SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

জেনে নিন দান-সদকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা

দান ১৪ ফেব্রু. ২০২১
ফিচার
দান-সদকার
Photo by Pixabay from Pexels

দান-সদকা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। দান-সদকার কিছু অংশ তো আছে ফরয আর কিছু আছে নফল। ফরযের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ হল যাকাত। কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা এর ফরযিয়্যাত প্রমাণিত। যাকাতের ব্যাপারে যে ব্যক্তি কৃপণতা করে অথবা কম আদায় করে সে যালেমদের অন্তর্ভুক্ত এবং আল্লাহর শাস্তির উপযুক্ত।

গোপনে বা প্রকাশ্যে যেকোনোভাবেই দান করা যায়। সকল দানেই সওয়াব রয়েছে। দানের মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা পৃথিবীর মানুষের মাঝে রিযিকের ভারসাম্যতা রক্ষা করেন। এবং এর বিনিময়ে প্রতিদানও দিয়ে থাকেন।

আল্লাহ বলেন,

”যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান করো, তবে তা কতই না উত্তম। আর যদি গোপনে ফকির-মিসকিনকে দান করো, তবে তা তো আরোও বেশি উত্তম। আর এর দ্বারা তিনি তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।” (আল কুরআন-২:২৭১)

সদকা কাকে বলে?

সদকা শব্দটি এসেছে আরবি ‘সিদকুন’ শব্দমূল থেকে। এর অর্থ, সত্যতা, যথার্থতা। ইসলামী পরিভাষায় সদকা বলা হয়, একমাত্র আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জন করার লক্ষ্যে স্বীয় সম্পদ থেকে অন্যের জন্য ব্যয় করা।

মানুষের সর্বাপেক্ষা প্রিয় বস্তু এবং জীবনযাপনের প্রধান উপকরণ কষ্টার্জিত মাল আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে আল্লাহর প্রতি তার ভালোবাসা এবং তাঁর নির্দেশাবলীর প্রতি আনুগত্যের বাস্তব প্রমাণ দিয়ে থাকে বলে এই ব্যয়কে সদকা নামে অভিহিত করা হয়েছে। পবিত্র কুরআন ও হাদীসে ফরয এবং ঐচ্ছিক এ উভয় প্রকার দানকেই সদকা বলা হয়েছে।

দান-সদকার দ্বীনী উপকারিতা

১. দান-সদকা ইসলামের বিশেষ একটি রোকন, যার উপর বান্দার দুনিয়া ও আখিরাতের প্রভূত কল্যাণ নির্ভর করে।

২. অন্যান্য ইবাদতের ন্যায় দান-সদকা বান্দাকে আল্লাহর নৈকট্য প্রদান করে এবং ঈমান বৃদ্ধি করে।

৩. দান-সদকা সম্পদে বরকত দান করে।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “আল্লাহ সুদকে মিটিয়ে দেন এবং সদকাকে বাড়িয়ে দেন।” (আল কুরআন-২:২৭৬)

অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

“আর তোমরা যে সূদ দিয়ে থাকো, মানুষের সম্পদ বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য, তা মূলতঃ আল্লাহর কাছে বৃদ্ধি পায় না। আর তোমরা যে দান করে থাকো আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে, তাই আল্লাহর নিকট বৃদ্ধি পায়।” (আল কুরআন-৩০:৩৯)

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “হালাল উপার্জন থেকে যে খেজুর পরিমাণও সদকা করল, আল্লাহ তা ডান হাতে গ্রহণ করেন। অতঃপর সদকাকারীর জন্য তা বৃদ্ধি করতে থাকেন, যেমন তোমরা অশ্বশাবক লালন করো অতঃপর তা বিশালাকৃতিতে পরিণত হয়। আর আল্লাহ হালাল ব্যতীত অন্য মাল গ্রহণ করেন না।” (বুখারি, মুসলিম)

৪. দান-সদকা দ্বারা আল্লাহ বান্দার গুনাহসমূহ দূরীভূত করেন। যেমন নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সদকা দুনাহ মোচন করে দেয়, যেমন পানি আগুন নির্বাপিত করে।” ( তিরমিযী)

দান-সদকার চারিত্রিক উপকারিতা

১. দান-সদকা কোনো ব্যক্তিকে দানশীল ও বদান্য ব্যক্তিদের কাতারে শামিল করে।

২. দান-সদকা প্রমাণ করে যে, সদকাকারী অভাবীদের প্রতি রহম, দয়াবান ও অনুগ্রহশীল। আর আল্লাহ দয়াশীলদের উপর দয়া করেন।

৩. আমরা অভিজ্ঞতা থেকেও দেখি যে, মুসলিমদের জন্য আর্থিক ও শারীরিক সেবা প্রদান অন্তঃকরণকে প্রশস্ত ও প্রফুল্ল করে এবং মানুষের নিকট সদাকাকারী ব্যক্তিকে প্রিয় ও ঘনিষ্ঠ করে তোলে।

৪. দান-সদকাকারী ব্যক্তি সম্পদের লোভ ও কৃপণতা থেকে মুক্ত থাকে।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “তাদের সম্পদ থেকে সদকা নাও। এর মাধ্যমে তাদেরকে তুমি পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবে।” (আল কুরআন-৯:১০৩)

দান-সদকার সামাজিক উপকারিতা

১. দান-সদকার ফলে অভাবীদের অভাব দূরীভূত হয়, দুনিয়ার অধিকাংশ স্থানে যাদের সংখ্যাই বেশী।

২. দান-সদকার ফলে মুসলিমদের শক্তি অর্জন হয় এবং তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, কারণ দান-সদকার একটি অন্যতম খাত হল জিহাদ।

৩. দান-সদকা গরীবদের অন্তর থেকে ধনীদের প্রতি হিংসা ও বিদ্বেষ দূর করে দেয়। কারণ, গরীবরা যখন দেখে ধনীরা তাদের সম্পদ দ্বারা তাদের নিজেদের যাবতীয় প্রয়োজন পুরণ করছে, কিন্তু ঐ সম্পদ থেকে গরীবরা কোনোভাবে উপকৃত হতে পারছে না, তখন অনেক সময় ধনীদের প্রতি তাদের অন্তরে হিংসা ও বিদ্বেষের জন্ম নেয়। কিন্তু ধনীরা যদি বছর শেষে গরীবদের যাকাত দেয় এবং বিপদাপদে দান-সদকার মাধ্যমে সাহায্যের হাত বাড়াই, তবে তাদের অন্তর থেকে এসব বিষয় দূরীভূত হয়ে যায় এবং উভয় শ্রেণীর মধ্যে মহব্বত ও ভালবাসা সৃষ্টি হয়। এভাবে সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়া থেকে রক্ষা পায়।

৪. দান-সদকার ফলে সম্পদ বৃদ্ধি পায় এবং তাতে বরকত হয়। যেমন হাদিসে এসেছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কোনো সদকা সম্পদকে হ্রাস করেনা (বরং, বৃদ্ধি করে)” (মুসলিম, তিরমিযী)

অর্থাৎ, সদকার ফলে যদিও বাহ্যিক দৃষ্টিতে সম্পদের হ্রাস দেখা যায়, কিন্তু তার বরকত ও ভবিষ্যতে তার বৃদ্ধি কমে না, বরং আল্লাহ তার সম্পদে বরকত দেন ও এই দানের বিনিময়ে তাকে আরও অধিক দান করেন।

অতএব এ কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, ব্যক্তি ও সমাজ বিনির্মাণে দান-সদকার গুরুত্ব অপরিসীম।