ঘুষের আদান প্রদানে ভ্রষ্ট হয় ঈমান

Anti bribery and corruption concept, Business man refusing and d
Anti bribery and corruption concept, Business man refusing and don't receive money banknote offered from business people to accept agreement contract of investment deal.

ইসলাম শান্তির ধর্ম। ঘুষের আদান প্রদান ইসলাম পছন্দ করে না। এখন কোন কাজ বা স্বার্থ হাসিল করতে গেলে ঘুষ বা উৎকোচ দেওয়া লাগে। আগে সরকারী চাকরী করতে গেলে বড় পরিমাণে ঘুষ বা উৎকোচ দিতে হত। বাংলাদেশে এই অবস্থার পরিবর্তন হওয়া শুরু করেছে।

যারা মুমিন ব্যক্তি তারা ঘুষের আশেপাশেও যায়না। ঘুষ বা উৎকোচ দিয়ে তারা নিজেদের ঈমান নষ্ট করেনা। আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে ঘুষ বা উৎকোচ দেওয়ার নিয়ম প্রচলিত।মানুষের বিবেক বুদ্ধি না থাকলে মানুষ এরকম বাজে কাজে লিপ্ত হয়। এটা নৈতিক অবক্ষয় ছাড়া কিছু না। একজন ছাত্র সারাজীবন পড়ালেখা করে যখন চাকুরী নিতে যায় তখন ঘুষ দিয়ে চাকুরী নিতে হয়। সেটা আসলেই অনেক বড় লজ্জার একটা বিষয়। এখানে দুই  শ্রেণির মানুষ আছে। একদল ঘুষ নিতে অপেক্ষায় থাকে, আরেকদল ঘুষ দিয়ে চাকুরী নেয়ার চেষ্টা করে।

ঘুষ হারাম। সরকারী বা বেসরকারী কোন কর্মকর্তা জনগণের টাকায় বেতনভাতা গ্রহণ করে থাকেন তখন তাদের কাজের জন্য জনগণ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেয়া ঘুষ। রাসূল সা. বলেন, প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গ হাদিয়া কবুল করলে চুরি বলে গণ্য হবে। আল্লাহর কসম করে বলছি তোমাদের কেউ খেয়ানত করলে তা নিজের কাঁধে নিয়েই কেয়ামতের ময়দানে উপস্থিত হবে। উট, গরু, বা ছাগল যাই হোক সেগুলো আওয়াজ করতে থাকবে। এরপর রাসূল সা. উভয় হাত উত্তোলন করে দু’বার বললেন, হে আল্লাহ! আমি পৌঁছে দিয়েছি।

ইবনে মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত, নিশ্চয়ই আল্লাহর নবী (সা.) সুদখোর, সুদ প্রদানকারী, সুদী কারবারের সাক্ষী এবং সুদ চুক্তি লিখনকে অভিশাপ দিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) বলেছেন, ঘুষ গ্রহণকারী এবং ঘুষদানকারী উভয়ের উপরই আল্লাহর লানত। (বুখারী, মুসলিম)। ঘুষ একটি অন্যায় কাজ- একথা সকলে একবাক্যে স্বীকার করেন। অথচ দুঃখজনক যে, এটি দেশের সর্বত্র বহাল তবিয়তে চালু রয়েছে। এতে একজনের প্রাপ্তি এবং অন্যজনের ক্ষতি ও মনঃকষ্ট, মানুষে মানুষে ঘৃণা, ক্ষোভ, আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা ইত্যাদি নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের মধ্য দিয়ে পুরো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ক্রমে বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হয়। অপরদিকে সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ অখুশি হন। এর অশুভ পরিণতি এক সময় নিজের উপর ও পরবর্তী প্রজন্মের উপর বর্তায়। তাই স্বভাবতঃই এর নগ্ন চেহারা ও অশুভ পরিণতি নিয়ে আলোচনা এখন খুবই প্রাসঙ্গিক এবং সময়ের অনিবার্য দাবী।

