SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

জানেন কি কীভাবে কিউবায় ছড়িয়ে পড়ছে ইসলামের সমৃদ্ধি?

আমেরিকা ৩১ জানু. ২০২১
ফিচার
কিউবায়
© Hel080808 | Dreamstime.com

সালটা ২০০৯, ফিদেল কাস্ত্রো তখনও বেঁচে। কিউবায় রাস্তায় রাস্তায় তখনও বিপ্লবের স্মৃতি প্রবহমান। আমি ধীরপায়ে ওব্রাপিয়ার বুলেভার্ডে প্রবেশ করলাম। আমার গন্তব্য সেদিন ছিল কিউবার একমাত্র মসজিদের উদ্দেশ্যে। চিত্রসাংবাদিক জোন আলভাডো সহাস্যে জানালেন আমাদের।

‘কিউবা আর ইসলাম, ভাবনায় হয়তো আসে না শুরুতেই। কিন্তু আমি যেদিন জানতে পেরেছিলাম অনবদ্য লেগেছিল। সততা আর শান্তির প্রতীক ইসলাম, আর বিপ্লব ও সততাকেই স্থাপন করতে চায়। সেদিন থেকেই সিদ্ধান্ত নিলাম আমার এই ক্যামেরায় সব কিছুর সঙ্গে কিউবার ইসলামের বিবরণও সংগ্রহ করে রাখব।’

বাস্তবিকই তিনি তা করেছেন। অন্যান্য যে সমস্ত চিত্র সাংবাদিকরা কিউবার ছবি তোলেন, তার মধ্যে প্রধান উপজীব্য থাকে আলো ঝলমলে রাস্তা, উজ্জ্বল রঙের বাড়ি, নতুন মডেলের গাড়ি ইত্যাদি। কিন্তু জোন শুধুমাত্র কিউবার ইসলাম ধর্মাবলম্বি মানুষদের নিয়ে অনুপম একটি চিত্র সংকলন তৈরি করেছেন। প্রতিটি ছবির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে ইসলাম ধর্মের নানা আঙ্গিক ও ধরন।

কিউবায় ইসলাম

আপাতভাবে দেখলে অবশ্য কিউবার জনসংখ্যার ৮৫ শতাংশ ক্যাথলিক, কিন্তু ইসলামের শান্তিপূর্ণ জীবনবোধ মানুষকে ক্রমশ আকৃষ্ট করছে। ২০১১ সালে পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক সমীক্ষায় জানা যায়, কিউবার জনসংখ্যায় ০.১ শতাংশ মুসলমান। কিন্তু ২০১২ সালে সেই একই সমীক্ষার রিপোর্ট বলে ইসলামী জনসংখ্যার বেশিরভাগ মানুষই কিন্তু ক্যাথলিক থেকে ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম হয়েছেন। অর্থাৎ, ইসলাম তাঁদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

জোন আলভাডোর মতে কিউবার মানুষের ইসলামের প্রতি ঝুঁকে পড়ার বিবিধ কারণ রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন পৃথিবীতে ইসলামই একমাত্র পবিত্র ও সৎ ধর্ম। বাকিদের ব্যক্তিগত কোণও প্রভাবের কারণে ইসলামের প্রতি প্রীতি জন্মেছে। অর্থাৎ, আদর্শগত কারণ ও ব্যক্তিগত অনুভব, দুইয়ের মেলবন্ধনে কিউবায় ইসলামের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তবে এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই যে এইটুকু পথ আসতে ইসলামে বিশ্বাসী মানুষদের অনেকটা লড়াই করতে হয়েছে। একটা সময় কিউবাতে উপাসনা করার মতো একটি মসজিদ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর ছিল। তবে, বর্তমানে, জোনের মতে, কিউবার মুসলমানরা ইসলাম সম্পর্কে জানছে এবং একসঙ্গে উন্নত হচ্ছে।

‘খুব ছোট ছোট জনসমাবেশের মাধ্যমে এখানে ইসলামের প্রচার হয়। সাধারণত জুম্মাবারে কারোর বাড়িতে হয়তো একটি সমাবেশ আয়োজিত হল। সেখানেই প্রার্থনা ও ইসলামের প্রিয় নবীর জীবন নিয়ে আলোচনা হয়।’ নিজের অভিজ্ঞতা আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন তরুণ এই চিত্রসাংবাদিক। ‘ আমি প্রথমে বুঝে উঠতে পারিনি আমার ছবি তোলার বিষয় এখানকার মানুষের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে। কিন্তু আমার এতদিনের অভিজ্ঞতায় এখন আমি জানি, কিউবার মানুষদের ইসলামের প্রতি ভালবাসা কখনও প্রকৃত ইসলামী কোনও দেশকেও হয়তো ছাপিয়ে যায়।’

ইসলামের প্রসারের কারণ

সোশ্যাল সায়েন্সের গবেষকদের মতে, বিল্পবের পরে কিউবার শিক্ষাক্ষেত্রে অনবদ্য পরিবর্তন এসেছিল। সেই সময়েই অন্যান্য দেশের মতো নানা ইসলামী দেশ থেকেও ছাত্র ছাত্রীরা কিউবায় পা রাখে। প্রাথমিকভাবে ১৫০০-২০০০ মুসলমান ছাত্র পা রাখে কিউবায়। সেখান থেকে ধীরে ধীরে ১৯৭০ এর পরবর্তী সময়ে ইসলামের প্রসার শুরু হয়।

২০০১ সালে মুসলিম ওয়র্লড লিগের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল শেখ মুহাম্মদ বিন নাসির আল আবোদি কিউবার সরকারের কাছে অনুমতি নিয়ে একটি ইসলামিক কমিউনিটি অর্গানাইজেশন স্থাপন করেন। এই সংস্থার মূল উদ্দেশ্য ছিল কিউবান মুসলমানদের জন্য মসজিদ, সেমিনারী ইত্যাদি স্থাপন করা।

২০১৫ এর জুলাই মাসে ‘টার্কিশ রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স ফাউন্ডেশন’ কিউবার মুসলমানদের জন্য একটি উপাসনা গৃহ স্থাপন করে। বর্তমানে ইন্টারনেটের মাধ্যমেই ইসলামের বানী প্রচার হয় কিউবায়। কুরআন ছাড়া আর কোনও ইসলামী বই সম্পর্কে সেখানকার মানুষ এখনও অবগত নয়, কিন্তু অদম্য তাঁদের শেখার ইচ্ছা।

‘ কিউবার মুসলমানেরা প্রত্যেকেই আসলে নিজের মতো করে ইসলামকে অনুধাবন করতে চায়। সেখানেই ইসলাম সকলের অস্তিত্বের সঙ্গে মিলে মিশে এক হয়ে যায়।’ জোন আলভাডোর সরল স্বীকারোক্তি কোথাও গিয়ে আমাদেরও ছুঁয়ে ফেলে যেন।