জীবন অনেক কঠিন তবে তার সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভুলবেন না

juliane-liebermann-O-RKu3Aqnsw-unsplash
Fotoğraf: Juliane Liebermann-Unsplash

আমরা জীবনকে অনেক জটিল করে ফেলেছি, তাই না?

টেলিভিশনের সংবাদগুলিতে প্রচারিত বিভিন্ন ট্র্যাজেডি ও সহিংসতা আমাদের জীবনকে এত হতাশ ও বিভ্রান্ত করে তোলেনি যত না ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা বা কলেজে কোন কোর্স নিয়ে পড়লে ভাল হবে ইত্যাদি চিন্তা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে।

তরুণরা এমন পছন্দ এবং সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয় যা তাদেরকে চিন্তিত করে তোলে। প্রাপ্তবয়স্ক এবং এমনকি নিজের বন্ধুদের কাছ থেকে আসা চাপ আমাদেরকে অন্যের প্রত্যাশা অনুযায়ী বেঁচে থাকতে বাধ্য করে, যেখানে প্রত্যেকেই চায় কেবল নিজের মতো করে জীবনযাপন করতে।

তরুণ মুসলমানদের উপরও এখন চাপ বেশি। জীবনের স্বাভাবিক চাপ থাকার পাশাপাশি সমাজের পক্ষ থেকে ইসলাম ও মুসলমানদের উপর অতিরিক্ত যে চাপ রয়েছে তাও তাদেরকে সহ্য করতে হয়।

আপনার চারপাশকে দেখুন

তবুও, শুধু আপনার চারপাশের দিকে তাকান। প্রথম মুহুর্ত থেকে যখন আপনার কাছে মধ্যরাতের মতো মনে হয়েছিল আর অ্যালার্ম ঘড়িটি আমাদের জানাল যে ফজরের নামাযের সময় হয়েছে, আল্লাহর সৃষ্টির লক্ষণগুলি আমাদের চারপাশে রয়েছে, তিনি আমাদেরকে তাঁর কাছে ডাকছেন এবং আমাদের আশ্বাস দিচ্ছেন যে তিনি সমগ্র বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করছেন।

হতে পারে আমরা খুব দেরিতে শুতে গিয়েছি, ইন্টারনেটে চ্যাটিং করে খুব বেশি সময় ব্যয় করেছি এবং তাই আমাদের চোখ সকালের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রস্তুত নয়, তবে এটি তো সুন্দরই।

হতে পারে সকালের নাস্তা করার সময় আমাদের হাতে নেই, কারণ দেরীতে ঘুম থেকে উঠে আমাদেরকে কর্মস্থল বা কলেজের দিকে ছুটে যেতে হয়, এবং একারণে আমাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা যে সকালের নাস্তার টেবিলে থাকে তা আমাদের নজরেই আসে না।

আমাদের পিতাকে খেয়াল করার মতো চোখও আমাদের নেই, যিনি এই টেবিলে খাবার সরবরাহের জন্য দিনের পর দিন কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদের মাকে খেয়াল করার মতো চোখও আমাদের নেই, যিনি সারাটি জীবন আমাদেরকে চোখে চোখে রেখেছেন, আমাদের চেহারায় এমন লক্ষণ সন্ধান করেছেন যা থেকে বোঝা যায় আমরা দুঃখিত বা অঘাতপ্রাপ্ত কিনা।

সর্বত্র অলৌকিক ঘটনা

আমাদের চারপাশে প্রতিদিনই অনেক অলৌকিক ঘটনা ঘটে, যা আমরা ব্যস্ততার কারণে খেয়াল করতে পারি না। বাসে বা পাতাল রেলপথে অনেক মানুষকেই তো আমরা কর্মস্থলে যেতে দেখি, কখনও কি আমরা ভেবে দেখেছি যে, তারাও আমাদের মত ব্যস্তময় জীবন অতিবাহিত করে কিনা? কেবল তাদের জীবনবৈচিত্র্যই যদি আমরা দেখতে পারতাম!

কার অবস্থা কে জানে? কিন্তু প্রত্যেকের জীবনই তো বিচিত্রময়। এবং প্রত্যেকের জীবনই সর্বশক্তিমান আল্লাহ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত এবং তাঁরই দিকে সকলকে ফিরে যেতে হবে। প্রত্যেকেই তার পরিবারের জন্য সেরা কাজটি করতে চান, মাসের পর মাস খাটুনি করে কোনো ছুটির দিনও কেউ অলসভাবে কাটান না বরং পরিবারকে সময় দেন। এগুলির প্রত্যেকটিই আল্লাহ তাআলার সৃষ্টির অলৌকিক বৈশিষ্ট্য।

শেষবার কবে…

আমরা কী সুন্দর পৃথিবীতে বাস করি তা দেখার মত চোখ যদি আমাদের থাকত। আপনি শেষবার কবে পার্কে হাটতে গিয়ে হৃদয় দিয়ে আল্লাহর সৃষ্টির সৌন্দর্য অনুভব করেছিলেন? শেষবার কবে আপনি নদীর তীর ধরে হেঁটেছিলেন বা কাউকে সাহায্য করার জন্য তার সাথে দেখা করেছিলেন?

জীবন অবশ্যই কঠিন তবে এটি উপভোগ্যও বটে। মুসলিম হওয়া বলতে যা কিছু বোঝায় তার একটির অর্থ হওয়া উচিত আমরা যে পৃথিবীতে বাস করি তার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া। কারণ এটি আল্লাহর সৃষ্টি এবং আল্লাহ কখনও ভুল করেন না।

আল্লাহ কেবল এই পৃথিবীরই নয় বরং সমস্ত জগতের পালনকর্তা। আমরা প্রত্যেকবার নামাজে এটি বলি। আমাদের চারপাশের অলৌকিক বিষয়গুলি দেখার জন্য কেবল আমাদের চোখ খুলতে হবে। পাখি, গাছ, রোদ, বৃষ্টি, ফুল, ঘাস এবং মানুষ এগুলির সবকিছুর মধ্যেই অনেক অলৌকিক বিষয় আছে।

হতাশার কোনো স্থান নেই

মুসলমানরা কখনই হতাশ হয় না, কারণ তারা সর্বত্রই আল্লাহর অস্তিত্ব এবং নিয়ন্ত্রণের প্রমাণ দ্বারা বেষ্টিত থাকে। এমনকি আগ্রাসন বা নিপীড়নের মুখেও যেখানেই তাকান না কেন আল্লাহর কুদরতই দেখতে পাবেন। একজন মা তার সন্তানের প্রতি যে দয়া ও কোমলতা দেখান; আল্লাহ তার সৃষ্টির প্রতি আরও বহুগুণ দয়াবান ও কোমল।

শুধু প্রয়োজন হৃদয় খুলে আল্লাহর মহানুভবতার কথা চিন্তা করা।

আল্লাহ মহান

আমরা দিনে বহুবার ঘোষণা করি, আল্লাহু আকবার, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। এরপরও কি আমরা এইকথাটি ভুলে যাব? আসুন আমরা হৃদয় দিয়ে এ কথাটি চিন্তা করি এবং তা প্রচার করি।