SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

চরিত্র গঠনে ইসলামী জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে জানুন

পরিবার ২৪ মার্চ ২০২০
চরিত্র গঠনে সততার দৃষ্টান্ত
© Muhammad Annurmal | Dreamstime.com

চলমান পরিস্থিতিতে সমাজের দিকে লক্ষ করলে দেখা যাবে বিভিন্ন পরিবারে চরিক্র গঠনের দিকে সেভাবে নজর দেওয়া হয় না। আধুনিকতার সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে বিভিন্ন পরিবারের কর্তারা একেবারেই চরিত্র গঠনে ধর্মের গুরুত্বকে একেবারেই ভুলে বসেন।

চরিত্র গঠনে ইসলামের ভূমিকা-

যার ফলে লক্ষ্য করা যায়, সমাজ ও রাষ্ট্রে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাপক প্রসার লাভ করছে। ঘটছে নানা অসামাজিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। এর হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না কেউই।যার ফল স্বরূপ সমাজে বিষবাষ্প লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যারা নিজের চরিত্রকে একটু সুন্দরভাবে গুছিয়ে নিতে চাই তাদের জন্য এই বিষবাষ্পের সমাজে বাস করা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষ বাষ্প ছড়ানো মানুষদের কাছে অনৈতিকতাকে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে।

চরিত্র গঠনের কোনো বালাই নেই। অথচ ধর্মীয় অনুশাসনের আলোকে চরিত্র গঠন করলে সমাজ সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ থাকার কথা। চরিত্র গঠনের জন্য আমাদের সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন। বিশ্বনবী সা: ছিলেন জগতের সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। তিনি সারা জীবন চরিত্রবান মানুষ ও সমাজ গঠনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। তাঁর সেই আদর্শ আমাদের জন্য পাথেয়।

পরিবার ও সমাজে চরিত্র গঠনের জন্য বাবা-মা, কর্তাব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে। কেবল মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলের জন্য লোক দেখানো প্রচারণা চালালে হবে না, বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য চরিত্র গঠনে ধর্মীয় অনুশাসন অনুসরণের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তরুণ ও যুবসমাজকে ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে। যা অসুন্দর, দৃষ্টিকটু বা রুচিহীন, সে সবকে ইসলাম কখনো সমর্থন করে না। বরং সেগুলোকে বর্জন করতে উৎসাহী করে তোলে। মানুষকে পরিপূর্ণরূপে চরিত্রবান করে তুলতে ধর্মীয় অনুশাসনের কোনো বিকল্প নেই।

নামাজ, রোজা, হজ, জাকাতের পাশাপাশি জীবনের জন্য যা ভালো এবং উপযুক্ত তা ইসলামে রয়েছে। কারণ ইসলাম শুধু একটি ধর্মের নাম নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। ইসলামকে অনুসরণের মাধ্যমে অনেক লোক চরিত্রহীনতাকে দূরে ঠেলে সুন্দর জীবন গঠনে এগিয়ে এসেছে। পেয়েছে শান্তি ও সুন্দরের পরশ।

বর্তমান সময়ে চরিত্রের সংজ্ঞা-

বহু মা-বাবা, অভিভাবক আছেন সন্তানের জন্য অনেক কিছু করেন। কিন্তু তাদের (সন্তানের) চরিত্র গঠনের দিকটিকে একেবারে উপেক্ষা করে যান। গুরুত্ব দেন না মোটেও। ব্যাকডেটেড বলে ধর্মকে কাছে ঘেঁষতে দেন না! ফলে এর প্রভাব পড়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ জীবনের প্রতিটি বাঁকে। চরিত্রবিধ্বংসী সব কাজকে তারা আগলে নেয়। জড়িয়ে পড়ে অনৈতিক সব কর্মকাণ্ডে। চরিত্র গঠনের জন্য তাই আমাদের কুরআন-হাদিসের পাশাপাশি ধর্মীয় পুস্তকাদি অধ্যয়ন করতে হবে। ব্যবহারিক জীবনে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

বর্তমান সময়টি ফেসবুক, ইন্টারনেটের। এ যুগে নিজেদের চরিত্র ঠিক রাখা কষ্টসাধ্য ব্যাপারই বটে। তবে ধর্মীয় বিধিবিধানকে মেনে চলতে পারলে চরিত্রকে সুন্দর করে তোলা কঠিন হবে না। অনেক লোক আছেন যারা ধর্মের কথা বললেই অস্বস্তিতে ভোগেন, নাক ছিটকান।

অথচ এই ইসলামই পারে মানুষের চরিত্রকে আলাদাভাবে প্রকাশ করতে, যোগ্য করে গড়ে তুলতে। নিজের পরিবার ও সমাজে ধর্মীয় পরিবেশ গড়ে তুলতে পারলে চরিত্র গঠন আরো সহজ হবে। কারণ, ধর্মীয় পরিবেশের অভাবে অনেকে বিপথগামী হয়, দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। তাই আমি মনে করি, ইসলামকে অনুসরণের মাধ্যমে আমরা উন্নত চরিত্রের অধিকারী হতে পারি। হাদিসে, চরিত্রবান লোকদের সবচেয়ে উত্তম বলে সার্টিফাই করা হয়েছে। আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে ধর্মীয় অনুশাসন অনুসরণের মাধ্যমে ভালো ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী করেন।