খাবার খান যার ফলে আপনার দৈনিক খাদ্যে সব ধরনের পুষ্টির চাহিদা খুব সহজেই পূরণ হয়ে যায়।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুনঃ রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখার জন্য গর্ভধারণের আগে ও পরে দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরী।

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস হলে করণীয় যা

গর্ভাবস্থায় মায়েদের প্রচুর যত্নের প্রয়োজন। এ সময় একটু অসাবধনতার কারণে ঘটে যেতে পারে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।
মায়ের বিশেষ যত্ন না নিলে সময়ের আগে শিশু জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ ছাড়া মা ভুগতে পারেন গ্যাস্টেস্টোনাল ডায়াবেটিসে।

কেন সময়ের আগে শিশু ভূমিষ্ঠ হয়?
গর্ভাবস্থায় প্যানক্রিয়াজ বেশি করে ইনসুলিন তৈরি করতে শুরু করে। কিন্তু সেই ইনসুলিন সুগারের মাত্রা কমাতে পারে না। বাড়তি ইনসুলিন গর্ভস্থ শিশুর শরীরে জমা হতে থাকে মেদের আকারে। এতে শিশুর ওজন বেড়ে যায়। তাই সময়ের আগেই ভূমিষ্ঠ হয় শিশু।
গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত চিনি না খেলেও মায়ের সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়। আর প্যানক্রিয়াজে অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরি হওয়ায় ওজনও বেড়ে যায় মা ও গর্ভস্থ শিশুর। গর্ভাবস্থায় নারীদের শরীরে ব্লাড সুগারের মাত্রার তারতম্য ঘটে। অনেকেরই এই সময় সুগার বেড়ে যায়। তার থেকে বাড়ে ওজন। সম্ভাবনা তৈরি হয় গ্যাস্টেস্টনাল ডায়াবেটিসের। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা না হলে গর্ভস্থ সন্তান এ রোগে ভুগতে পারে।

আসুন জেনে নেই কী করবেন-
১. পুষ্টি বিশেষজ্ঞকে দিয়ে খাদ্যতালিকা তৈরি করে সে অনুযায়ী খাবার খান। যেসব খাবার খেলে সুগার বেড়ে যাবে তা তালিকা থেকে বাদ দিন।
২. কিছু শাকসবজি আছে, যা খেলে ইনসুলিন বাড়ে সেগুলো বেশি করে খান।
৩. মিষ্টি খাবার বা পানীয় খাবেন না।
৪. নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
৫. চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নিয়মিত ইনসুলিন নিন।
৬. কার্বোহাইড্রেট বা চিনিযুক্ত খাবার খাবেন না।