ছোটদের কিভাবে পরিবেশ রক্ষার পাঠ দেবেন?

Préservation de l'environnement, non à la déforestation sans replantation
© Sarayut Thaneerat | Dreamstime.com

আমাদের জীবনের অন্যতম সেরা উপহার হল এই পৃথিবী, আমাদের জন্মভূমি। জীবনধারণের জন্য যা পেয়েছি তা সবই এই পরিবেশ থেকে নেওয়া। সময় পেরিয়েছে, চাহিদাও বেড়েছে। সামাজিক, রাজনৈতিক , অর্থনীতি সমস্ত দিক দিয়েই আজ পৃথিবী উন্নত। বিজ্ঞানের ভাবধারা তুমুল গতি নিয়ে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও যা প্রয়োজন এই পরিবেশ থেকে তা যাতে পাওয়া যায় তার জন্য আমাদের এই সুন্দর পরিবেশকে ধরে রাখতে হবে। প্রয়োজনের তাগিদে নানা উপাদান এত বাড়ছে যে তা পরিবেশের ভারসাম্য তে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। যেমন প্লাস্টিক এত বেড়ে গেছে যে তার পুনরায় ব্যবহার চালু না করলে পরিবেশের সমূহ ক্ষতি হবে। এর বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব উপাদানের ব্যবহার বাড়াতে হবে। 

দূষণ যোদ্ধা

পরিবেশের যত্ন নেওয়ার বিষয়ে আমাদের প্রত্যেককেই সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। যেখানে সেখানে প্লাস্টিকের প্যাকেট বোতল না ফেলে, কোনো নির্দিষ্ট জায়গাকে বেছে নিয়ে সবাইকে ওই এক জায়গায় জমা করতে হবে। নিজে সতর্ক হন এবং সবাইকে সতর্ক করুন। 

পৃথিবীকে দূষণমুক্ত করার দায়িত্ব আমাদের প্রত্যেকেরই। আমরা যেমন প্রকৃতির থেকে বিভিন্নভাবে লাভবান হই তেমনই প্রকৃতিকেও কিছু ফেরত দিতে হবে। সেজন্যই প্রকৃতিকে চিরসবুজ রাখা আমাদের কর্তব্য। 

প্রকৃতি আমাদের সৃষ্টির পথকে উন্মোচিত করেছে। ভাবলে দেখা যায় প্রকৃতি অদ্ভুত সব উপাদান আর ব্যবহারের উপযোগী জিনিসে ভরপুর। কি না আছে এতে! সুন্দর দৃশ্য, খাদ্য, আশ্রয়ের সম্ভার এই প্রকৃতি। তাই আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যাতে কোনো কিছুতেই যেন ইকো সিস্টেম নষ্ট না হয়।

সেরকমই সাতটি উপায় অবলম্বনীয়:

যেটুকু দরকার আলোর সেটুকুই ব্যবহার করুন। ঘর থেকে বেরোনোর সময় অবশ্যই লাইট, পাখা বন্ধ করে আসুন।

বায়োডিগ্রেডেবেল জিনিস ব্যবহার করুন। কারণ কিছু বছর থাকার পর এই বায়োডিগ্রেডেবেল জিনিস মাটির সাথে বিয়োজিত হয়ে একেবারে মিশে যায়। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য ও আপনার ব্যবহার দুটোই স্বাভাবিক ভাবে মিটে যাবে।

পুনর্ব্যবহার করা শুরু করুন। যেকোনো প্লাস্টিকের জিনিস নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলুন ও পরে তাকে পুর্নব্যবহার যোগ্য করতে পাঠিয়ে দিন। এভাবে একই জিনিস ব্যবহার করলে নিয়ন্ত্রণ আনা যাবে। এতে প্রকৃতির অনেকটাই ক্ষতি কমানো যাবে।

রাস্তাঘাট বা বাড়িতেই জলের কল অযথা খুলে রাখা থাকে। শুধু শুধু জল পড়ে নষ্ট হয়। পানীয় জলের ভান্ডার দিন দিন কমে আসছে, তার ওপর এভাবে জল নষ্ট করলে আমাদের মতো নদীমাতৃক দেশেও জলকষ্ট দেখা যাবে। যেটুকু দরকার সেটুকুই জল ব্যাবহার করুন আর কাজ হয়ে গেলে জলের ট্যাপ বন্ধ করুন।

বাইরে গেলে বারবার জলের বোতল না কিনে এমন একটি বোতল কিনবেন যেটা আপনি বেশ কিছুদিন ব্যাবহার করতে পারবেন।

শপিং করতে বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে বাজারে গেলে বারবার প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার না করে একই ব্যাগ সাথে নিয়ে যান।

আল্লাহ তা’আলা এই সমগ্র পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা। তাঁর এই সুন্দর সৃষ্টিকে যত্ন করা প্রতিটি মুসলিম মানুষের দায়িত্ব। এই প্রকৃতি সহ সমস্ত সুন্দর সৃষ্টিকে রক্ষার ভার তিনি দিয়েছেন সমগ্র মানুষ জাতিকে, তাই আমাদের তা পালন করা অবশ্যকর্তব্য। পরবর্তী প্রজন্ম যাতে একটা সুস্থ পৃথিবীতে শ্বাস নিতে পারে সেই দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে।