জীবনে আনন্দ খুঁজে পাওয়ার ৪ উপায়

zac-durant-_6HzPU9Hyfg-unsplash
Fotoğraf: Zac Durant-Unsplash

কখনও কখনও আমরা হতবিহ্বল হয়ে পড়ি। আমরা ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত থাকি। কখনো এক মিনিট আমরা স্বস্তি অনুভব করি। আর পরের মিনিটেই আমরা হতাশায় পর্যদুস্ত হই। অনেক সময় আমাদের অনুভূতিগুলো গভীর অর্থে উপলব্ধি করতে পারি না।

কিভাবে আমরা আমাদের অনুভূতিগুলো ভাল করতে পারি? আল্লাহ আমাদেরকে এমন কোন্ প্রতিভা দিয়েছেন যা আমরা কাজে লাগাতে পারি? সক্রিয়ভাবে আমাদের ভবিষ্যতেকে সুন্দর রূপদানের জন্য আমরা কোন্ দক্ষতার বিকাশ ঘটাতে পারি?

তিনি কি আমাদেরকে সর্বকালের সেরা উপহারটি দেননি? তাঁর প্রতি আমাদের বিশ্বাস এবং তাঁর প্রতি আমাদের ভালবাসা?

আসুন জীবনের উজ্জ্বল দিকগুলির দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করি।

দক্ষতার উপহার 

আল্লাহ আমাদের যে অনুগ্রহ ও প্রতিভা দান করেছেন তা স্মরণ করুন। আসুন আমাদের চারপাশটা আমরা ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখি। অনেক সময় আমরা অসুবিধার ভিতরে এতটাই ডুবে যাই যে, আমরা জীবনের আনন্দ ও সুখ অনুভব করতে পারি না। আমাদের চারপাশের নেয়ামতগুলিকে দেখতে পাই না। আল্লাহ আমাদেরকে যে সক্ষমতা দান করেছিলেন তাও আমরা নিজের মধ্যে দেখতে পাই না।

আসুন আমরা আমাদের জীবনের আনন্দঘন মুহূর্তগুলি অনুভব করার চেষ্টা করি এবং আমাদের জীবনের প্রতিটি দিনকে আনন্দিত করার উপায় খুঁজে বের করি।

আপনি কি ভাল লিখতে বা কথা বলতে পারেন? এজন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন এবং স্বাধীন জীবন গড়তে আপনার এই দক্ষতাটিকে আরও বিকশিত করুন।আল্লাহ কি আপনাকে কম্পিউটারের দক্ষতা, হস্তশিল্পের দক্ষতা বা অন্য কোনও আশ্চর্যজনক দক্ষতা দিয়েছেন? এজন্য আপনার পালনকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ হন এবং ভবিষ্যতে আপনার উদ্বিগ্নতাকে দূরে রাখতে এই দক্ষতাটিকে ব্যবহার করুন।

আমরা যদি কেবল জীবনের নেতিবাচক দিকগুলিই দেখি তবে আমরা গভীর থেকে গভীর অন্ধকারে ডুবে যাব। তাই আসুন আমাদের দয়ালু স্রষ্টা আমাদের প্রতি যেসকল নিয়ামত বর্ষণ করছেন সে কারণে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি।

ঈমানের উপহার

আমরা যতই নিচু বোধ করি না কেন, আমাদের মনে রাখতে হবে যে আমাদেরকে একটি আশ্চর্যজনক উপহার দেওয়া হয়েছে। এই পৃথিবীতে যে কারও কাছে থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সর্বাধিক উত্তম উপহার। আল্লাহ আমাদেরকে ঈমান দান করেছেন এবং তা আমাদের হৃদয়ে গেঁথে দিয়েছেন। তিনি আমাদের হৃদয়কে ঈমান ও ভালোবাসা দিয়ে আলোকিত করে দিয়েছেন।  আসুন এই আলোকে উজ্জ্বলতর করি।

আল্লাহর প্রতি আমাদের বিশ্বাস সুখ ও আনন্দের এক আশ্চর্যজনক উত্স। আল্লাহকে নিজের জীবনে অনুভব করা আমাদের হৃদয় থেকে সমস্ত কালো অন্ধকারকে মুছে ফেলতে পারে। তাঁর দিকে ফিরে এসে আমরা শান্তি ও সন্তুষ্টি পেতে পারি।

ঈমানের আলোয় আলোকিত হয়ে অন্য মুসলিম ভাইদের মাঝে উদারতা ছড়িয়ে দিয়ে আমরা আনন্দ ও সুখ ভাগাভাগি করতে পারি।

সর্বশ্রেষ্ঠ শ্রোতা

যখনই আপনি নিজের ভবিষ্যত নিয়ে হতাশাগ্রস্ত হন, তখনই আপনার উচিত আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করা। সালাতের মাধ্যমে সাক্ষাত করা। দু’আর মাধ্যমে সাক্ষাত করা। আল্লাহর কাছে সকল সমস্যা খুলে বলুন, তিনি আপনার হৃদয়ে প্রশান্তি ঢেলে দিবেন।

আল্লাহ আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বশ্রেষ্ঠ শ্রোতা। আমরা তাঁকে আমাদের জীবনের সমস্ত কথা বলতে পারি।

আল্লাহ সর্বদাই আপনার নিকটে আছেন। তিনিই ঈমানদারদেরকে রক্ষা করছেন এবং তিনিই আমাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে এসেছেন।

আমাদেরকে ছোট কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। রাতের শেষ তৃতীয়াংশে জাগ্রত হয়ে আল্লাহর কাছে কাকুতি মিনতি করতে হবে। তাঁর কাছে সাহায্য চেতে হবে এবং হৃদয়ে জমে থাকা সকল উদ্বিগ্নতা তাঁকে খুলে বলতে হবে। তিনি অবশ্যই শুনবেন এবং আপনার হৃদয়কে প্রশান্ত করবেন।

আল্লাহ কুরআনে বলেছেন যে, কেবলমাত্র আল্লাহর যিকির(স্মরণ) এর মাধ্যমেই হৃদয় প্রশান্ত হয়।

আমাদের ঈমানের মধ্যে আনন্দ ও সুখ খুঁজে পাওয়া

আসুন আমরা প্রত্যহ একটু একটু করে আমদের জীবনে কিছু নতুন আনন্দ ও সুখ যুক্ত করি। আমাদেরকে আল্লাহ যে অসংখ্য নেয়ামত দিয়েছেন তার মধ্যে যেকোনো একটি নিয়ে প্রত্যহ চিন্তা-ফিকির করে হৃদয়কে প্রশান্ত করি।

অ্যানসে তামারা গ্রে একটি সুন্দর বই লিখেছেন, “Joy Jots: Excercises for a Happy Heart”। বইটিতে তিনি দেখিয়েছেন যে কীভাবে ধর্মীয় জীবনযাপন আপনার জীবনকে সুখময় করতে পারে।

বইটির ৫২তম অধ্যায়ে, ইসলামের মধ্যে আপনি কিভাবে সত্যিকারের আনন্দ ও সুখ খুঁজে পাবেন সে সম্পর্কে তিনি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। প্রতিটি অধ্যায়ের পাঠগুলিকে আপনি আপনার জীবনে অনুশীলন করতে পারেন।

আপনি যদি একবার ইসলামের মধ্যে সুখ খুঁজে পান তাহলে আপনার জীবন অনেক সহজ হয়ে যাবে।

সমস্ত পাঠক এবং সমস্ত মুসলিম যেন তাদের জীবনে সত্যিকারের আনন্দ ও সুখ খুঁজে পান। আমীন।