চিত্ত যেথা ভয়শূন্য

Photo by Archie Binamira from Pexels

ব্যর্থতার ভয় আমাদের মধ্যে সহজাত। মূলত, এটি এমন একটি বাধা যা কোনও কিছু করতে আমাদের বাধা দেয়। যা আমাদের জীবনকে অযাচিত অনেক সমস্যার মুখোমুখি এনে দাঁড় করায়।

কিন্তু যদি আমরা এই ভয়কে কাটিয়ে উঠি তবে কী হবে? যদি আমরা আমাদের ভয়কে সাময়িক নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি? যদি আমরা এই ভয়, এই ভয়ের প্রভাবকে আমাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখি?

বস্তুত কোনও বিষয়ে ভয় হচ্ছে এমন একটি মানসিক প্রক্রিয়া, যা আমাদের জীবনাচরণকে অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণ করে। কার্যত বলতে পারি আপনার বা আমার যে কোনও অনাবিষ্কৃত ক্ষমতা থাকতে পারে এবং তা বিকাশের জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা যদি এই বিকাশকে সক্রিয় না করি, তবে মনে হয় আপনি একটি মূল্যবান দক্ষতা নষ্ট করেছেন এবং এটিকে আপনার মধ্যে ক্ষয় করার অনুমতি দিয়েছেন। অযথা মনের মধ্যে ভয় রেখে এগিয়ে চলাটা কোনও কাজের কথা নয়।

নতুন কোনও কিছু শিখতে বা জানতে ব্যর্থতা ভয় এক ধরনের বোকামি বলা যায়। আপনার মধ্যেকার অপ্রয়োজনীয় ভয়কে অপসারণ করে আপনি যদি নিজের দু্র্বলতাকে, আপনার নিজের ত্রুটিগুলিকে কাটিয়ে উঠতে না পারেন তাহলে কখনওই কাজে সাফল্য আসবে না। নিজের সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্যতা আপনার সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করে; আপনি এখন আপনার সম্মান কতটা উচ্চতর স্থানে চয়ন করতে চান বিষয়টা কিন্তু পুরোপুরি আপনার উপরেই নির্ভর করে। একটা জিনিস সব সময় মনে রাখবেন আপনার জীবনের নায়ক আপনিই। আপনার জীবনের সেরা গল্পটা লেখার দায়িত্ব কিন্তু আপনারই।

বেশ সাধারণভাবে বলা হয় যে ভয়ের বিপরীতটি নিঃশর্ত ভালবাসা। আপনি যখন শর্তহীন প্রেমের অবস্থানে থাকেন, তখন ভয় আপনাকে পরাভূত করতে এবং আপনাকে কোনও চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে অতিরিক্ত বাধা প্রদান করে না। আপনি যখন নির্ভীক থাকেন, অমায়িক থাকেন তখনই আপনি আপনার ভয়গুলিকে জয় করার শক্তি পেয়ে যান। ঈশ্বরের চেয়ে আমাদের মধ্যে এই শর্তহীন প্রেমকে আরও ভাল করে তোলে কে? আমাদের চারপাশে এবং আমাদের মধ্যে যখন আমরা এই ঐশ্বরিক অদ্বিতীয় প্রেমের উপস্থিতি বুঝতে পারি, অনুভব করতে পারি, তখনি আমরা আমাদের আরও বেশি করে বুঝতে পারি। আমাদের অন্তরের শক্তিই আমাদের জীবনকে পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিতে, ডুবিয়ে নিতে, নিজেকে চ্যালেঞ্জ জানাতে এবং যা সুন্দর তা উপভোগ করার জন্য অনুপ্রাণিত করে।

নির্ভীক মানুষেরা হল সিংহ-মনযুক্ত, পরাক্রমী। জীবনকে সে পরিপূর্ণভাবে অনুভব করতে পারে। জীবনে কোনও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেও সে দ্বিধা বোধ করে না। প্রতিটি ব্যক্তির নিজস্ব সাফল্য থাকে, তা ডিগ্রি, ব্যবসা, পরিবার ইত্যাদি হতে পারে এবং অন্যদিকে নির্ভীক হওয়ার ধারণা এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনের বিষয়টি আলাদা। প্রত্যেক ব্যক্তির এমন কিছু হওয়া উচিত যা তাঁকে একটি বিশ্বস্ত মানসিকতা এবং একটি চ্যালেঞ্জযুক্ত এবং উন্মুক্ত মনেরই পরিচায়ক করে তুলবে।

জীবনের নানা বাধা বিপদকে অতিক্রম করে সে ক্রমেই সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। কাজেই আপনার ভয়ের হাতে নিজেকে চালিত হতে দেবেন না। নিজের জীবনের চাকা নিজের হাতে নিন এবং জীবনকে উপভোগ করতে শিখুন।