জানেন কী নুন দেওয়া গোলাপী চা দিয়ে রোজা ভাঙেন কাশ্মীরীরা

Pink tea Set

সারা বিশ্বে চা একটি জনপ্রিয় পানীয়। সাধারণত দেখা যায় যে, সকালে ঘুম থেকে উঠে মানুষজন বাদামী রঙের দুধ চা খেয়ে থাকে। চায়ের অনেক ধরন রয়েছে। কিন্তু আপনি জানেন কি পৃথিবীর ভূস্বর্গ হিসেবে পরিচিত কাশ্মীরে গোলাপি রঙের এক ধরনের ঐতিহ্যবাহী চা রয়েছে। সত্যিকার অর্থে কোথা থেকে এই চায়ের উদ্ভব হয়েছে তা অনেকেরই অজানা। বহুকাল ধরে কাশ্মীরের বাসিন্দারা এই গোলাপি চা পান করে আসছে এবং এটি তাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

কাশ্মীরের লবণযুক্ত এই গোলাপি রঙের চা এর নাম নুন চায়। কাশ্মীরিরা সাধারণত এটি অবসর সময়ে কাজের ফাঁকে ফাঁকে পান করে থাকেন। একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় তারা এই চা প্রস্তুত করে। চা পাতা, দুধ, লবণ, পেস্তা, বাদাম, এলাচ এবং দারচিনি এক সাথে মিশিয়ে সামোভার নামক একটি বিশেষ পাত্রে চা টি রান্না করা হয়। এই সামোভারের মধ্যই আছে আসল জাদু যা চায়ের স্বাদকে অসাধারণ করে দেয়। এই যে চা তৈরির পাত্র সেটা একমাত্র কাশ্মীরেই পাওয়া যায়। গোলাপি রঙের আভা ফুটিয়ে তোলার জন্য এতে একটু খানি বেকিং সোডাও মেশানো হয়। তারপর এর মধ্যে জল মিশিয়ে কাঠ কয়লার আগুনে জ্বাল দেয়া। চা যত গরম হয় খেতে তত স্বাদ হয়।

পাকিস্তানের অনেক জায়গায় বিয়ে এবং বিশেষ অনুষ্ঠানাদিতে অতিথিদের মাঝে এই চা পরিবেশন করতে দেখা যায়। কাশ্মীরে রমজান মাসে ইফতারে খাবারের তালিকা এইটা থাকবেই। তারা সাধারণত এই চা পান করে তাদের ইফতার শুরু করে। এমনকি তারা সেহরিতে বিশেষ একপ্রকার রুটির সাথে এই চা খেয়ে থাকে। কাশ্মীরিরা বিশ্বাস করে যে, এই চা তাদেরকে শীত থেকে রক্ষা করে এবং শরীরকে সতেজ রাখে। এর স্বাদ মন ভালো করে দেয়। শরীরের জড়তা কাটায়।

শহরাঞ্চলের থেকে বেশি গ্রামীণ অংশে, যেখানে চাষাবাদ করেই মানুষ জীবনযাপন করেন, তাদের মধ্যে এই ছাপ পান করার প্রচলন বেশি রয়েছে। বয়ঃজ্যেষ্ঠরা যে কোন রোজা ভঙ্গ করেন এই চা পান করে।

স্বাস্থ্য সুবিধাসমুহ

কাশ্মীরি চা তৈরিতে ব্যবহৃত গ্রিন টি পাতাগুলি হ’ল ক্যামেলিয়া সিনেসিস গোত্রের উদ্ভিদ। এটি রোজাদারদের শরীরের জন্য দারুন উপকারী হতে পারে। কারণ এটিতে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যা, রক্তের জমাট বাধা প্রতিরোধ করে এবং হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা হ্রাস করে।

চায়ের একটি অ্যামিনো অ্যাসিড উপাদান এল-থানানাইন যা উদ্বেগের মাত্রা হ্রাস করতে সহায়ক।

রমজানের সময় সাধারণত হজমশক্তি একটু দুর্বল হয়। অন্যদিকে সারাদিন উপোস থাকার পর ইফতারে খাওয়ার ফলে পেটের পীড়া দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে এই চা অন্ত্রের কোষগুলোকে কার্যকর রাখে এবং পেটের পীড়া দূর করে।

এর পাশাপাশি এটিতে থাকা মায়ালজিক ব্যাথা কমাতে দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এতে দারুচিনি থাকার কারণে হাড়ের ব্যথা উপশম হতে পারে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই চা টিউমার প্রতিরোধের দারুণ কার্যকর।

রক্তাল্পতা রোগে আক্রান্ত রোগীদের এই চা পান না করাই ভালো। কারণ এটিতে রয়েছে পলিফেনলিকস যা যার শরীরে আর মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং আয়রন শোষণকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই এই চা পানে সংযমী হওয়া উচিত। দিনে চার কাপের বেশি এই চা চলবে না। খুব গরম তাপমাত্রার পানীয় হওয়ার ফলে এই চা বেশি পান করলে গলা এবং অন্ত্রের ক্যানসারের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। মনে রাখবেন, সংযম হ’ল একজন মানুষের সুস্বাস্থ্যের মূল চাবিকাঠি।

পরিশেষে বলা যায় যে, কাশ্মীরিদের দীর্ঘ ঐত্যিহের সাথে জড়িয়ে রয়েছে এই চা। অন্যান চায়ের সাথে এর মূল পার্থক্য হল এর রয়েছে দারুণ সব স্বাস্থ্য উপকারিতা। আর এত সকল গুণাবলীর জন্য চা প্রেমীদের কাছে গোলাপী চা বা কাশ্মিরী গোলাপী চা খুবই জনপ্রিয়।

 

 

তথ্যসূত্র:

রঞ্জিতা মুন্ধরা। ম্যাজিকাল কাশ্মীরি কাহওয়া চা। Storify.com। জুলাই ২০১৫ থেকে সংকলন করা হয়েছে: https://storify.com/ranjitamundhra/the-maजिक-काशমিরি- kahwa-tea

অমল খান। গোলাপী চই। Instructables.com। জুলাই ২০১৫ থেকে সংকলন করা: http://www.instructables.com/id/Pink-Chai/

চায়ের চা ইতিহাস এবং ঐতিহ্যবাহী – শক্তিশালী পাতার চা। Mightyleaf.com জুলাই ২০১৫ থেকে সংকল করা হয়েছে: https://www.mightyleaf.com/tea-tips-chai-tea-history-and-traditions/

ফিশ টেলস কাশ্মীরের প্রশংসায়: চই, কাশ্মীরি স্টাইল। ডিসেম্বর ১৯, ২০০৫।

A.B. Sharangi। চায়ের ওষধি ও থেরাপিউটিক সম্ভাব্যতা (ক্যামেলিয়া সিনেসিস এল।) মশলা এবং বৃক্ষরোপণ শস্য বিভাগ, উদ্যানতত্ত্ব অনুষদ, বিধানচন্দ্র কৃষ্ণ বিশ্ব বিদ্যালয়, মোহনপুর ১৪১ ২৫২, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। ১১ জানুয়ারী ২০০৯ গৃহীত হয়েছে। Http://www.7starsma.com/images/TEA-Article-13.pdf থেকে প্রাপ্ত

চায়ের ইতিহাস। আরজু অনলাইন ম্যাগাজিন। আগস্ট 2008।