ঘুষ একটি অভিশাপের নাম। সব আমলেই এই অভিশাপের অস্তিত্ব ছিল। আমাদের দেশে বর্তমানে এটি এক মহা অভিশাপ, পুরো জাতি যার শিকার। ইসলামে ঘুষ চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনের সূরা আল-বাকারার ১৮৮ নাম্বার আয়াতে ইরশাদ করা হয়েছে— ‘তোমরা অন্যায়ভাবে একে-অপরের সম্পদ ভোগ কর না এবং জনগণের সম্পদের কিয়দংশ জেনেশুনে পাপ পন্থায় আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে শাসক কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিও না।’

উপরোক্ত আয়াতে অন্যায়ভাবে অপরের সম্পদ ভোগ করার যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে তা ঘুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন ঘুষদাতা, ঘুষ গ্রহীতা, উভয়ের মাঝে মধ্যস্থতাকারী, সবার ওপর আল্লাহ লা’নত (আল-মুজামুল কবির লিত্তাবরানী)।

দায়িত্বশীল যে ব্যক্তিকে সাধারণ মানুষের সেবাদানের জন্য সরকারের কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে, সে সেবাদানের বিনিময়ে কারোর কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করলে তা ঘুষ হিসেবে বিবেচিত হবে। কেউ অন্যায় বা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার জন্য কাউকে অর্থ দিলে সেটিও ঘুষের পর্যায়ে পড়বে। ঘুষ মানুষের নৈতিক অবক্ষয় ডেকে আনে। মানুষ তার সুবুদ্ধি ও সুবিবেচনা হারালেই কেবল কাউকে ঘুষ দিয়ে অবৈধ কাজ করিয়ে নিতে পারে কিংবা কারোর কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে তাকে অবৈধ সুবিধা দিতে পারে। বৈধ সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রেও কেউ যদি অবৈধভাবে অর্থ বা ঘুষ আদায় করে সেটিও মহা অন্যায়।

ঘুষ আদান-প্রদানের মাধ্যমে মানুষের সামাজিক সম্পর্কে ফাটল ধরে। এক মানুষের প্রতি অন্য মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসে ব্যত্যয় ঘটে। এটি এমন এক জুলুম যাতে দুর্বল ও নিঃস্ব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যে কারণে আল্লাহর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুষ দেওয়া-নেওয়া উভয়কেই হারাম ঘোষণা করেছেন। ঘুষ দেওয়া-নেওয়ার মধ্যে রয়েছে আল্লাহর অবাধ্যাচরণ। যারা এ অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত আখিরাতের দিনে তাদের জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে। অন্য মানুষের হক কেড়ে নেওয়ার জঘন্য অপরাধে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ঘুষের অভিশাপ থেকে রক্ষা করুন।

অতএব হে আল্লাহর বিশ্বাসী বান্দাগণ! অন্তিম সময়ের নিষ্ফল তওবার অপেক্ষায় না থেকে, এখনই তওবা করে ফিরে আসুন সঠিক পথে, কল্যাণের পথে। আপনার জন্য জান্নাতের অফুরন্ত নে‘মত অপেক্ষা করছে। পার্থিব এ সামান্য ত্যাগের মাঝেই তো সেই মহাসাফল্য নিশ্চিত। বিবেক জাগ্রত করে সত্যকে উপলব্ধি করে দেখুন, আত্মিক ঐশ্বর্যের কাছে নোংরা আভিজাত্য কিভাবে পরাজিত। আপনার ঈমানী আলোর উজ্জ্বল ঝলকানিতে চিরতরে অপসারিত হোক সকল পাপের কালো আঁধার। আল্লাহ আমাদের সূদ-ঘুষ সহ যাবতীয় পাপকাজ থেকে বিরত থাকার তাওফীক্ব দান করুন- আমীন!!