গোটা দুনিয়া অবরুদ্ধ থাকলেও বাতাসে কার্বন স্তরের হ্রাস নেই

corina-rainer-BWG_IVWozPo-unsplash
Fotoğraf: Corina Rainer-Unsplash

পরিবেশবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে কার্বন স্তরের বৃদ্ধি । কার্বনডাইঅক্সাইড স্তরের বৃদ্ধির কারণে পৃথিবীর উষ্ণতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। কার্বন চক্রে গাছপালা সায়ানোব্যাকটেরিয়া সৌরশক্তি দ্বারা সালোকসংশ্লেষ মাধ্যমে কার্বনডাইঅক্সাইড উৎপন্ন করে।কার্বনডাইঅক্সাইড হাইড্রোকার্বন জাতীয় জ্বালানির দ্বহনের ফলেও উৎপন্ন হয়। সমস্ত জীবের শ্বসন দ্বারাও কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয়। কার্বন ডাইঅক্সাইডের ভূমিকা পরিবেশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গ্রিন হাউস গ্যাস হিসাবে পরিবেশের বিকীর্ণ তাপ শোষণ করে। মানবজীবনে এই গ্যাসের গুরুত্ব অপরিসীম। স্ক্রিপসের বিজ্ঞানীদের মতে, যদি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ নির্গমন হ্রাস ৬ থেকে ১২ মাস অব্যাহত থাকে, তবে মওনা লোয়ায় (যুক্তরাষ্ট্রের অবজারভেটরির) পরিমাপ করা কার্বন ডাইঅক্সাইড বৃদ্ধির হার কমবে।

মে মাসে কার্বনডাইঅক্সাইডের স্তর ছিল ৪১৭পিপিএম এবং ২০১৯ সালে ছিল ৪১৪পিপিএম যা থেকে বোঝা যায় ২.৪ শতাংশ বেড়েছে। আপনারা জানলে অবাক হবেন যে করোনার কারণ গোটা দুনিয়া অবরুদ্ধ থাকলেও কার্বন স্তরের হ্রাস এমন কিছুই হয়নি। এই স্তরের বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি ময়লার স্তরের মতো। কার্বন নতুন করে সৃষ্টি না হলেও পরিবেশে বাড়বে। স্ক্রিপসের বিজ্ঞানীরা বলেছেন যে , যদি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ নির্গমন হ্রাস ছয় থেকে ১২ মাস অব্যাহত থাকে, তবে মওনা লোয়ায় পরিমাপ করা কার্বন ডাইঅক্সাইড বৃদ্ধির হার কমবে।

এপ্রিলের গোড়ার দিকে ১৭ শতাংশ কমলেও লকডাউন শীথিল হওয়ায় বছরের শেষে চার থেকে সাত শতাংশ কমার সম্ভাবনা। কুড়ি থেকে ত্রিশ শতাংশ কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ যদি ছয় থেকে বারো মাস কমতে থাকে তাহলে মাওনা লোয়ার করা কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ কমবে।

সর্বশেষ তথ্য হিসেবে  জানা গেছে যে  ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সান দিয়েগো ও ইউএস ন্যাশনাল ওসেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন, যে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের স্তরটি ২০১৪ সালে প্রথম ৪০০ পিপিএমের ওপরে উঠেছিল। কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ প্রতি বছর বেড়েই চলেছে।

পরিবেশবাদীরা বলেছেন যে, লকডাউন এ কার্বন ডাই অক্সাইড ততটা পরিমানে কমেনি। সেরকম কোনো পরিবর্তন নেই, অল্প হ্রাস পাওয়া ছাড়া। এছাড়াও নির্গমনের ক্রমাগত বৃদ্ধি দেখিয়েছে যে, কোভিড -১৯ সংকট থেকে জন্য উত্তরণে ‘সবুজ পুনরুদ্ধার’ খুবই  প্রয়োজন।

স্বাভাবিক পরিবেশের জন্য কার্বনডাইঅক্সাইডের গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু বাতাসে তা মাত্র ০.০৪% প্রয়োজন, এর মাত্রা বৃদ্ধি পেলে প্রকৃতি ভীষণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। ক্রমাগত এই ধরণের গ্রীন হাউস গ্যাস গুলির বৃদ্ধিতে বিশ্ব উষ্ণায়ণের মতো সমস্যা আগ্রাসী রূপ নিচ্ছে। এর ফল যে কতটা ভয়ানক তা আমরা প্রত্যক্ষ করতে শুরু করেছি। এর থেকে মুক্তি পেতে সরকারী পদক্ষেপের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।