গুজব যখন ছড়িয়ে পড়ে

Photo <a href="https://www.dreamstime.com/fire-sparks-air-near-forge-black-image126707696">126707696</a> © <a href="https://www.dreamstime.com/axivan_info" itemprop="author">Ivan Aleksandrov</a> - <a href="https://www.dreamstime.com/photos-images/fire.html">Dreamstime.com</a>

অন্ধকার চার দেয়ালয়ের মধ্যে আবদ্ধ এক ব্যক্তি। তিনি বসে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন, মাথা নিচু করলেন এবং তাঁর রবের কাছে প্রার্থনা করলেন। কিভাবে তিনি এখানে এলেন?

অন্য সময়, অন্য জায়গায়, একজন মহিলা কাঁদছিলেন। তিনি কোথাও অর্থবহ সমর্থন খুঁজে পেলেন না। তিনি এতক্ষণ কেঁদেছিলেন যে, তিনি অনুভব করছিলেন তার অন্তর মনে হয় বিস্ফোরিত হতে চলেছে। কেন তিনি এই অবস্থার সম্মুখীন হলেন?

গুজবের হাতে অত্যাচারিত ইউসুফ (আঃ)

তারা দুজনই দূষিত গুজবের শিকার হয়েছিলেন। এমন গুজব যা তাদের নৈতিকতা ও চরিত্রকে আঘাত করে। উপরে উল্লেখিত ১ম ব্যক্তি হলেন ইউসুফ (আঃ)। তাঁকে ঘিরে এই ভুল ধারণাটি বছরের পর বছর ধরে চলেছিল। 

ইউসুফ (আঃ) ছিলেন নির্দোষ। তবে বছরের পর বছর তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন। তাঁর ক্ষেত্রে গুজব ছড়িয়েছিল: “মন্ত্রীর স্ত্রী তাঁর প্রেমে পড়েছে।” কেউ ন্যায়সঙ্গত কারণে হতাশ হতে পারে — আল্লাহর নবী ইউসুফ (আঃ) মিথ্যাচারের জন্য বছরের পর বছর জেলখানায় কাটিয়েছেন! এটি তাঁর সাথে ঘটে যাওয়া একটি মারাত্মক অন্যায় ছিল।

তবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা মহান। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা। তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। তিনি ঈমানদারদের বন্ধু। তিনিই সর্বাধিক ন্যায়বিচারকারী।

এই কারাগারটি হযরত ইউসুফ (আঃ) কে প্রশান্তি দান করার মূল চাবিকাঠি ছিল। তিনি যদি কারাগারে না থাকতেন, গুজব হয়তো অবিরত ভাবে চলতেই থাকত। কয়েক বছর পরে, তিনি যখন রাজার স্বপ্নের ব্যখ্যা করলেন এবং রাজা তাঁকে কারাগার থেকে মুক্তি দিতে চাইলেন তখন তিনি কারাগার ছেড়ে যেতে অস্বীকার করলেন যতক্ষণ না পরিষ্কার হয়ে যায় যে তাঁর সম্পর্কে যা বলা হয়েছিল তা মিথ্যা ছিল। মন্ত্রীর স্ত্রী একথা স্বীকার করলেন যে, সে-ই ইউসফ (আঃ) কে প্রলোভনের চেষ্টা করেছিল। এবং এর মাধ্যমে তিনি এই অপবাদ থেকে রক্ষা পেলেন।

নিপীড়িত আয়েশা (রাযিঃ)

এবং উপরোল্লোখিত ২য় জন হলেন নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের পুণ্যবতী স্ত্রী আয়েশা (রাযিঃ)। তাঁকে ঘিরে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কিছু জঘন্য কথা আলোচনা হয়েছিল।

একজন মুনাফিকের দ্বারা শুরু হওয়া একটি নোংরা গুজব, মদিনা ও তার চারপাশে আয়েশা (রাযিঃ) এবং তার এক ধার্মিক পথপ্রদর্শক সম্পর্কে প্রচারিত হয়েছিল। প্রত্যেকের কানেই এই মিথ্যা অপবাদের ঘটনা পৌঁছেছিল। কেউ তো নিজেকে সংযম করে চুপ ছিল। আবার কেউ এই আলোচনায় লিপ্ত হয়েছিল।

এই সময়কালে আয়েশা(রাযিঃ) অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। পুরো এক মাস ধরে তাঁর সম্পর্কে কি বলা হচ্ছে তা তাঁর কোনো ধারণাও ছিল না। তিনি যখন সুস্থ এবং অবশেষে এই অপবাদ শুনলেন, তখন তিনি পুরো তিন দিন কেঁদেছিলেন। তখনকার ঐ অসুস্থতা তাঁর জন্য আশীর্বাদ ছিল। কারণ এটি তাকে কিছু সময়ের জন্য এই গুজব শোনা থেকে রক্ষা করেছিল। এবং এখানে যা ঘটেছিল তা ছিল সকল মুসলমানের জন্য একটি শিক্ষা। এবং তিনিও এই অপবাদ থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন পবিত্র কুরআনে কেবল তাঁর জন্য অবতীর্ণ আয়াত দ্বারা। তিনি আসলেই নির্দোষ ছিলেন এবং ওহী অবতরণের পরে সকলে সেটি অবগত হলেন।

কী শিক্ষা পেলাম আমরা?

এই দুটি ঘটনা থেকে আমরা শিক্ষা পাই- মানুষ আপনাকে নিয়ে অনেক কিছু বলতে পারে। সেগুলি স্থূল অনুমান বা সরাসরি মিথ্যা হতে পারে। তবে আপনার উচিত এই সময় ভেঙে না পড়ে আল্লাহর উপর ভরসা করে ধৈর্য্যধারণ করা। আল্লাহ অবশ্যই সৎকর্মশীলদের সাথে থাকেন। আপনি ইউসুফ(আঃ) ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী আয়েশা(রাযিঃ) এর ঘটনা থেকে শিক্ষাগ্রহণ করুন।

যারা আপনার নিন্দা করে তারা আপনার ক্ষতি করার চেষ্টা করতে পারে। তবে আপনি কখনও তাদের ক্ষতি করার কথা মাথায় আনবেন না। কারণ এটাই মুমিনের সিফাত। তারা যতই চেষ্টা করুক আল্লাহ তা’আলার নজর থেকে তো আপনাকে নামাতে পারবে না। আল্লাহ তা’আলা আপনার জন্য অবশ্যই মঙ্গলয়ের ফয়সালা করবেন। তাই আপনি হতাশায় পর্যবসিত না হয়ে স্থির থাকুন। আপনি যে বেদনার মুহূর্তে রয়েছেন তা কোনো না কোনো সময় অবশ্যই কেটে যাবে। শুধু বাকি থেকে আবে যারা আপনার সম্পর্কে না জেনে কথা বলেছে তাদের গুনাহগুলি। আর আপনি এটি সর্বদা মনে রাখবেন যে, প্রতিটি কষ্টের পরে নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা আপনাকে স্বাচ্ছন্দ্যতা দান করবেন। এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র আপনাকে একটু স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য আর আপনার অন্তরে স্বস্তি আনার জন্য।

আল্লাহ তা’আলা আমাদের অন্তরে স্বস্তিবোধ দান করেন, আমাদের উপর থেকে সকল বিপদকে দূর করে দেন। আর যারা না জেনে অপরের দোষচর্চা করে আল্লাহ তাদেরকে হেদায়াত দান করেন। আমীন।