SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

গ্লুকোমা প্রতিরোধ করার অন্যতম উপায় গাজর

স্বাস্থ্যকর খাদ্য ০৮ ফেব্রু. ২০২১
জানা-অজানা
গ্লুকোমা প্রতিরোধ
© Palina Charnova | Dreamstime.com

গ্লুকোমা একধরনের চোখের অসুখ। পৃথিবীতে অন্ধত্বের কারণগুলির নিরীখে গ্লুকোমার স্থান দ্বিতীয়। বয়সের সঙ্গে-সঙ্গে গ্লুকোমার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। এই রোগে দৃষ্টিশক্তি ধীরে-ধীরে হ্রাস পেতে শুরু করে। গ্লুকোমা খুব খারাপ পর্যায়ে গেলে দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ হারিয়ে অন্ধ হয়ে যেতে পারে। গ্লুকোমা একবার হলে একে সারিয়ে তোলার উপায় নেই। তবে কিছু বিষয় খেয়াল রাখলে এবং নিয়ম মেনে চললে আপনি গ্লুকোমা প্রতিরোধ করতে পারবেন। আজ আমরা গ্লুকোমা প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আলোচনা করব।

গ্লুকোমা কী?

গ্লুকোমা সরাসরি প্রভাব ফেলে চোখের স্নায়ুতন্ত্রের উপর। বয়স বাড়ার সঙ্গে-সঙ্গে চোখের প্রেশার বাড়তে শুরু করে, যার ফলে অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এইকারণে ৬০ বছর বয়সের পরে বেশিরভাগ মানুষই চোখে কম দেখতে শুরু করেন। চোখের এই প্রেশার কিন্তু নানাকারণে বাড়তে পারে। চোখের আভ্যন্তরীণ ফ্লুইডের উৎপাদন আচমকা বেড়ে যাওয়া এর অন্যতম কারণ। গ্লুকোমার সেই অর্থে কোনও উপসর্গ আগে থেকে বোঝা যায় না। এবং গ্লুকোমার ফলে একবার দৃষ্টিশক্তি হারাতে শুরু করলে তা ফিরে পাওয়ার কোনও উপায় থাকে না। ফলে গ্লুকোমা এড়াতে ডাক্তাররা নিয়ম করে চোখ পরীক্ষার পরামর্শ দেন। এছাড়া বাড়িতে কারওর গ্লুকোমার ইতিহাস থেকে থাকলে বেশি করে সতর্ক থাকা দরকার। প্রাকৃতিক কিছু প্রতিকার এবং নিয়ম করে বিষয় মেনে চললে আপনি গ্লুকোমাকে প্রতিরোধ করতে পারবেন।

ডায়েটে রাখুন ফল ও সবজি

গ্লুকোমা এড়াতে ফল-সবজি যুক্ত পুষ্টিকর ডায়েট অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করে। যে-সমস্ত ফলে বা সবজিতে ভিটামিন এ, সি এবং ক্যারোটিনয়েডস থাকে, সেগুলি বেশি করে খান। সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, এগুলি গ্লুকোমা প্রতিরোধের সহায়ক। আপনার ডায়েটে নিয়ম করে পালংশাক রাখতে পারেন, এছাড়া পিচফল, বিট, সবুজ বিনস, মূলো ইত্যাদি রাখুন। এগুলো দিয়ে পুষ্টিকর স্যালাড বানিয়ে নিতে পারেন। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট অপটিক নার্ভকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে। ফলে ব্ল্যাক বা গ্রিন টি, ডালিম, ফ্ল্যাক্স সিড ইত্যাদি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যুক্ত খাবার খেলে গ্লুকোমা প্রতিরোধ করতে পারবেন।

যেমন খেতে পারেন গাজর। গাজরে ভিটামিন এ ছাড়াও থাকে ক্যারোটিনয়েডস, যা চোখ ভাল রাখতে কার্যকরী। স্কোয়াশ, গাজর, টমেটো, মিষ্টি আলু, খোবানি, কুমড়া ইত্যাদি রঙিন সবজি ও ফল আপনার শরীরে প্রয়োজনীয় ক্যারোটিনয়েডসের যোগান দিতে সাহায্য করবে।

এছাড়া ডায়েটে রাখুন বেরিজাতীয় ফল। বিশেষ করে ক্র্যানবেরি, ব্লুবেরি, চেরি। এতে থাকা অ্যান্থোসায়ানিন যৌগ ফ্ল্যাভোনয়েডের সঙ্গে-সঙ্গে চোখকে ভাল রাখে। বিভিন্ন বেরি দিয়ে স্মুদি বানিয়ে খেতে পারেন।

