জীবনকে পরিপূর্ণরূপে বাঁচতে কী প্রয়োজন?

জীবন সম্পর্কে সকল মানুষের একই মনোভাব থাকে: আমরা জীবন থেকে সেরাটি চাই। এবং আমরা যথাসম্ভব আরামদায়কভাবে বাঁচতে চাই, যথাসম্ভব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাই।

আমরা পূর্ণরূপে জীবনযাপন করতে চাই এবং জীবনকে সর্বোত্তমরূপে ব্যবহারের লক্ষ্যে থাকি। এবং আমরা জীবন থেকে কোনোকিছু বাদ দিতে চাই না।

যাইহোক, মানুষকে যে জিনিসটি আলাদা করে তোলে তা হল দৃষ্টিভঙ্গি এবং জীবনের লক্ষ্য। কেন আমরা জীবন থেকে সেরাটি চাই? আমাদের কর্ম এবং সিদ্ধান্তের পিছনে চালিকাশক্তিটি কী? এবং এই জীবনের পরে আমরা কিসের আশা করি?

দুনিয়া সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

মুসলমান হিসাবে আমরা বিশ্বাস করি যে, এই দুনিয়াবি জীবন আসলে সব কিছু নয়। আমরা বিশ্বাস করি যে, মৃত্যুর পরেই আমাদের প্রকৃত জীবন শুরু হবে। এবং আমরা জান্নাতে বিশ্বাস করি। আমরা আল্লাহকে এবং তাঁর সকল বাণীকে বিশ্বাস করি।

তবে একই সাথে আমরা এমন এক সমাজে বাস করি যেখানে বেশিরভাগ মানুষই মৃত্যুর কথা চিন্তা করতে চায় না, যেখানে সকলেই কেবল দুনিয়াবি মুহূর্তগুলোকে উপভোগ করতে চায় এবং পরকালের প্রতি যত্নশীল হয় না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “এমনকি যদি এটি শেষ সময়ও হয় এবং তোমার হাতে একটি চারা থাকে তবে তোমার উচিত এখনই সেটি লাগানো!”

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত যে, মুসলিম হিসেবে জীবনের একটু মুহুর্তকেও আমাদের অলসভাবে কাটানো উচিত নয়।

যাইহোক, আমাদের প্রত্যেকের দৃষ্টিভঙ্গিকেই পরিবর্তন করা উচিত। এই পার্থিব জীবনকে এমনভাবে কাটানো উচিত যেন এটিই আমার জীবনের শেষ মুহুর্ত।

‘পরে করব’ এই কথাটি কখনও বলবেন না

আমরা এখনই আমাদের জীবনকে উপভোগ করতে চাই। আমরা পরের জন্য অপেক্ষা করতে চাই না। তাই আসুন ভাল কাজগুলি এখনই শুরু করা যাক! আসুন আমরা এখনই আল্লাহর সাথে আমাদের সম্পর্ককে নবায়ন করি! বৃদ্ধ এবং অকর্মণ্য হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না!

আমি এমন কয়েকজন তরুণ মুসলিম ব্যক্তির সাথে দেখা করেছি যারা আমাকে বলেছিল যে, তারা বৃদ্ধ হওয়ার পরে ইবাদত শুরু করবে এবং ইবাদতের জন্য সময় বের করবে।

কিছু অল্প বয়স্কা মুসলিম মহিলাও আমাকে বলেছিল যে, তারা বিবাহিত হওয়ার পরে পর্দা শুরু করবে। তবে শুনে রাখুন এটি খুব দেরী হতে পারে। আমরা জানি না যে, আমাদের সামনে আর কতটুকু জীবন বাকি আছে? আমরা কি আদৌ বৃদ্ধাবস্থায় পর্যন্ত পৌছাব বা আমাদের বিবাহ হওয়ার আগ পর্যন্ত কি আমরা বেঁচে থাকব?

একটি হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ অত্যন্ত সুন্দর কথা বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার দিকে এক বিঘত পরিমাণ অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক হাত পরিমাণ অগ্রসর হই। যে আমার দিকে এক হাত পরিমাণ অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দুই হাত পরিমাণ অগ্রসর হই। আর সে যখন আমার দিকে হেঁটে অগ্রসর হয়, আমি তখন তার দিকে দৌড়ে অগ্রসর হই।” (বুখারী)

তাই আসুন আজই প্রথম কদম ফেলি।

আমাদের অন্তরের মধ্যকার শূন্যতা

আমাদের হৃদয়ের ভিতরে এমন একটি জায়গা রয়েছে যা আল্লাহর প্রতি ভালবাসা ব্যতীত অন্য কোনোকিছুর দ্বারা পূর্ণ হতে পারে না। এবং যতক্ষণ আমরা আল্লাহর সাথে সত্যিকারের সম্পর্ক স্থাপন না করে স্থগিত থাকব ততক্ষণ এই শূন্যতা বিদ্যমান থাকবে।

কোনো উৎসব, কোনো উত্তেজনা, কোনো দুঃসাহসিক কাজ এই খালি জায়গাটিকে পূরণ করতে পারবে না। কেননা আল্লাহ আমাদেরকে এভাবেই সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাদের ভিতরে নিজের জন্য একটি বিশেষ জায়গা সংরক্ষণ করে রেখেছেন। এটি শুধুমাত্র তাঁর স্থান। তিনি কুরআনে বলেছেন, “বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে” (২:১৮৬)

এবং অন্য একটি আয়াতে তিনি বলেছেন যে, তিনি আমাদের গলার শিরা অপেক্ষা অধিক নিকটবর্তী।

“আর অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি এবং তার প্রবৃত্তি তাকে যে কুমন্ত্রণা দেয় তাও আমি জানি। আর আমি তার গলার ধমনী হতেও অধিক নিকটবর্তী। (৫০:১৬)

আল্লাহর সাথে আপনার সম্পর্কের সুখ উপভোগ করুন

আমরা যদি সেই জায়গাটিকে আল্লাহর প্রতি ভালবাসা দিয়ে পূর্ণ করার সিদ্ধান্ত নিই, তবে আমরা লক্ষ্য করব যে, আমাদের ভিতরকার জ্বলন্ত শূন্যতাটি দূর হতে শুরু করেছে। আমরা অনুভব করব যে, একটি ক্রমবর্ধমান তৃপ্তি এবং সুখ আমাদের জীবনকে পরিপূর্ণ করে তুলছে।

সুতরাং, আমরা যখন এই জীবনকে আল্লাহকে ভালবাসতে এবং তাঁর আনুগত্যে কাটানোর সিদ্ধান্ত নেব তখনই আমরা অন্তরে সত্যিকারের সুখ ও তৃপ্তি খুঁজে পাব।

আল্লাহই সর্বাপেক্ষা বেশি জানেন এবং তিনিই তওফিকদাতা।