ঘরেই তৈরি করুন জামায়াতের পরিবেশ

Bersabar menjelang Ramadan dan Sh© Szefei | Dreamstime.com

এ বছর আমাদের সবকিছুই কেমন যেন এলোমেলো । মসজিদ বন্ধ , জামায়াত বন্ধ । প্রতিবার রমজানে বাচ্চাদেরকে সাথে নিয়ে জামায়াত আদায় করার যে আনন্দ সেটা এ বছর আর হচ্ছে না। তাদেরকে ইসলাম এর ভ্রাতৃত্ব দেখানো বা শেখানোর রাস্তাটাও বন্ধ । তাহলে কি করা যায় ? আমরা ঘরেই বানিয়ে ফেলতে পারি মসজিদ এর আবেশ । বাচ্চাদের সাথে নিয়ে প্রতিদিন জামায়াত এ নামাজ আদায় এর অভ্যাস করতে পারি । হ্যাঁ এটা ছোট বাচ্চাদের জন্য কিছুটা কষ্টকর কিন্তু একটি সঠিক রুটিন করা গেলে তারাও অভ্যস্ত হয়ে যাবে। তাদেরকে দিয়ে আমরা জায়নামাজ বিছানো , গুছানো এসব কাজে লাগাতে পারি । এতে করে তারা আমাদের সাথে জামায়েতের নামাজ এর প্রতি আগ্রহ পাবে । আমরা তাদেরকে আজান শেখাতে পারি সেই সাথে ছোট কিছু দু’আ। ছোটবেলা থেকে প্রতি রমজানে মসজিদে ইফতারি করতাম সকলে। আমাদের এলাকার সমবয়সীরা জিলাপি নিয়ে কাড়াকাড়ি করতাম। যদি নিজের প্লেটের জিলাপিটা বড় হতো, তাহলে হাত দিয়ে ঢেকে রাখতাম। যেন কেউ নিতে না পারে।

এখন আমরা একবিংশ শতাব্দীতে বাস করি । যেখানে বাজার , স্বাস্থ্য সেবা , পড়াশুনা , হালাক্কা সহ অনেক কিছুই আমরা অনলাইনে করি তাহলে ইফতার কেন নয় ? আমাদের বাচ্চারা দীর্ঘ দিন ঘরে বসে আছে । এই রমজানে তারা কোথাও যেতে পারছে না এবং কাউকে তাদের বাসায় আমন্ত্রণ ও জানাতে পারছে না । প্রযুক্তির এই অবদান এবার তাহলে আমরা রমজানের ইফাতার এ কাজে লাগাই । আমরা আমাদের পরিবার , বন্ধু , আত্মিয়-স্বজন , বাচ্চাদের বন্ধু , প্রতিবেশী এদের সবাইকে নিয়ে একটা ই-ইফতার এর আয়োজন করি । অনলাইনে আমরা বাচ্চাদের কে তাদের বন্ধুদের সাথে ইফতার এ বসিয়ে দিতে পারি । সবাই ভার্চুয়াল ভাবে একে অপরকে দেখে একসাথে ইফতার করলাম । সেই সাথে আমরা নতুন কিছু কাজ যোগ করে দিতে পারি , যেমন সবাই মিলে ইফতার গুছানো , বড়রা বাচ্চাদের কিছু ইসলামিক গল্প শুনানো ।

প্রতি বছর ধর্মপ্রাণ মুমিন অধীর আগ্রহে রমজানকে স্বাগত জানানোর জন্য অপেক্ষায় থাকেন। হাফেজদের সুললিত কণ্ঠে প্রাণ জুড়ানোর বাসনা নিয়ে তারাবীহর নামাজে অংশগ্রহণ করে সাধারণ মানুষ। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে  যেহেতু ধর্ম মন্ত্রণালয় ১২ জন মুসল্লি ছাড়া বাকিদের ঘরে নামাজ আদায় নির্দেশ দিয়েছেন, সুতরাং এই নির্দেশ মান্য করতে হবে। যেহেতু এর মাধ্যমে সোশ্যাল ডিসটেন্স বা সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকে। আমরা তাই ঘরকেই মসজিদ বানাবো । আপনারাও প্রত্যেকেই ঘরে নামাজ আদায় করে নিন। দৈনন্দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও তারাবিহ পরিবারের সব সদস্যকে নিয়ে একসঙ্গে জামাতে আদায় করুন।

ইসলামের প্রথমদিকে এই রীতি ব্যাপকভাবে চালু ছিল। মহিলা পুরুষ একসঙ্গে নামাজ আদায় করতেন। রাসূল (সা.)-এর পেছনে অসংখ্য মহিলা সাহাবী মসজিদে নববীতে জামাতে নামাজ আদায় করেছেন। করোনার কারণে সেই পুরনো নিয়ম চালু করার একটি সুবর্ণ সুযোগ আমাদের মাঝে এসেছে। আমরা পরিবারের সব সদস্যদের নিয়ে একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারি।সে ক্ষেত্রে যে কোনো একজন পুরুষ নামাজের ইমামতি করবেন। প্রাপ্তবয়স্ক অন্য পুরুষরা তার পেছনে দাঁড়াবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে দাঁড়াবেন অপ্রাপ্তবয়স্ক ও পরিবারের মহিলা সদস্যবৃন্দ।এ ক্ষেত্রে যিনি ইমামতি করবেন তার কুরআন তিলাওয়াত শুদ্ধ হতে হবে। পরিবারের মধ্যে ইমামতিতে পারদর্শী কয়েকজন থাকলে, সে ক্ষেত্রে যিনি কুরআন ও হাদিস সম্পর্কে অধিকতর জানেন, তিনি দাঁড়াবেন ইমামের মুসল্লায়। এভাবে আমরা আমাদের গৃহবন্দি সময়টুকু মসজিদে না গিয়েও সমপরিমাণ নেকির ভাগীদার হতে পারি। আমাদের নেকি অর্জনে কোনো ক্ষতি হবে না।

যাঁদের বাড়িতে ছোট এবং বড় বাচ্চা রয়েছে তাদেরকে ব্যস্ত ও আগ্রহী রাখার দুই উপায় অবলম্বন করতে পারেন। ইউটিউবে ডু ইট ইওরসেল্ফ আর্ট প্রোগ্রাম দেখে পেপার নিয়ে মসজিদের নমুনা তৈরি শেখাতে পারেন বাচ্চাদের। বড় বাচ্চাদের জন্য আমরা দিনের একটি অংশ বরাদ্দ রাখতে পারি যখন তারা আমাদেরকে তাদের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারবে , তাদের ভাবনা গুলো আমাদেরকে জানাতে পারবে । পরিবারের সবাইকে নিয়ে কুর’আন নিয়ে বসে ছোট আয়াত শিখতে পারি । যেকোন সুরা বা আয়াত এর ব্যাখ্যা পড়তে পারি । আমরা  ইসলামের মৌলিক কিছু বিষয় নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করতে পারি । এতে করে তারা একটা সুন্দর পরিবেশ পাবে যেখানে ইসলাম কে জানার ব্যাপারে তাদের আগ্রহ আরো বৃদ্ধি পাবে।