জিন্দার শহর: আফ্রিকার ইতিহাসে ইসলামী জীবনযাপন

আফ্রিকা Contributor
জানা-অজানা
জিন্দার শহর

আফ্রিকার ইতিহাসে নাইজারের জিন্দার শহর ও সেটির স্থাপত্যগুলি অসামান্য প্রভাব বিস্তার করে। কানেম বোর্নু ও হাউসা ফুলানি সাম্রাজ্যের ইতিহাস, জীবন যাপন এবং ছোট্ট জনপদ থেকে ধীরে ধীরে বৃহৎ ইসলামী সাম্রাজ্য হয়ে ওঠার খতিয়ান যেন লেখা রয়েছে এই শহরে। এখনও এখানকার মানুষের শরীরে বইছে ইসলামী রাজরক্ত।

জিন্দার শহর ও ইতিহাসে তার ভূমিকা

পঞ্চদশ শতক থেকেই নাইজার নদী ও চাদ হ্রদের মধ্যবর্তী অঞ্চলে হাউসা ইসলামী সাম্রাজ্যের একের পর এক শহর গড়ে ওঠে। এই হাউসা জনজাতি ছিল অসামান্য বণিক ও শিল্পী। জিন্দার তখন ছিল ছোট্ট এক হাউসা জনপদ।

পরবর্তীকালে কানুরিরা জিন্দার দখল করে দামাগরম প্রদেশের অন্তর্গত করে নেয়। সেই সময় কানুরিরা কানেম বোর্নু সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। সুতরাং, হাউসাদের থেকে জিন্দার হাত বদল হয়ে কানেম বোর্নু সাম্রাজ্যের অংশ হয়ে ওঠে।

কানেম বোর্নুদের হাত ধরে দামাগরম প্রদেশ ক্রমশ উন্নত হতে থাকে। একের পর এক বোর্নু অঞ্চল অধীনস্থ করে দামাগরম। এই সময়েই জিন্দার শহর হয়ে ওঠে দামাগরম প্রদেশের রাজধানী। গুরুত্বপুর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র হওয়ার কারণে বণিক ও শাসক, দুজনের কাছেই এই শহরের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেতে থাকে।

জিন্দার ক্রমশ শিক্ষা ও সংস্কৃতি কেন্দ্রও হয়ে ওঠে। টিমবাকটু শহর থেকে অজস্র পণ্ডিত ও তুয়ারেগ জনজাতির মানুষ এ শহরে বসবাস করতে শুরু করে। তুয়ারেগদের জন্য এ শহরে আলাদা করে থাকার জায়গা ছিল। তবে, তারা থাকত শহরের নব্য নির্মিত অংশে। হাউসা জনজাতির মানুষরা তখনও জিন্দার শহরের পুরনো অংশেই বসবাস করত।

১৮০০ শতকের মধ্যভাগের মধ্যে প্রায় ৭০০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকার রাজধানী হয়ে ওঠে জিন্দার। তবে, ১৮৯০ সনে ফরাসীরা এই শহরের দখল নিয়ে নেয়। জিন্দার শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরের এক স্থানে ফরাসীদের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় দামাগরমের শাসকের। এই যুদ্ধে ফরাসীরা জয়লাভ করে।

১৯২৭ পর্যন্ত ফরাসী উপনিবেশের রাজধানী ছিল জিন্দার। তারপর রাজধানী স্থানান্তরিত হলেও এই শহর এখনও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

শহরের দর্শনীয় স্থান

বর্তমানে, নাইজার প্রদেশের দ্বিতীয় গুরুত্বপুর্ণ শহর ধরা হয় আধুনিক জিন্দারকে। মূল শহরের মধ্যবর্তী অঞ্চলে প্রাচীন জিন্দার শহরের ধ্বংসাবশেষ এখনও দেখা যায়। প্রাচীন শহরের গঠন গোলাকৃতি। মূলত একতলা বাড়ি ও তার পাশে সরু রাস্তা, এইভাবেই প্রাচীন শহরটি গঠিত ছিল। বাড়িগুলির গায়ে অপূর্ব সুন্দর কারুকাজ করা ছিল। তবে সবচেয়ে চোখ টানে যে ব্যাপার তা হল প্রতিটি বাড়ি গাছপালা দিয়ে ঘেরা।

জিন্দার শহর ও তার আশপাশে রয়েছে অজস্র মাদ্রাসা। এখানে ছোট বড় সকলে কুরআন ও হাদিসের পাঠ নিতে পারে।

শহরের মাঝখানে রয়েছে জিন্দার মসজিদ। এত অপুর্ব তার বিন্যাস ও রঙ যে পর্যটককে খানিকক্ষণ থমকে দাঁড়িয়ে দেখতে হবে। মসজিদের পাশেই সুপ্রাচীন বাজার। কুটির শিল্প ও ক্ষুদ্রশিল্পের আরত বলা চলে সেই বাজারকে।

বর্তমানে জিন্দারের যিনি আধিকারিক, তিনি থাকেন পুরনো শহরে। এখনও আফ্রিকার ইসলামী সাম্রাজ্যের নানা আচার অনুষ্ঠান পালন করেন তিনি। তাঁর প্রাসাদটি অনবদ্য সুন্দর। মূলত হাউসা জনজাতির বাড়ির আকারে তৈরি এই প্রাসাদের দেওয়ালে কাঠের অপূর্ব কারুকাজ রয়েছে। যদিও প্রাসাদে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষেধ, কিন্তু পর্যটকদের জন্য একটি নির্দিষ্ট অংশ খুলে দেওয়া রয়েছে। খুব স্বল্প মূল্যে তা দর্শন করা যায়।

আফ্রিকার সমাজ ও জীবনে ইসলামের প্রভাব অপরিসীম। জিন্দার শহর সেই সাক্ষ্যই দেয় নিখুঁতভাবে।

Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.
Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.
Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.