চোখের মণির রং বিভিন্ন রকমের হয় কেন? বিজ্ঞানীরা বললেন অঙ্ক সহজ নয়!

শারীরিক স্বাস্থ্য Contributor
জ্ঞান-বিজ্ঞান
চোখের মণির রং
© Christopher Howells | Dreamstime.com

চোখের মণির কত রকমের রং-ই না আমরা দেখে থাকি। নীল, সবুজ, খয়েরি, কালো – আরও কত কী। আর এই চোখের মণির বিভিন্ন রং-য়ের পিছনে দায়ী হল আমাদের জিন! লন্ডনের কিংস কলেজ আর এরাসমাস বিশ্ববিদ্যালয়ের রটারডাম মেডিকেল সেন্টারের একদল বিজ্ঞানীরা এবারে জানালেন চোখের মণির এই হরেক রংয়ের পিছনে জিনের অঙ্ক মোটেই সোজাসাপ্টা নয়। তাদের এই নতুন গবেষণা প্রকাশিত হল গত সপ্তাহের Science Advances জার্নালের সংস্করণে।

চোখের মণির রং

চোখের মণি বা আইরিশের রংয়ের পিছনে দায়ী হল পিগমেন্ট নামের এক রঙ্গীন বস্তু এবং তার সাথে দৃশ্যমান আইরিশে আলোকের বিচ্ছুরণ। মানুষের চোখের ক্ষেত্রে পিগমেন্টে মেলানিনের ঘনত্বের উপর নির্ভর করে চোখের মণির রং হালকা বাদামী থেকে কাল হয় সাধারণত। আর নীল বা সবুজ বা ধূসর হয় প্রধানত আইরিশের স্ট্রোমা বা উপরের দ্বিস্তরীয় অংশে আলোক বর্ণালীর বিচ্ছুরণের জন্য। আর এই সমস্ত কিছুকে নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের জিন। একাধিক জিন মেলানিনের ঘনত্ত্ব বা স্ট্রোমার কার্যপ্রণালী নিয়ন্ত্রণ করে আর এভাবেই চোখের মণির রং বদলে যায়। আর মজার ব্যাপার হল যেহেতু জিন জড়িত, তাই এই চোখের মণির রং বংশগত।

কী জানা গেল এই গবেষণা থেকে?

১,৯৫,০০০ জনের উপর এইজাতীয় এখনও অব্দি করা বৃহত্তম গবেষণায় বিজ্ঞানীরা নতুন ৫০ ধরণের জিনের খোঁজ পেয়েছেন যারা চোখের মণির রংয়ের সাথে জড়িত। অদ্ভুতভাবে তারা সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছেন বিভিন্ন রকমের বাদামী রংয়ের এশীয় চোখের মণি এবং হালকা বাদামী থেকে নীল রংয়ের ইউরোপিয়ান চোখের মনির জিনগত বৈশিষ্ট্যে। এই গবেষণার সাথে জড়িত কিংস কলেজের বিজ্ঞানী ডঃ পিরো হাইসি বললেন, “এই আবিষ্কার ভীষণ গুরুত্ত্বপূর্ণ কারণ এর সাথেই আমরা মানুষের চেহারার সাথে সম্পর্কিত জিনগুলোকে বোঝার ক্ষেত্রে এক বড় ধাপ পেরোলাম।”

এই গবেষণার ফলে চোখের বিভিন্ন রোগ, বিশেষ করে যেগুলো পিগমেন্টের সাথে জড়িত, যেমন পিগমেন্টারি গ্লুকোমা বা অন্ধত্ত্ব এবং অকুলার আলবিনিজম সম্পর্কে আমরা আরও ভালভাবে জানতে পারবো। ডঃ হাইসির তেমনটাই আশা করেছেন। এর সাথে চোখের মণির রংকে নিয়ন্ত্রণ বা পরিবর্তন করাও আরও সহজসাধ্য হবে।

Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.
Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.
Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.