চিনে রহস্যময় ভাইরাসে মৃত ৯, রোগের শিকার এক ভারতীয়ও

Tamalika Basu ২২-জানু.-২০২০
china virus
ID 157557572 © Salvatore Gerardi | Dreamstime.com

বেজিং : চিন থেকে ছড়িয়ে পড়া ফ্লু  টাইপের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বুধবার পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৪৪০ জন। ভাইরাসটি যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে তার লক্ষ্যে হুবেই প্রদেশ ও তার রাজধানী উহান ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে  চিন সরকার।

চিনের নাশন্যাল হেলথ কমিশনের সহকারী মন্ত্রী লি বিন সংবাদিকদের বলেছেন, আরও যে ২ হাজার ১৯৭ জন এই রোগের সংস্পর্শে এসেছেন তাদের নিয়েও ধন্দ তৈরি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭৬৫ জনকে পর্যবেক্ষণে রাখার পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমেই এই রোগ অন্যদের সংক্রমিত করছে বলে জানান তিনি।মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সম্প্রতি এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যায় বিশাল পরিবর্তন এসেছে। যা ওই ভাইরাস সম্পর্কে আমাদের বোঝাপড়া, ডায়াগনস্টিক পদ্ধতির উন্নতি সাধন এবং ডায়াগনস্টিক কিটের বিতরণের অনুকূল পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে সহায়তা করছে। তবে চান্দ্রবর্ষের ছুটিতে ভাইরাসটির সংক্রমণ শুরু হওয়ায় এর নিয়ন্ত্রণ বেশ জটিল হয়ে পড়েছে।’

হুবেই প্রদেশ ও রাজধানী উহানে প্রায় ৮৯ লাখ মানুষের বাস। মূলত ওই শহরটি থেকেই এই ভাইরাসের উৎপত্তি। এরপর রাজধানী বেইজিংসহ অন্যান্য প্রদেশ এবং প্রতিবেশী থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ানের পর যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে।

ভাইরাসটি নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে। বৈঠকে ওই ভাইরাসের সংক্রমণে বিশ্বজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি হবে কিনা তা পর্যালোচনা করা হবে। এদিকে কয়েকদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও ভাইরাসটির উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে দেশটির সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে, উহান ও শেনঝান প্রদেশে প্রথম বিদেশি হিসেবে এই মারণ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫ বছরের ভারতীয় শিক্ষিকা।

গত শুক্রবার থেকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন শেনঝানের একটি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষিকা প্রীতি মাহেশ্বরী। তিনি মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং সেই রোগেরই চিকিত্‍‌সা চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন ডাক্তাররা। এ কথা জানিয়েছেন, ওই শিক্ষিকার স্বামী অশুমান খোয়াল। দিল্লির ব্যবসায়ী অশুমান জানিয়েছেন, ICU-তে চিকিত্‍‌সা চলছে প্রীতির। তাঁকে ভেন্টিলেটর ও অন্যান্য লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমে রাখা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে রোজ কয়েক ঘণ্টা রোগীকে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অশুমান জানিয়েছেন, প্রীতির জ্ঞান নেই। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, তাঁর সেরে উঠতে বেশ খানিকটা সময় লাগবে।