গুনাহের চক্র ভঙ্গ করবেন কী উপায়

Prayer
ID 92078799 © Kitti Kahotong | Dreamstime.com

“আমি আমার জীবদ্দশায় নিজেকে অনেকবার হতাশ করেছি। সোনার সন্ধানে গিয়ে, অর্ধেক পথ পৌঁছে, তারপর এমনভাবে ছেড়ে দিয়েছি যেন এটি কিছুই নয়… যেন এটির কোনো মূল্যই নেই। প্রতিবার আমি যখন এমনটি করি, তখন আমি আয়নায় আমার করুণ প্রতিচ্ছবির দিকে তাকিয়ে নিজেকে জিজ্ঞাসা করি, “আমার সমস্যাটা কী? কোন জিনিস আমাকে বুঝতে বাধা দিচ্ছে? আমি কেন আমার সামনে জাহান্নামের আগুন দেখতে পাই না? যেসব বিষয় আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে সেগুলি থেকে আমি কোন অজুহাতে বিরত থাকি?”

আমাদের দ্বারা কেন গুনাহ হয় তা বোঝার জন্য আমরা যদি সময় ব্যয় না করি, তবে আমরা কখনই এগুলি প্রতিরোধ করতে সক্ষম হব না। ভুলের অনেক ধরন রয়েছে, তবে এগুলির মধ্যে পার্থক্য অনেক বেশি।

প্রথম প্রকারের ভুল হচ্ছে যেগুলি অজ্ঞতার কারণে হয়। এই ভুলগুলিতে আমরা স্রষ্টাকে অমান্য করার বিপদগুলি উপলব্ধি করতে পারি না। এক্ষেত্রে, আমাদের আগে যারা দুনিয়াতে এসেছেন তাদের কাছ থেকে আমাদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তারা বলেছেন, “তুমি যে গুনাহ করেছ তার ক্ষুদ্রত্বের দিকে কখনও তাকিও না, বরং তুমি যে জিনিসের বিরুদ্ধে গুনাহ করেছ তার মাত্রা অনুধাবন কর।”

পরবর্তী প্রকারের গুনাহ হচ্ছে যেগুলি কেবল নিজের খাহেশাত পুরণ করার জন্য করা হয়। এক্ষেত্রে আমাদের জানা থাকে যে আমরা যে কাজটি করছি তা ভুল এবং আমরা এটাও জানি যে আমরা সর্বশক্তিমান আল্লাহর বিরুদ্ধে গুনাহ করছি; তবুও আমাদের নিজস্ব আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করার জন্য আমরা এগুলি করে ফেলি। এই বিষয়গুলিতেই আমাদের আত্ম-নিয়ন্ত্রণ ও আত্ম-সংযম অর্জন করা প্রয়োজন যে সম্পর্কে আল্লাহ কুরআনে বলেছেন,

আপনি কি তার প্রতি লক্ষ্য করেছেন, যে তার খেয়াল-খুশীকে স্বীয় উপাস্য স্থির করেছে? আল্লাহ জেনে শুনে তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তার কান ও অন্তরে মোহর এঁটে দিয়েছেন এবং তার চোখের উপর রেখেছেন পর্দা। অতএব, আল্লাহর পর কে তাকে পথ প্রদর্শন করবে? এরপরও কি তোমরা চিন্তাভাবনা করবে না? (আল কুরআন-৪৫:২৩)

আরেক প্রকারের ভুল হল যা সময় ভিত্তিক ভুল হিসেবে পরিচিত। এটি এমন একটি গুনাহ যা সরাসরি কোনো সময় বা স্থানের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে করা হয়। এই ভুলগুলি প্রতিরোধ করা সবচেয়ে সহজ যদি আমরা নির্দিষ্ট সময় ভিত্তিক কাজ করতে সক্ষম হই। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো নির্দিষ্ট বন্ধুর সাথে মেশার ফলে সর্বদা আপনার দ্বারা কোনো গুনাহ হয়ে যায়, তবে সেই গুনাহ রোধ করার সর্বোত্তম উপায় হল সেই বন্ধুর সাথে মেশা বন্ধ করে দেওয়া। এই সময় ভিত্তিক ভুলগুলির মত আরও একটি প্রকার রয়েছে যাকে সঙ্গীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ভুল করা বলা যায়। আমাদের বন্ধুরা আমাদেরকে প্রচন্ডভাবে প্রভাবিত করে এবং যারা গুনাহ করে তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমাদের গুনাহ করার সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায়।

এই সমস্ত গুনাহের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ প্রকার হল যেই গুনাহগুলি প্রকাশ্যে করা হয়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমার সমগ্র উম্মাহ্ নিরাপদ, কেবল তারা ব্যতীত যারা তাদের গুনাহ নিয়ে দম্ভ করে বেড়ায়। তাদের কেউ যখন কোন কুকর্ম করে রাতে ঘুমাতে যায় এবং আল্লাহ্ তার গুনাহ গোপন রাখেন, সকালে ঘুম থেকে উঠার পর সে বলতে থাকে, “এই শোন, আমি না কাল রাতে এই এই (কুকর্ম) করেছি”। সে যখন ঘুমাতে যাই, আল্লাহ্ তার পাপ গোপন রাখেন, আর সকালে ঘুম থেকে উঠেই আল্লাহ্ যা গোপন রেখেছিলেন তা সে লোকজনের কাছে প্রকাশ করে বেড়ায়”।

গুনাহের প্রকারগুলি যখন জানা গেল এখন আসুন কিভাবে আমরা গুনাহ থেকে মুক্ত হতে পারি সে সম্পর্কে কিছুটা আলোকপাত করা যাক। গুনাহ থেকে বিরত থাকার জন্য আমি অনেককেই বিভিন্ন পরামর্শ দিতে শুনেছি। এখানে তার মধ্য থেকে সেরা ৬টি উল্লেখ করা হলঃ 

নিজের ভুল স্বীকার করা;

আল্লাহর নিকট তওবা করা;

অজুহাত না খোঁজা;

পরিবর্তন হওয়া সম্পর্কে গুরুতর হওয়া;

সর্বদা গুনাহের ফলাফল নিয়ে চিন্তা করা;

এবং মোমবাতি না হওয়া; যেটি অন্যকে তো আলো দেয়, কিন্তু নিজে জ্বলে যায়।

সর্বশেষে একটি কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আল্লাহ বলেছেন, 

“লোকেরা কি মনে করে যে ‘আমরা ঈমান এনেছি’ বললেই তাদেরকে অব্যাহতি দিয়ে দেয়া হবে, আর তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না?” (আল কুরআন-২৯:২)

সুতরাং, পরীক্ষা আসবেই তবে সফল সেই হবে যে আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করবে।

আল্লাহ আমাদের গুনাহগুলিকে ক্ষমা করে দিন। আমীন