SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

জোরপূর্বক বিবাহ- কি বলে ইসলাম?

পরিবার ১৬ ডিসে. ২০২০
মতামত
জোরপূর্বক বিবাহ

বিবাহ একটি সামাজিক বন্ধন। ইসলামে দৃষ্টিতে বিবাহ হলো দুই জন নারী-পুরুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক প্রণয়নের বৈধ আইনি চুক্তি এবং তার স্বীকারোক্তি। তারা যেখানে বিবাহ করতে সম্মত নয়, সেখানে তাদেরকে জোরপূর্বক বিবাহ দেওয়া অভিভাবকদের জন্যও বৈধ নয়। বিবাহ বন্ধন শুদ্ধ হওয়ার জন্য অন্যতম প্রধান শর্ত হলো পাত্র-পাত্রীর ইচ্ছাকৃত সম্মতি। এটি না হলে বিবাহ সম্পন্ন হবে না। ছেলে এবং মেয়ে উভয়ই তাদের নিজের ইচ্ছানুযায়ী বিয়েতে মত বা অমত দিতে পারে। তারা যেখানে বিবাহ করতে সম্মত নয়, সেখানে তাদেরকে জোরপূর্বক বিবাহ দেওয়া অভিভাবকদের জন্যও বৈধ নয়।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেন,

“আল্লাহর কুদরতের অন্যতম একটি নিদর্শন হলো- তিনি তোমাদের থেকে তোমাদের স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের নিকট থেকে প্রশান্তি লাভ করতে পারো। এবং তিনি তোমাদের মধ্যে প্রেম-ভালোবাসা ও মায়া-মমতা সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এতে কুদরতের নিদর্শন রয়েছে চিন্তাশীল লোকদের জন্য।” (৩০:২১)

এ আয়াত থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়, বিবাহের উদ্দেশ্য প্রশান্তি লাভ করা ও পরস্পরের মাঝে ভালোবাসা সৃষ্টি হওয়া। কিন্তু মতের বিপরীত জোরপূর্বক বিবাহ দিলে এই উদ্দেশ্য শুরুতেই ব্যহত হয়। তাই ইসলামে এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ইসলামী রীতির বিপরীত, আমাদের সমাজে বিবাহ ব্যবস্থা হয়ে গেছে পরিবারের অভিভাবক কর্তৃক নির্ধারিত বা পছন্দের ছেলে বা মেয়েকে জোরপূর্বক গ্রহণ করিয়ে দেয়া বা ছেলে-মেয়ের পছন্দের উপর নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া। বেশিরভাগ বিবাহতেই ছেলেমেয়ের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না।

ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহ হচ্ছে, ইসলামী রীতিনীতি বা ইসলামী আইন অনুসরণ করে ছেলে-মেয়ের একত্রে বসবাস করার বৈধতা অর্জন করা। আর দেশীয় আইন মতে, বিবাহ হচ্ছে এক ধরনের চুক্তি যা সাবালক নারী ও পুরুষকে একত্রে বসবাস ও সন্তান জন্মদানের সামাজিক বৈধতা দেয়।

জোরপূর্বক বিবাহ সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

ইসলামে জোরপূর্বক বিবাহকে নিষেধ করা হয়েছে। বিভিন্ন হাদিসে বিবাহের জন্য চারটি শর্তের কথা বলা হয়েছে। সেগুলি তা হল,

-পরস্পরের সাথে বিবাহ বৈধ এমন পাত্র-পাত্রী নির্বাচন করা।

-পাত্র–পাত্রী উভয়ের সম্মতি নেওয়া।

-মেয়ে নাবালেগা হলে মেয়ের ওলী(অভিভাবক) থাকা।

-দু’জন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দু’জন নারী সাক্ষী থাকা।

বর্ণিত চারটি শর্তের কোনো একটি শর্ত যদি না মানা হয় তবে বিবাহ শুদ্ধ হবে না।

পরামর্শের প্রয়োজনীয়তা

অপরদিকে, আমাদের সমাজে সাধারণত সন্তানের অভিভাবকরাই বিবাহের সব কিছু দেখাশোনা করেন এবং তাদের ইচ্ছানুযায়ীই বিবাহ সম্পাদিত হয়ে থাকে। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে এটি বেশি লক্ষ্য করা যায়। পিতা নিজেই মেয়ের পক্ষ থেকে সম্মতি দিয়ে দেয়; যেখানে বিয়ের মূল নিয়ামক হল বর ও কনে। তাদেরকেই সারাটি জীবন একত্রে অতিবাহিত করতে হবে। কিন্তু তাদের মতামত পরিবারের নিকট তেমন গ্রহণযোগ্যতা পায় না। যার কারণে অহরহ বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা শোনা যায়। সেই সাথে দু’টি জীবনে নেমে আসে কালো একটি অধ্যায়। এরই সাথে সইতে হয় সমাজের নানা অত্যাচার। এর দরূন অনেকে আত্মহত্যার পথ পর্যন্ত বেছে নেয়।

এ বিষয়ে আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন, “হে ঈমাণদারগণ! বলপূর্বক নারীদেরকে উত্তরাধিকারে গ্রহণ করা (বিবাহ করা) তোমাদের জন্যে জায়েজ নয়। এবং তাদেরকে আটক রেখো না যাতে তোমরা তাদেরকে যা প্রদান করেছ তার কিয়দংশ নিয়ে নাও; যদি না

তারা প্রকাশ্যে কোনো অশ্লীলতা করে! নারীদের সাথে সৎ ভাবে জীবন-যাপন করো। অতঃপর তোমরা যদি তাদেরকে অপছন্দ করো, তবে হয়ত তোমরা এমন এক জিনিসকে অপছন্দ করছ, যাতে আল্লাহ প্রভূত কল্যাণ রেখেছেন।” (৪:১৯)

হাদিসে কী রয়েছে?

শুধু তাই নয়, আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “বিধবা মেয়েকে তার পরামর্শ ছাড়া পরবর্তী বিবাহ দেওয়া যাবে না এবং কুমারী মেয়েকেও তার অনুমতি ছাড়া বিবাহ দেওয়া যাবে না।” সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, “তার অনুমতি কিভাবে হবে?” উত্তরে তিনি বললেন “চুপ থাকাই হচ্ছে তার জন্য অনুমতি।” (বুখারী, মুসলিম)

অন্য আরেক হাদিসে উল্লেখ হয়েছে, “যুবতী বা কুমারী মেয়েদের বিবাহের ব্যাপারে পিতাকে অবশ্যই তার অনুমতি নিতে হবে। আর তার অনুমতি হচ্ছে চুপ থাকা।” (মুসলিম)

কিন্তু এসকল আয়াত ও হাদিসের বিপরীতে আমাদের সমাজের অবস্থা সম্পূর্ণ উল্টো। এখানে অধিকাংশ সময় পিতা অনুমতি নেয়ার বিপরীতে তার নিজের ইচ্ছাই পাত্র-পাত্রীর উপর চাপিয়ে দেয়। যদি কেও তার মেয়েকে জোরপূর্বপক বিবাহ দিয়ে দেয় তাহলে সেই মেয়ে ইচ্ছা করলে বিয়ে ভেংগেও দিতে পারে। ইসলাম তাকে এই অধিকার দিয়েছে।

সুতরাং সম্মতি না নিয়ে কোনো ছেলে বা মেয়েকে বিবাহ দিলে তা শুদ্ধ তো হবেই না বরং, এতে অভিভাবকরা আরও গোনাহগার হবেন।