জ্ঞানার্জনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে ইসলাম

hope-house-press-leather-diary-studio-IOzk8YKDhYg-unsplash
Fotoğraf: Hope House Press Lether

জ্ঞানার্জন করার ক্ষেত্রে ইসলাম সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। যে ব্যক্তি নিজের জীবনে জ্ঞানকে গুরুত্ব দেয়, ঠিক-বেঠিককে যুক্তি দিয়ে বিচার করতে শেখে সে অবশ্যই আল্লাহের কাছে প্রিয়। মহান আল্লাহতায়ালা ও তাঁর প্রেরিত দূত হজরত মহম্মদ (সাঃ)-এর মাধ্যমে মানবজাতির উদ্দেশ্যে ওহি পাঠিয়েছিলেন- ইকরা, যার অর্থ পড়ুন।

যে কোনো মুসলমান ব্যক্তিই আল্লাহর পাঠানো অগাধ জ্ঞানের ভান্ডারের দাবিদার। এই জ্ঞান আলেমদের থেকে পাওয়া যেতে পারে আবার নিজেরা পড়াশোনা করেও পাওয়া যায়। মুহম্মদ (সাঃ) বাহায়কী শরীফে বলেন “প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ এবং স্ত্রীলোকের উপর জ্ঞানার্জন করা ফরজ।” এর থেকেই বোঝা যায় আমাদের মহান নবী জ্ঞানার্জন করাকে কতটা প্রাধান্য দিয়েছিলেন। যদিও আজকের দিনে এরকম মুসলমানের সংখ্যা অনেক কম যারা সম্যক জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে, নিজ বিবেচনায় মতামত প্রকাশ করে। একসময়ের অন্যতম শিক্ষিত জাতির এই অবনতি সত্যিই ভাবনার বিষয়।

মহান আল্লাহতায়ালা সুরা যুমারে বলেন, “যে ব্যক্তি রাত্রিকালে সেজদার মাধ্যমে দাঁড়িয়ে ইবাদত করে, পরকালের চিন্তা করে এবং সৃষ্টিকর্তার রহমত প্রত্যাশা করে, তারা কি তাদের সমান যারা এরকম করেনা; যারা জ্ঞানী এবং যারা অজ্ঞ তারা কি সমান হতে পারে? তারাই একমাত্র চিন্তাভাবনা করতে পারে যারা বুদ্ধিমান।”

এর চেয়ে স্পষ্ট নির্দেশ এবং গভীর ব্যাখ্যা আর হয় না। আল্লাহপাক নিজেই তাঁর বান্দাদের প্রতি এই হুকুম করেছেন যে ইবাদত এবং জ্ঞানার্জন দুইই তাদের অবশ্য কর্তব্য।

প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য পবিত্র কোরআন শরীফ ও হাদিস চর্চার পাশাপাশি তারা যেন দুনিয়ার সামগ্রিক জ্ঞানের ভাগীদার হয়। একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি অবশ্যই যেকোনো বিষয়কে একাধিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার করে সিদ্ধান্তে আসেন। প্রয়োজনে অমুসলিম দৃষ্টিভঙ্গিগুলি জানতে হবে এবং তার সত্যতা মুসলিম দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার করতে হবে। যদিও একাজ করা সকলের পক্ষে সম্ভব নয়, তাই আল্লাহপাক সুরা আল আনকাবুতে আবার বলেন, “এসব দৃষ্টান্ত আমি মানুষের জন্য পেশ করি এবং জ্ঞানী লোকেরা জাড়া কেউ তা বোঝে না।”

মহান আল্লাহতায়ালা ও তাঁর নির্দেশ নিয়ে যাঁরা গবেষণা করেন তাঁদের কাছে এ বিশ্বের একটি বিশাল জ্ঞানের ভান্ডার উন্মুক্ত থাকে। হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের উন্নত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার যে ইতিহাস, তার গভীরতম দর্শনকে উপলব্ধি করার সুযোগ পান তাঁরা। এই ধরনের ব্যক্তিরা যারা জ্ঞানের সন্ধান করেন তাঁদের জন্য কোরআনে বলা হয়েছে, “যারা জ্ঞানী বান্দা তারাই আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি সমীহ করে (সূরা আল ফাতির: ২৮)।”

প্রত্যেক মুসলমানেরই শিক্ষালাভ করা অবশ্য কর্তব্য, অন্তহীন শিক্ষাই মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে আসে, কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গড়ে তোলে।