SalamWebToday নিউজলেটার
সালামওয়েবটুডে থেকে সাপ্তাহিক নিবন্ধ পাওয়ার জন্য সাইন আপ করুন
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

জানেন কি কোন রহস্য লুকিয়ে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের তারবাদ্য ঊদ বা অঊদে?

শিল্প ২৩ নভে. ২০২০
অউদ

মধ্যপ্রাচ্যের রহস্যময় বাদ্যযন্ত্র ও সঙ্গীত বহুযুগ ধরেই পশ্চিমা সভ্যতাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছে। বিশেষ করে বলতে হয় উদ বা অউদ বাদ্যযন্ত্রটির কথা, যাকে সহজেই ইউরোপীয় তারবাদ্যের পূর্বপুরুষ হিসাবে কল্পনা করা যায়। মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ করে আরব দেশের বাদ্যযন্ত্রের রাজ্যে অউদের ভূমিকা রাজকীয়। প্রাচীন ও চিরাচরিত আরবীয় সঙ্গীত জগতে অউদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। খানিক কল্পনা শিকটি থাকলেই যেন দেখা যায়, দুস্তর মরুভূমির মধ্যে উটের চামড়ার তাঁবুর সামনে বসে এই নবীন আরব বেদুয়িন অউদের ছর টেনে বাজিয়ে যাচ্ছে রহস্যময় বাজনা, মরুভূমির নৈঃশব্দ্যে সেই বাজনা অন্য এক মর্মার্থ এনে দিচ্ছে।

কোথা থেকে এল অঊদ ?

আরবী ভাষায় অঊদ শব্দটির অর্থ নমনীয় গাছের ডাল, আপাদমস্তক কাঠ দিয়ে তৈরি এই যন্ত্রের নামকরণ এখানেই সার্থক। মূলত আগরুদ গাছের সুগন্ধি কাঠ থেকে এই যন্ত্র তৈরি হয়, প্রাচীনকালে ভেড়ার ক্ষুদ্রান্ত্র দিয়ে এই যন্ত্রের তার তৈরি করা হত। অনেক ঐতিহাসিকের ধারণা অঊদকে সহজেই ইউরোপীয় গিটারের প্রপিতামহ বলা চলে।

ঐতিহাসিকরা গবেষণা করে দেখেছেন, খ্রিস্টপূর্ব প্রথম ও দ্বিতীয় শতক থেকেই আরব সংস্কৃতিতে অঊদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিভিন্ন ধর্ম গ্রন্থ ও ঐতিহাসিক গল্পে অঊদের ব্যাপারে জানা গিয়েছে।

বিশেষ করে চতুর্দশ শতকের দুজন ঐতিহাসিক, আবু আল ফিদা ও আবু আল ওয়ালিদ ইবন শিনাহ মনে করেন খ্রিস্টপুর্ব ৭২ থেকে ২৪১ সনে, সুলতান শাহপুরের শাসনকালে অঊদ আরবদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

আবিষ্কার সংক্রান্ত মতবাদ

ইবন শিনাহের মতে, আল্লাহর উপাসনা ও বন্দনার দরুন উলেমা , মৌলবি ও সঙ্গীতজ্ঞদের সমবেত চেষ্টায় অঊদের আবিষ্কার। এছাড়া আরেকটা মতবাদ হল মরুযাত্রার একঘেয়েমি ও ভয় কাটাতে সঙ্গীতের জুড়ি নেই, সেই জন্যই সামান্য গাছের কাঠ ও ভেড়ার অন্ত্র দিয়ে একদল বেদুয়িন বানিয়েছিল প্রথম অঊদ। আল্লাহর রহমতে সেই যন্ত্রের ধ্বনি এত মধুর হয়ে উঠল যে সারা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ল তার কথা।

অনেক ঐতিহাসিকের মতে, ইরানের সাসানাইদ যুগে অঊদের আবিষ্কার। দশম থেকে সপ্তদশ শতকের মধ্যে ইরানে অউড নিয়ে প্রচুর পরীক্ষা হয়। প্রথমে সিদ্ধান্ত হয়েছিল অন্যন্য তারের বাজনার মতো এটাতেও ঘাত বা ফ্রেট রাখা হবে। কিন্তু শেষ অবধি এই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।

যন্ত্রের খুঁটিনাটি

বাদ্যযন্ত্র হিসাবে অঊদের ওজন বেশ কম। মাঝারি দৈর্ঘ্যের এই যন্ত্রটির গড়ন অনেকটা ন্যাসপাতির মতো।

সাধারণত এগারোটি তার থাকেই এই যন্ত্রে, দশটি একে অপরের সঙ্গে জুটি হিসাবে থাকে আর এগারো নম্বরটি আলাদা বাজানো হয়। এই তারটি সাধারণত মাত্রামাপক হিসাবে ব্যবহৃত হয়। অঊদের তারের বিশেষত্ব হল অত্যন্ত শক্ত ভাবে এই তার বাধা হয়, ফলে বেশিরভাগ সময়েই বেশ রহস্যময় ধ্বনি শোনা যায়।

সাধারণত যেকোনো তারবাদ্যের কাঠের বেসে একটি মাত্র বড় গোলাকার গর্ত দেখা যায়, এই গর্তের মাধ্যমে যন্ত্রের ভারসাম্য বজায় থাকে। একমাত্র অউদেই রয়েছে এরকম তিনখানা গর্ত। মাঝখানের গর্তটি সূর্যর প্রতীক। বাকি দুটো যথাক্রমে চাঁদের প্রতীক।

ইসলামের কাছে আল্লাহর উপাসনার জন্য ও আল্লাহর নাম নেওয়া হয় এমন সঙ্গীত হালাল, অউদ সেই সঙ্গীতে সুমধুর ধ্বনির যোগান দেয় মাত্র।