জেনে নিন মহানবী হজরত মহম্মদ (সাঃ)-এর অন্যতম প্রিয় খাবার হায়েস বানানোর পদ্ধতি

খাবার ২৩ নভে. ২০২০ Contributor
Dates_Tea_Brochure

কথিত আছে , মহানবী হজরত মহম্মদ( সাঃ) অত্যন্ত স্বল্পাহারী ছিলেন। বেশিরভাগ সময়ই উপবাস, নিদেনপক্ষে অল্প খেজুর ও পানি গ্রহণ করেই তিনি ক্ষুনিবৃত্তি করতেন। কিন্তু সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মানব প্রিয় নবী যে খাবারই গ্রহণ করতেন না কেন, তা ছিল সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিতে সমৃদ্ধ। আশ্চর্যভাবে আজকাল চিকিৎসকরা যেভাবে খাদ্যগ্রহণ করতে বলেন, আল্লাহর কৃপায় মহান নবী ঠিক সেইভাবেই খাদ্যগ্রহণ করতেন।

তাঁর বিশেষ পছন্দ ছিল খেজুর, তিনি তাঁর সেবকদেরও খেজুর খাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করতেন। তিনি গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের খেজুর খাওয়ার উপদেশ দিতেন।

আবূ মুসা আশা’আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমার এক পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহন করলো। আমি তাকে নিয়ে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি তার নাম রাখলেন, ইবরাহীম এবং খেজুর চিবিয়ে তার মুখে দিয়ে তার জন্য বরকতের দুআ করলেন। [বুখারী ৫৪৬৭, মুসলিম ২১৪৫]

আবার আব্দুল্লাহ ইবন সালামের মতে, ‘আমি রাসুল(সাঃ) কে রুটির টুকরোর ওপর একটি খেজুর রাখতে দেখেছি। তিনি বলেছেন, ‘এটিই সালন-মসলা।’’ [আবু দাউদঃ ৩৮৩০]

এছাড়া হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) তরমুজের সঙ্গে ‘রাতাব’ বা (পাকা-তাজা) খেজুর খেতেন। [বুখারি : ৫১৩৪, তিরমিজি : ১৮৪৪]

স্বভাবতই মহান নবীর খাদ্যাভ্যাস তাঁর সেবকেরা গ্রহণ করেছিল। সকলেরই দৈনিক খাদ্যাভায়সের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছিল খেজুর বা খেজুর দিয়ে বানানো কোণও খাদ্য। এর মধ্যে অন্যতম ছিল হায়েস। শোনা যায়, মহানবী হায়েস খেতে অত্যন্ত পছন্দ করতেন।

খেজুরের গুণাগুণঃ

হায়েস মূলত খেজুর ও মাখন দিয়ে বানানো হত। খেজুরের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, আয়রন ইত্যাদি উপকরণ যা আমাদের শরীরকে সতেজ ও নীরোগ করে তোলে। এছাড়াও খেজুরের নিম্নলিখিত কিছু গুণ রয়েছে,

১। দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়- খেজুরের মধ্যে থাকা জিয়াজেন্থিন ও লিউটিন দৃষ্টি শক্তি বাড়ায়। রাতকানা রোগের উপশমে খেজুর ব্যবহার করা হয়।

২। রক্তাল্পতা কমায়- খেজুর আয়রনের উৎস, ফলে যারা রক্তাল্পতায় ভুগছেন তাঁদের পক্ষে খেজুর খাওয়া অত্যন্ত উপকারী।

৩। উচ্চ রক্তচাপ কমায়- অধিক পরিমাণ পটাশিয়াম রয়েছে বলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খেজুর অত্যন্ত উপকারী। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতারও উন্নতি ঘটায় খেজুর।

৪। হাড়ের উন্নতি ঘটায়- এই ফলে সেলেনিয়াম, কপার ও ম্যাংগানিজ রয়েছে। ফলে হাড় সবল থাকে ও ক্ষয়জনিত সমস্যা দূর হয়। অস্টিওপোরোসিসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

মহান নবী অনেক আগে থেকেই এই গুণাগুণ জানতেন তাই খাদ্যে খেজুরকে অন্তর্গত করেছিলেন। তিনি মনে করতেন খেজুর মহান আল্লাহর রহমত। বিষক্রিয়া ও পরজীবীদের থেকে খেজুরই রক্ষা করবে এমন বিশ্বাস ছিল।

মানসিক ব্যাধির চিকিৎসাতেও খেজুর খাওয়ার উপদেশ দিতেন রাসুল(সাঃ)।

হায়েস বানানোর পদ্ধতিঃ

উপকরণ-

এক কাপ খেজুর

দুই টেবিল চামচ মাখন

প্রণালী-

একটি পাত্রে দুই চামচ মাখন দিয়ে গরম করতে হবে। মাখন গলে গেলে তাতে আগে থেকে বীজ ছাড়ানো খেজুর দিয়ে আগুণের আঁচ কমিয়ে অল্প অল্প করে খেজুরগুলোকে ভাজতে হবে। অতঃপর চামচ দিয়ে খেজুরগুলোকে অল্প পেশাই করতে হবে। এইভাবে মিনিট পাঁচেকের মধ্যে তৈরি হবে হায়েস। ইচ্ছে হলে এর মধ্যে দুধ বা জল দেওয়া যেতে পারে, তখন এই খাদ্যটির নাম হবে রাবিকা।