চোখ বুজে থাকাই চোখের ব্যায়াম

daniil-kuzelev-QRawWgV6gmo-unsplash
Fotoğraf: Daniil Kuzelev-Unsplash

চোখ মানবশরীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল অঙ্গ। চোখ এর প্রতি যত্ন নেওয়াটা আমার বা আপনার অত্যন্ত জরুরী, কিন্তু করি ক,জন? দিনের শুরু ও শেষ এই চোখ দিয়েই, তাই চোখকে ভালো রাখতে না পারলে আমাদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। যেকোনো বয়সে চোখকে নানান সমস্যা থেকে রক্ষা করার উপায় জানতে হবে পড়তে থাকুন এই আর্টিকেলটি।

বতর্মান যুগ ডিজিটাল যুগ। মোবাইল,কম্পিউটার,ল্যাপটপ এগুলো ছাড়া প্রায় চলেই না। বাড়িতে বসে অনলাইন কাজ হোক বা অফিসের কাজ অথবা পড়াশোনা, স্ক্রিন থেকে ম্মুক্তি পাবার জো নেই। ৩০ বছর বয়সের পরই চোখের খারাপ দশা আস্তে আস্তে ঘনিয়ে আসে। যদি এসময় নিজেকে ঠিকঠাক রাখা যায় তো ভালো নইলে দৃষ্টি ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়ে আসে।

UV রশ্মি সবসময়ই আপনার চোখের জন্য খারাপ, যখনই বাইরে বেরোবেন তখন সানগ্লাস পরুন। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে এই রশ্মি চোখের মারাত্মক ক্ষতি করে।

অফিস এ সারাক্ষণ কম্পিউটার এর সামনে বসে থেকে আপনার বিরক্তিভাব ও প্রচণ্ড ক্লান্তি আসবে, মাথা ও চোখ ব্যথা করবে। এই আইস্ট্রেন এর হাত থেকে বাঁচতে হলে ডাক্তার এর পরামর্শ অবশ্যই নেওয়া উচিত। নিজে কী করবেন? যখনই মনিটরে একভাবে তাকিয়ে থেকে চোখে চাপ অনুভব করবেন তখনই ফোকাসটা পরিবর্তন করে নিন। কম্পিউটার থেকে মোটামুটি দূরত্ব বজায় রাখুন; কিন্তু খুব বেশি নয়। কিছুসময় অন্যদিকে চেয়ে থাকুন অথবা আলোর ব্রাইটনেস কমিয়ে নিন, বাড়িতে থাকলে কম আলোর ল্যাম্প ব্যবহার করুন কিন্তু খেয়াল রাখবেন যেন আলো খুব কম না হয়ে যায় তাতেও চোখের ক্ষতি হয়। চোখ বুজে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলেও ক্লান্তি কমে আসে। উজ্জ্বল ওভার হেড লাইটের জায়গায় কম ভোল্টেজের ফ্লোর ল্যাম্প ব্যবহার করুন। একটি অ্যান্টিগ্লেয়ার  স্ক্রিন ফিল্টার বেশ কাজে আসে এই ক্ষেত্রে। বেশিরভাগ অফিস স্টোরেই এগুলো পাওয়া যায়।

ক্যালিফর্নিয়ার চক্ষু বিশেষজ্ঞ, ক্লাইড কিচেন পরামর্শ দিয়েছেন যে ৩০ বছরে পা দেওয়ার পরেই প্রথম দিকেই সার্জিকাল ফিক্স করানো উচিত, চোখের প্রতি নজর দেওয়ার এটাই হল আদর্শ সময়। ল্যসিক চোখের সমস্যা মাঝেমধ্যেই ঝুঁকির সৃষ্টি করে।শুষ্ক চোখও চোখে নানা সমস্যা তৈরী করে।

প্রতিদিন ব্যায়াম করুন এবং সঠিক খাবার খেয়ে শরীর মেনটেন করুন। এই ব্যায়ামের অভ্যাস থাকলে ডায়াবেটিসের মতো ভয়ংকর রোগ প্রতিরোধ সক্ষম হবে শরীর। চোখ খারাপ থেকে শুরু করে অন্ধত্ব অবধি হয় শুধুমাত্র এই ডায়াবেটিসের কারনে। প্রতিদিনের ধুলোবালি,নোংরা থেকে চোখকে পরিষ্কার রাখতে দুবেলা চোখে ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিন। এতে চোখের আরাম মেলে।

আমেরিকার চক্ষু বিজ্ঞানীরা এই পরামর্শ দিচ্ছেন যে ছত্রাক ঘটিত বিভিন্ন সমস্যাই চোখে দেখা দেয়। এগুলো থেকে রেটিনাকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। রেটিনার অবনতি ঘটায় এরম একটি রোগ হল ম্যাকুলার অবক্ষয়(এ এমডি)। নানাকারনে চোখের চাপ বাড়ার জন্য অপটিক নার্ভ এর ক্ষতি সাধিত হয়। দৃষ্টি ঠিকঠাক ও পেশীর গতিবিধি চেক করুন।

এছাড়া ঘরোয়া চমৎকার উপায় আছে চোখকে ভালো রাখার জন্য। শাকসবজি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় যুক্ত করুন। এতে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লুটিন ও জেক্সানথিন নামক উপাদান থাকে,যা এ এমডি র ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়। ভিটামিন -E ও ভিটামিন -C জাতীয় খাবার প্রচুর পরিমানে খেতে হবে। এছাড়া ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবারও আজই খেতে শুরু করুন।

অনেকেই হয়তো শুনেছেন,গাজর চোখের পক্ষে দারুণ ভালো। হ্যাঁ এটা সত্যি। একটি গবেষণায় লক্ষ্য করা গেছে যে, যতজন মহিলা প্রতি সপ্তাহে দুটো করে গাজর খান, তাদের গ্লুকোমার রিস্ক ৬৪ শতাংশ কমে গেছে। তাছাড়া গাজরে অধিক মাত্রায় থাকে বিটা ক্যারোটিন, যা রাতে দৃষ্টি শক্তি আরো বেশি বাড়িয়ে দেয়।

অনেক মহিলা মেনোপজ এর পরে বা আগে চোখে শুষ্কতা অনুভব করে, এগুলো নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার এর সাথে পরামর্শ করুন। তারা কিছু চোখের ড্রপ দেবেন, সেগুলো ব্যবহার করলেই আর কোনো সমস্যা থাকবে না।