জাতীয় শিশু-কিশোর নাট্য উৎসব

সন্ধান Omar Faruque ২০-সেপ্টে.-২০১৯

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও পিপলস থিয়েটার এসোসিয়েশন’র যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত শিশুদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ নাট্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব ‘চতুর্দশ জাতীয় শিশু-কিশোর নাট্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব ২০১৯’। ৬৪ জেলার সাংস্কৃতিক দল এবং ৯৪টি শিশু নাট্য সংগঠনের দশ হাজারেরও বেশি শিশুর অংশগ্রহণে ২০-২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এই উৎসবে ৯৪টি শিশু নাট্যদলের পরিবেশনা উপস্থাপিত হবে।

একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা, জাতীয় চিত্রশালা, জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তন ও একাডেমি প্রাঙ্গণসহ প্রতিদিন ৮টি ভেন্যুতে ৯টি জেলার ৮৫টি পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে। ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৯ বিকাল ৪টায় শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। থাকবে আনন্দ র‌্যালি, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার, আইটিআই বিশ্বকেন্দ্রের সম্মানিত সভাপতি রামেন্দু মজুমদার এবং বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারী জেনারেল কামাল বায়েজীদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও পিপলস থিয়েটার এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা লিয়াকত আলী লাকী।

সারাদেশ থেকে আগত শিশু-কিশোর শিল্পীরা পরিবেশন করবেন নাটক, একক অভিনয়, স্কুল থিয়েটার, সঙ্গীত,নৃত্য, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন এবং ৭ই মার্চের ভাষণ। আগত শিশুদের জন্য থাকবে অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র কর্মশালা, নাট্য কর্মশালা, পাপেট থিয়েটার, ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাট্য, পাপেট নির্মাণ কর্মশালা, যাদু প্রদর্শনী, বঙ্গবন্ধু পুষ্পকানন নির্মাণ, মঞ্চকুঁড়ি পদক, তনয় শিশু নাট্য পদক, শিশু আনন্দমেলা এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের পরিবেশনা।

শিশুরাই জাতির আশা ও ভবিষ্যৎ। শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে শিশুরা পরিপূর্ণ মানুষরূপে গড়ে উঠতে পারে। আজকের শিশুরাই ২০৪১ এর উন্নত বাংলাদেশ গড়তে ভূমিকা পালন করবে। এই উৎসবের মাধ্যমে শিশু নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি শিল্প সংস্কৃতি ঋদ্ধ সৃজনশীল মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষে নিয়মিত কাজ করে চলেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কর্মকাণ্ড ৬৪ জেলা থেকে ৪৯৩ উপজেলা পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে।

পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশন ও এর সহযোগী প্রায় ২৫০টি শিশু নাট্যদল সারাদেশে নাটক মঞ্চায়নসহ নিয়মিতভাবে নাট্যচর্চা করে আসছে। শুধু দেশে নয় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের শিশু নাটক এখন প্রায় সুপ্রতিষ্ঠিত। এক্ষেত্রে পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশন এককভাবে ২৮ বছর ধরে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। এই সংগঠন ১৯৯৫ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ১৩টি ‘জাতীয় শিশু-কিশোর নাট্য উৎসব, ১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিশু-কিশোর নাট্যোৎসব’ও ১টি ‘আন্তর্জাতিক শিশু-কিশোর নাট্যোৎসব’ আয়োজন করেছে। বিভিন্ন জেলায় পরিচালনা করেছে আঞ্চলিক শিশু নাট্য কর্মশালা এবং বিভাগীয় শিশু-কিশোর নাট্যোৎসব। এ যাবত প্রায় ৭০টি আন্তর্জাতিক শিশু নাট্যোৎসবে অংশগ্রহণ করেছে  পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত বিভিন্ন শিশু নাট্যদল। শিশুনাট্য কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘শিশু নাট্য পদক’ ছাড়াও পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশন মেধাবী শিশু-কিশোরদের জন্য ‘মঞ্চুকুঁড়ি’,‘মঞ্চমুকুল’ ও ‘মঞ্চসেনা’ পদক প্রদান করছে।

অধুনা সারাদেশে চলছে স্কুল পর্যায়ে শিশুনাট্য কর্মসূচি। শিশুদের জন্য শিশুদের অভিনীত নাটক ছাড়াও বিশ্বের উন্নত দেশসমূহের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশের শিশুদের জন্য বড়দের নাটক মঞ্চায়নের ধারাও তৈরী করেছে। এছাড়া কেবলমাত্র যুবক-যুবতীদের জন্য তাদের উপযোগী যুব নাট্যচর্চার একটি নতুন ধারা প্রবর্তন করেছে পিপলস থিয়েটার এসোসিয়েশন।

 

Source: The Independent

Photo: Collected