চাঁদের মাটিতে পা দেবেন মহিলা এবং অ-শ্বেতাঙ্গ নভশ্চর

আবিষ্কার ১৬ এপ্রিল ২০২১ Contributor
জ্ঞান-বিজ্ঞান
চাঁদের মাটিতে
Photo : Pexels

১৯৬৮ সালে নাসা প্রথম মানব মিশন পাঠায় চাঁদের কক্ষপথে এপোলো ৮ এর হাত ধরে। পরের বছর এপোলো ১১ মিশনে ইতিহাস সৃষ্টি করে চাঁদের মাটিতে পা রাখেন নিল আর্মস্ট্রং এবং বাজ অলড্রিন। এরপরে ১৯৭২ সাল অব্দি চাঁদে নেমেছে মানুষ। শেষবারের মত এপোলো ১৭ মিশনের হাত ধরে সব থেকে বেশি তিনবার মুনওয়াক বা চন্দ্রপৃষ্ঠে হাঁটার রেকর্ড বানান ইউজিন কারনান এবং হ্যারিসন স্মিট। এর আগে মহিলা এবং অ-শ্বেতাঙ্গ মহাকাশচারী সফলভাবে মহাকাশে গিয়েছেন, কিন্তু কেউ চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করেননি। ২০২৪ সালে উৎক্ষেপণের দিনক্ষণ ঠিক হওয়া নাসার মিশন আর্টেমিস শুধু যে পাঁচ দশক পরে মানুষকে চাঁদে পাঠাচ্ছে তাইই নয়, এই মিশনের হাত ধরে এই প্রথম মহিলা এবং অ-শ্বেতাঙ্গ নভশ্চর পা রাখবেন চাঁদের মাটিতে।

মিশন আর্টেমিস এবং তার মহাকাশচারীগণ

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৯ সালে নাসাকে চ্যালেঞ্জ দেয় ৫ বছরের মধ্যে চাঁদের মাটিতে মানুষকে পাঠানোর জন্য। নাসা সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে এবং সেই মত পরিকল্পনা শুরু হয়। যে মিশনের হাত ধরে প্রথম চাঁদে নেমেছিল মানুষ তার নাম গ্রীক দেবী এপোলোর নামানুসারে ছিল এপোলো ৮ এবং এইবারের মিশনে সেই ধারা অব্যাহত রাখতে নাম দেয়া হয়েছে এপোলোর যমজ বোন দেবী আর্টেমিসের নামানুসারে। জানা গেছে সবমিলিয়ে এই মিশনে ১৮ জন মহাকাশচারী থাকবেন। তাদের মধ্যে ৯ জন মহিলা এবং বেশ কয়েকজন অ-শেতাঙ্গ সদস্যও থাকছেন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ২০২২ সালের বাজেটে নাসার জন্য বরাদ্দ করা হচ্ছে প্রায় ১৪৭০ কোটি টাকা। এই বরাদ্দের যে অনেকটা অংশ এই মিশনে ব্যবহার করা হবে তা বলাই বাহুল্য।

মিশন আর্টেমিসের উদ্দেশ্য এবং বৃহত্তর লক্ষ্য

নাসা মিশন আর্টেমিস সম্পর্কে পরিষ্কার করে দিয়েছে ইতিমধ্যে যে চন্দ্রপৃষ্ঠে পতাকা পোঁতা বা পায়ের ছাপ ফেলা নয়, এই মিশনের আসল উদ্দেশ্য হল পৃথিবীর কাছাকাছি যুৎসই উপস্থিতির জায়গা তৈরী করা। প্রথম মহিলা এবং অ-শ্বেতাঙ্গ নভশ্চর চাঁদের মাটিতে পাঠানো তো বটেই, এই মিশনের আরও বৃহত্তর লক্ষ হল চাঁদের পাশাপাশি পৃথিবীর আবহাওয়া পরিবর্তন সম্পর্কেও সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা। মিশন আর্টেমিসে নাসা ব্যবহার করতে চলেছে দৈত্যাকার রকেট, যার নাম The Space Launch System। এই বছরের শেষে সেই রকেটের প্রথম মানবহীন উৎক্ষেপণ হতে চলেছে। আপাতত সমস্ত প্রস্তুতি চলছে জোর কদমে এবং ২০২৪ সালে অনেকদিক দিয়ে ঐতিহাসিক হতে চলা এই অভিযানের দিকে তাকিয়ে নাসা তথা বিশ্ব।