চোখের নীচে কালি দূর করতে ব্যবহার করুন ঠান্ডা দুধ

চোখ এমন এক জিনিস যার সৌন্দর্যের সঠিক ব্যখ্যা বা ভাষায় ব্যক্ততা বড়ো কঠিন। কালো চোখ এর অপরূপ সৌন্দর্যে অভিভূত সকলেই, কিন্তু চোখের তলায় কালি? একদমই ভালো লাগে না, সেটা তোলার জন্য অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। মুশকিল হচ্ছে এই যে প্রতিকার এর পিছনে আমরা অবিরাম ছুটে বেড়াই কিন্তু কেন? কী  কারণে এই কালি চোখের তলায় জমেছে, সেটা তো আগে খুঁজে বের করুন, তারপর না হয় প্রতিকার।

ঠিকঠাক না জেনেই বাজারে যেসমস্ত ক্রিম বা ফাউন্ডেশন পাওয়া যায়; তা একবার করে মেখে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়াটা এখনকার ফ্যাশান হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই যাতে ঘরোয়া উপায়ে চোখের তলার কালি থেকে মুক্তি পাওয়া যায় সেদিকে নজর দিন।

চোখের তলায় সাধারণত বাদামি ও নীলচে দাগ হয়। জিনগত কারণে বাদামি দাগটা হয়ে থাকে বলেই জানা যায়। বিভিন্ন কারণে  সৃষ্টি এই চোখের তলার দাগ । তবে সবচেয়ে বেশি যেগুলো লক্ষ্য করা গেছে তা হল-

মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তায় ভোগা মানুষের জীবনে কমবেশি সবারই আছে। মাঝেমাঝে আমরা অত্যাধিক মানসিক চাপের জন্য স্ট্রেসে ভুগি। ফলে আস্তে আস্তে কালো স্তরের সৃষ্টি হয়।

পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার কারণে চোখের তলায় কালি জমতে থাকে। কর্মব্যস্ততায় অনেকেই রাতে ঘুমান না ঠিকঠাক, কম্পিউটার বা ল্যাপটপের সামনে দীর্ঘক্ষণ কাজ করার ফলে ক্লান্তি সত্ত্বেও চোখে ঘুম নেই। এছাড়া বর্তমানে সোশাল মিডিয়ায় ছেলেমেয়েরা ব্যস্ত, চ্যাট, ভিডিও এসবের মাঝে পর্যাপ্ত  ঘুম এর অভাব। একজন স্বাভাবিক মানুষের শরীর ঠিক রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম অবশ্যই জরুরি অন্তত ৭-৮ ঘন্টা ঘুমাতেই হবে। যদি তাও না হয় তো ছয় ঘন্টা অবশ্যই ঘুমানো দরকার। কিন্তু সেখানে দু-তিন ঘন্টার বেশি ঘুমই হচ্ছে না। ফলে শারীরিক ক্লান্তি র থেকে ওই চোখের তলার কালি।

চোখের বিরাম নেই, সর্বক্ষণ কাজ চালানোর ফলে চোখ ধীরে ধীরে ভেতর থেকেই শুকিয়ে যাচ্ছে, কেমন যেন ফ্যাকাশে দেখাতে শুরু করে। শরীর থেকে প্রচণ্ড পরিমাণে জল বেরিয়ে যাওয়ার ফলে শরীর ধীরে ধীরে শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন ক্রিম মাখার ফলেও কোনো পরিবর্তন নেই, তখন ঘরোয়াই পদ্ধতি শ্রেয়। এতে সাইড এফেক্ট কিছু দেখা যায় না।

চোখের তলার কালি দূর করতে সবথেকে কার্যকরী হল টমেটো।এক চা চামচ টমেটোর রস আর এক চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে দাগের জায়গায় লাগিয়ে 10 মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে।এটা অন্তত দিনে দুবার করার চেষ্টা করুন। টমেটোর রস যে শুধু মাখতেই কার্যকরী তা না এই কালির সমস্যা ভিতর থেকে দূর করতেও এর ভূমিকা অনেক। টমেটোর রস, লেবুর রস আর পুদিনা পাতা মিশিয়ে একটা হেলথ ড্রিঙ্ক তৈরী করে খেয়ে নিন। ভিতর থেকে সমস্যা দূর করার এটা দারুণ উপায়।

শশা তো খুব সহজেই পাওয়া যায়। শশা ত্বকের যেকোনো কাজে বেশ ভূমিকা পালন করে। শশা ও লেবুর রস সমপরিমাণ ভাবে মিশিয়ে চটজলদি  ত্বকে লাগিয়ে ফেলুন, এটা একটানা সাতদিন করতে পারলেই দাগ গিয়ে স্বাভাবিক রং ফিরবেই। একটানা সাতদিন দিনে অন্তত পক্ষে দু বার শশা স্লাইস করে কেটে আধ ঘন্টা ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে দশ মিনিট চোখের উপর রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। উপকার নিশ্চিত মিলবেই।

কাঁচা আলু ঠান্ডা করে ব্লেন্ডার অথবা কোনো কিছুর সাহায্যে পেস্ট করুন। আর এই পেস্ট দাগের উপর লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।পেস্টে ঝামেলা পোহাতে হয় তখন আপনি বিকল্প হিসেবে স্লাইস করে নিয়ে সপ্তাহে দু বার ব্যবহার করুন।

ঠান্ডা দুধে প্রতিদিন তুলার বল ডুবিয়ে চোখের তলার ওই কালিতে লাগান,১০-১৫মিনিট পর পানি দিয়ে  ধুয়ে ফেলুন।

এছাড়া  সবুজ বা কালো চা এর ব্যাগ ঠান্ডা করে চোখের ওপর 10 মিনিট দিয়ে সরিয়ে ফেলুন। দিনে দু-তিন বার করবেন এটি।

প্রাকৃতিকভাবে গোলাপ জল ত্বকের জন্য খুব উপকারী। সাতদিন একটানা ছোট কাপড় এর টুকরো অথবা আই প্যাড গোলাপ জলে ভিজিয়ে ১০-১৫ মিনিট চোখ বন্ধ করে  লাগাতে পারেন, দাগ থেকে মুক্তি পাবেন।

আর চামচ থেরাপিও করতে পারেন, দুটো চা চামচকে ঠান্ডা করে চোখের ওপর রেখে দিন স্বাভাবিক তাপমাত্রা আসা অবধি। কালি থেকে মুক্তি আপনার নিশ্চিত ।