গ্লুকোমা এড়াতে টাটকা মাছ খান

টাটকা মাছ, বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ গ্লুকোমাকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম। এইসমস্ত সামুদ্রিক মাছে থাকে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সহ প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড। এগুলি চোখের বাড়তি ফ্লুইডকে বের করে দিতে সাহায্য করে। এছাড়া এইসমস্ত মাছে থাকা অ্যাস্টাজ্যানথিন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট চোখের কোষের মৃত্যু রোধ করে। ডায়াবেটিস থাকলে গ্লুকোমা চোখের আরও বেশি ক্ষতি করে। অ্যাস্টাজ্যানথিন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও কাজে দেয়।

নিয়ম করে ব্যায়াম করুন

সুস্থ থাকতে তো বটেই, গ্লুকোমা প্রতিরোধেও ব্যায়াম খুব কাজে দেয়। নিয়ম করে ব্যায়াম করলে তা চোখের প্রেশারকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। কারণ ব্যায়াম চোখ সহ আমাদের শরীরে সার্বিকভাবে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে। এর জন্য জিমে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সকালে উঠে নিয়ম করে কিছু ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করুন। তবে খুব বেশি ব্যায়াম করলে তা কিন্তু আবার চোখের প্রেশারকে বাড়িয়ে দেয়। যাদের গ্লুকোমা ইতোমধ্যেই রয়েছে, তাঁরা কিছু হালকা ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন, তা যেন কখনওই বেশি হয়ে না যায়।

মেডিটেশন করুন

স্ট্রেস, দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ কিন্তু চোখের প্রেশারকে অনেকটা বাড়িয়ে দেয়, ফলে গ্লুকোমার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সকাল-বিকেল নিয়ম করে মেডিটেশনের অভ্যেস আমাদের স্ট্রেস কমিয়ে মনকে চাপমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। ফলে গ্লুকোমা এড়াতে মেডিটেশন অভ্যেস করুন। এছাড়া কাজে ফোকাস করতে বা অশান্ত মনকে শান্ত করতেও মেডিটেশনের জুড়ি নেই।

এড়িয়ে চলুন

নিয়ম করে পুষ্টিকর খাবার খেলে বা ব্যায়াম করলে গ্লুকোমাকে অনেকটাই প্রতিরোধ করা যায়। তবে সেইসঙ্গে এড়িয়ে চলতে হবে বেশ কিছু জিনিস।

১. গ্লুকোমা থাকলে কফি খাওয়ার অভ্যেস বন্ধ করা দরকার। কফিতে থাকা ক্যাফেইন চোখে বাড়তি রক্ত সঞ্চালন ঘটায়, যা চোখের প্রেশার বাড়িয়ে তোলে। ফলে গ্লুকোমা থাকলে কফি খাওয়া চোখের ক্ষতি করে।

২. চিনি বা মিষ্টি খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করুন। মিষ্টি ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। ডায়াবেটিস থাকলে তা চোখের স্নায়ুকে বেশি করে ক্ষতি করে।

৩. ট্রান্স ফ্যাটি অ্যাসিড ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবার একেবারে এড়িয়ে চলুন। ভাজাভুজি, ফাস্টফুডে থাকা এইসমস্ত ট্রান্স ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়। এগুলি খেলে শরীরে রক্তচাপের সম্ভাবনা বাড়ে, যা চোখের প্রেশার বাড়ায়। এর ফলে অপটিক নার্ভের ক্ষতি হয়।

কোনটা ক্ষতিকর 

৪. মেদ ঝরিয়ে ঝরঝরে থাকতে হবে ঠিকই, কিন্তু খেয়াল রাখবেন আপনার বডি মাস ইনডেক্স বা বিএমআই যেন অত্যধিক কম বা বেশি না হয়।

৫. ধূমপান গ্লুকোমার পক্ষে খুবই ক্ষতিকর। তাই গ্লুকোমা এড়াতে ধূমপানের অভ্যেস আজই বর্জন করুন।

৬. দাঁতকে সুস্থ রাখা কিন্তু গ্লুকোমা আটকাতে অত্যন্ত জরুরি। দাঁতের সঙ্গে চোখের সম্পর্কের কথা শুনে আপনারা নিশ্চয়ই অবাক হচ্ছেন। আধুনিক গবেষণা বলছে, মাঝে-মাঝেই যাদের মাড়িতে ইনফেকশন হয়, তাঁদের গ্লুকোমার বিপদ অনেকটা বেড়ে যায়। তাই দাঁতে বা মাড়িতে ব্যথা, ইনফেকশন হলে তৎক্ষণাৎ দাঁতের ডাক্তার দেখান।

এছাড়া পরিবারে কারওর গ্লুকোমা থাকলে আপনার গ্লুকোমা হওয়ার সম্ভাবনা বাকিদের চেয়ে অনেকটাই বেড়ে যাবে। ফলে বয়স ৩০-এর কোঠা পেরলেই নিয়ম করে চোখের চেকআপ করাতে ভুলবেন না।