ঘুরে দেখুন হায়দ্রাবাদের চারমিনার

ID 54004547 © Ujjaldey | Dreamstime.com
ID 54004547 © Ujjaldey | Dreamstime.com

ভারতের বিখ্যাত মসজিদের তালিকায় অত্যন্ত পরিচিত নাম চারমিনার। এটি দক্ষিণ ভারতের কেন্দ্রস্থল হায়দ্রাবাদে অবস্থিত। ১৫৯১ সালে মহম্মদ কুলি কুতুব শাহ তাঁর স্ত্রীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই স্থাপত্যটি তৈরি করেছিলেন। চারমিনার এতটাই সুন্দর যে একবার তাকালে আর চোখ নামাতে পারবেন না। পুরাতন হায়দ্রাবাদের মুসি নদীর পূর্ব তীরেই এই সুন্দর স্থাপত্যের অবস্থান। জানা যায় সেই সময় মহম্মদ কুলি কুতুব শাহ ইন্দো ইসলামিক স্থাপত্য রীতির ওপর বিশেষ ভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। তাতেই অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি চারমিনার স্থাপন করেন।

চার ও মিনার এই দুটি উর্দু শব্দ এর সমন্বয় এ “চারমিনার”কথাটির উৎপত্তি। ইংরেজীতে একে বলা হয় ‘four towers’. অসম্ভব সুন্দর নকশার কারুকার্য চারমিনারে খোদিত আছে যা দর্শককে সত্যিই মুগ্ধ করে তোলে এক দর্শনে। এর উত্তরপূর্বকোণে লাদ বাজার এবং পশ্চিম দিকে গ্রানাইটের তৈরী খুবই উচ্চ কারুকাজ সম্পন্ন মক্কা মসজিদ অবস্থিত। চারমিনারের আকৃতি বর্গাকার। এই চারমিনার ৫৬ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট ও ৩০ মিটার চওড়া এবং তিনটি বিভাগ নিয়ে তৈরী, দুটো গ্যালারি ও একটি ফাঁকা জায়গা আছে। স্থাপত্যের উঁচুতে ওঠার জন্য প্রায় ১৪৯ টা ধাপ বিশিষ্ট পেচানো সিঁড়ি পার হতে হয়। এই সিঁড়ি গুলি গ্রানাইট, চুনাপাথর ও মার্বেল দিয়ে তৈরি। চারটি খিলানের ওপর ভিত্তি করে এই স্থাপত্য হায়দ্রাবাদের উপর দাঁড়িয়ে আছে। তাছাড়া প্রত্যেকটি মিনারের মাথায় মুকুটের মতো অসম্ভব সুন্দর সব ডিজাইন বর্তমান, যার টানে দর্শনার্থীরা বারবার আসে। প্রতিটি মিনার চারতলা। বলা হয়, ইসলামের প্রথম চারজন খলিফার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে মিনারগুলি।

চারমিনারকে ঘিরে বিভিন্ন গল্প প্রচলিত রয়েছে। কেউ বলে, শহরে প্লেগ মহামারী দেখা দেওয়ায় চারমিনার নির্মাণ করেন শাসকরা। কেউ বলে, স্ত্রী ভাগ্যমতির স্মৃতির উদ্দেশ্যে স্থাপত্য নির্মাণ করে কুলি কুতুব শাহ। মোটমাট, সেই সময় আশপাশের ৪৫টি অঞ্চলের উপাসনাস্থলে পরিণত হয়েছিল চারমিনার।

আরও জানা যায় যে এই দূর্গে একটি গুপ্ত সুড়ঙ্গ আছে। এই সুড়ঙ্গ চারমিনারের তলদেশ থেকে গোলকন্দা দূর্গে গিয়ে পৌঁছোয়। তখন রাজত্ব চলাকালীন রাজ পরিবারের কেউ কোনো কারণে পালাতে চাইলে এ পথ দিয়েই পালিয়ে যেতেন। যদিও বর্তমানে অনেক খোঁজাখুঁজির পর এই সুড়ঙ্গের হদিশ মেলেনি।
শুধু স্থাপত্য না এখানকার পুরো জায়গাটাই চারমিনার নামে পরিচিত। ভারতের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র এবং বিশ্বের দরবারে সুপরিচিত হায়দ্রাবাদের প্রধান খ্যাতি এই চারমিনারের জন্য। যেকোনো ধর্মের মানুষের জন্যই অবাধ এই চারমিনারের দরজা।

চারমিনার দেখার সবচেয়ে ভালো সময় হিসেবে মনে করা হয় রাতকে। এর গায়ের অভূতপূর্ব আলোর খেলা যেন সৌন্দর্যকে দ্বিগুণ করে দেয়। চারমিনার ছাড়াও এ অঞ্চলে লালবাজার, পতথার ঘাঁটির মতো সুন্দর সব কারুকার্য আছে যা যেকোনো মানুষকে মুগ্ধ করে দেয়। যেকেউ এখানে বেড়াতে আসতে পারে ধর্মীয়কারণে অথবা শুধুমাত্র বেড়ানোর লক্ষ্যে। হায়দ্রাবাদের প্রাণকেন্দ্রটি ভ্রমণের পাশাপাশি কেনাকাটা ও খাওয়াদাওয়ার জন্যও বিখ্যাত। বিশ্বখ্যাত হায়দ্রাবাদী বিরিয়ানী, খাদ্যরসিকদের এখানে টেনে আনে।