জেনে নিন ইসলামে বিবাহের বিধান এবং শর্তাবলী

বিবাহ Tamalika Basu
মতামত
dreamstime_s_28449281
o 28449281 © Ariffruslan | Dreamstime.com

বিবাহ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক সামর্থ্যবান পুরুষ ও বিবাহের উপযুক্ত নারীকে বিবাহ করতে উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেছেন,

“হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহ করার সামর্থ্য রাখে, তারা যেন অনতিবিলম্বে বিবাহ করে নেয়। কেননা, বিবাহ দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং এর পাশাপাশি যৌনতাকেও সংযমী করে। আর যাদের বিবাহ করার মত সামর্থ্য নেই, তারা যেন সিয়াম পালন করে। কেননা, সিয়াম মানুষের যৌনতাকে দমন করে।”

বিবাহকে ইসলামে এত গুরুত্বারোপ করার হিকমতের মধ্যে রয়েছে:

১)পারিবারিক সম্পর্ক রক্ষা করা, পারস্পরিক ভালোবাসা বিনিময়, আত্মসংযম ও গুনাহের কাজ থেকে নিজেকে হিফাযত করতে বিবাহ একটি উত্তম মাধ্যম।

২)হালালভাবে বংশ পরিক্রমা ঠিক রেখে সন্তান জন্ম দেওয়া এবং বংশ বিস্তারে বিবাহ একটি উত্তম পদ্ধতি।

৩)রোগ-ব্যাধিমুক্ত অবস্থায় নিরাপদে মানুষের যৌন চাহিদা মিটাতে বিবাহ সুন্দরতম একটি পদ্ধতি।

৪)বিবাহের মাধ্যমে সন্তান লাভের দ্বারা প্রকৃত পিতৃত্ব ও মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়া যায়।

৫)বিবাহের মধ্যেই রয়েছে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের জন্য শান্তির আবাস, শালীনতা ও চরিত্রের হেফাজত।

বিবাহের হুকুম

যাদের যৌন চাহিদা রয়েছে তবে যিনা বা ব্যভিচারের মত অবৈধ পথে যৌন তাড়না পূরণের আশঙ্কা নেই তাদের জন্য বিয়ে করা সুন্নাত। আর যাদের যিনায় পতিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে এবং বিবাহ করার মত সামর্থ্যও রয়েছে তাদের জন্য বিয়ে করা ওয়াজিব। যাদের যৌন চাহিদা নেই যেমন, পুরুষত্বহীন বা বয়স্ক প্রভৃতি লোকের জন্য প্রয়োজনবশত বিয়ে করা বৈধ।

বিবাহের রুকনসমূহ

বিয়ের রুকন দু’টি। সেগুলি হলো:

১) প্রস্তাবঃ ওলী তথা অভিভাবক অথবা যিনি অভিবাবকের স্থলাভিষিক্ত হবেন তার পক্ষ থেকে বিয়ের জন্য প্রস্তাব দেওয়া। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

“নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভালো লাগে তাকে তোমরা বিয়ে করে নাও।” (৪:৩)

২) কবুলঃ স্বামী বা তার স্থলাভিষিক্ত থেকে বিয়ে কবুল করার শব্দ উচ্চারণ করা যেমন বলা, আমি বিয়ে কবুল করলাম বা এ বিয়েতে আমি রাজি আছি বা শুধু কবুল করেছি ইত্যাদি বলা। ইজাব তথা প্রস্তাব দেওয়া, কবুলের আগে হতে হবে, তবে কোনো আলামত থাকলে আগে কবুল বললেও হবে।

বিবাহের শর্তাবলী

বিয়ের শর্ত পাচটি। সেগুলি হল:

১) স্বামী এবং স্ত্রী নির্ধারিত হওয়া।

২) বিয়েতে স্বামী এবং স্ত্রী উভয়ের সম্মতি থাকা। অতএব, ছেলে বা মেয়ে কাউকেই জোর করে বিয়ে দেওয়া ইসলামে জায়েয নেই। মেয়ে কুমারী হোক বা অকুমারী হোক উভয়েরই অনুমতি প্রয়োজন আছে। তবে কুমারীর ক্ষেত্রে চুপ থাকাটা তার অনুমতি হিসেবে গণ্য হবে এবং অকুমারীর ক্ষেত্রে মৌখিক সম্মতির প্রয়োজন হবে।

৩) অভিভাবক: অভিভাবক অবশ্যই স্বাধীন, পুরুষ, প্রাপ্তবয়স্ক, আকেল, জ্ঞানবান, বিচক্ষণ ও ন্যায়পরায়ণ হওয়া শর্ত। এছাড়া ইসলামের অনুসারী হওয়াও শর্ত। মেয়ের ক্ষেত্রে তার পিতা অভিভাবক হওয়ার সর্বাধিক যোগ্য ব্যক্তি, অতঃপর পিতার অসিয়তকৃত ব্যক্তি, অতঃপর দাদা, এভাবে উর্ধ্বতন পুরুষরা, অতঃপর তার ছেলে ও নিম্নতম ছেলেরা, অপঃপর সহোদর ভাই, অতঃপর বৈমাত্রেয় ভাই, অতঃপর এসব ভাইয়ের ছেলেরা, অতঃপর, অপঃপর আপন চাচা, অতঃপর বৈমাত্রেয় চাচা, অতঃপর তাদের সন্তানেরা, অতঃপর বংশীয় নিকটাত্মীয়রা, অতঃপর দেশের শাসক অভিভাবক হবেন।

৪) সাক্ষ্য: ন্যায়পরায়ণ, ও শরী‘আতের বিধান প্রযোজ্য (অর্থাৎ, প্রাপ্তবয়স্ক) এমন দু’জন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দু’জন মহিলার সাক্ষী ছাড়া বিয়ে শুদ্ধ হবে না।

৫) স্বামী-স্ত্রী উভয়ে বিবাহ বন্ধনে ইসলামী শরী‘আহর নিষেধাজ্ঞামুক্ত হতে হবে (অর্থাৎ যাদের সাথে বিয়ে হারাম তাদের অন্তর্ভুক্ত না হওয়া)

বিবাহের সুন্নাত ও নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ

বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার সময় কন্যার সতর ব্যতীত অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ভালোভাবে দেখে নেওয়া মুস্তাহাব, যাতে তাকে বিয়ের পরে সমস্যা সৃষ্টি না হয়। তবে নির্জনে দেখতে পারবে না। এমনিভাবে কনেও হবু বরকে ভালোভাবে দেখে নেওয়া মুস্তাহাব।

বিয়ের প্রস্তাবকারী ছেলের পক্ষে মেয়েকে দেখা সম্ভব না হলে সে একজন বিশ্বস্ত নারী পাঠাবে, তিনি ভালোভাবে দেখে তাকে মেয়ের গুণাবলী বর্ণনা করবে।

কেউ কোনো মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব দিলে উক্ত প্রস্তাবকারী তার প্রস্তাব ফিরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত অন্য কেউ উক্ত মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হারাম।

যেসকল নারী তিন তালাক ব্যতীত বায়েন তালাকের ইদ্দত পালনরত তাদেরকে স্পষ্ট ভাষায় বা ইশারায় বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া বৈধ।

তবে রাজ‘ঈ তালাকের ইদ্দত পালনকারী নারীকে স্পষ্ট বা ইশারায় বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হারাম।

জুম‘আর দিন বিকালে বিয়ে পড়ানো সুন্নাত। কেননা আসরের সালাতের পরের সময় দু’আ কবুল হয়।

সম্ভব হলে মসজিদে বিয়ে পড়ানো সুন্নাত।