ঠিক কতটা আম খেতে পারেন ডায়াবেটিসের রোগীরা?

mango
ID 148097028 © Zhong Zhiling | Dreamstime.com

ডায়াবেটিস এখন মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেকোনো বয়সের মানুষই ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে। এই রোগে খাবার ব্যাপারে থাকতে হয় অত্যন্ত সতর্ক। আজ আমরা কথা বলব ডায়াবেটিস রোগীদের আম খাওয়ার পদ্ধতি নিয়ে, এই গরমে আম খাওয়ার নিয়ম কিছু মেনে চলুন।

গ্রীষ্মকাল মানেই নানারকম সুস্বাদু ফলের সমাহার। জাম, তরমুজ, কাঁঠাল, জামরুল, বেল আরো কত কি! তারপর জৈষ্ঠ্য মাস মানেই পাকা আমে চারিদিক মাতোয়ারা। টইটম্বুর রসে ভরা আম দেখলে কেউ আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারে না। আম খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি নানা উপাদান এ সমৃদ্ধ। ছোট হোক কিংবা বয়স্ক সবাই  খাদ্যতালিকায় আমকে পছন্দ করে। আম খেতে ভালোবাসে না এরকম মানুষ নেই বললেই চলে। শর্করা,ভিটামিন সবই আছে যা আমাদের শরীরকে বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি দেয়।

কিন্তু ব্যাপার হচ্ছে মনের তৃপ্তি নিয়ে ভোগান্তি, ডায়াবেটিক রোগীরা কি আম খাওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত ?

প্রশ্নটা মাথার ভেতর বারবারই টহল দিয়ে যায়।

কোনোকিছুই অতিরিক্ত ভালো না তাই পরিমাণ মতো খেতে হবে,তাহলে নিশ্চয়ই খাওয়া যাবে সেক্ষেত্রে। সুমিষ্ট আম নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। এটা শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রূপে কাজ করে, রোগ প্রতিরোধ করে। রক্তে গ্লুকোজ এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে,ফলে ভয় নেই। এমনিতেই ডায়াবেটিক রোগীদের রুটিন মাফিক খাবার খেতে হয়। আর আমেরও সেরকম সময় আছে। খেলে দিনেরবেলা যেকোনো সময় খান,তাহলে সারাদিন এর কাজকর্ম এ আম থেকে পাওয়া ক্যালোরি ক্ষয় হয়ে যাবে কিন্তু মাঝ সন্ধ্যায় বা সন্ধ্যায় খাবেন না। আমে যে পরিমাণ সুগার রয়েছে তাতে 80-90%ক্যালোরি পাওয়া যায়। শর্করা ও সুগারের আধিক্য এর জন্য খাওয়া যাবে না এরকমটা কখনোই না।

ডাক্তারেরা পরামর্শ দেন যে Low Glycemic Index জাতীয় সমস্ত খাবার খাওয়ার। আম এর বাইর নয়। আমে গ্লুকোজ,ফ্রুক্টোজ ও খাদ্য আঁশ থাকে।

ভিটামিন এ সমৃদ্ধ আম চোখকে ভালো রাখে। আমে থাকে ভিটামিন -B,ভিটামিন -K,ভিটামিন -E।

এছাড়াও প্রচুর পরিমান এ পটাশিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় ব্লাড প্রেসার সহজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ফলে বিভিন্ন হার্টজনিত সমস্যার প্রকোপ থেকে সহজেই মুক্তি দিতে সক্ষম এই আম। তাই খাদ্যতালিকায় আম যুক্ত করুন।

তবে আমকে অন্তর্ভুক্ত করুন খাদ্যতালিকায় ডাক্তারি পরামর্শ অনুযায়ী। ডায়াবেটিস রোগীদের দু-তিনটে স্লাইস আম অন্তত তিন দিন খেতে হবে। ছোটো টুকরো করে কাটা ½ কাপ আম খেতে পারেন। 1/2 কাপ আম থেকে 10-13 গ্রাম ক্যালোরি পাওয়া যায়।

রমজান মাসে সেহেরীতে ডায়াবেটিস রোগীরা আম খেতে পারেন। তবে জুস না আমই খেতে হবে। জুসে খাদ্য আঁশ অনুপস্থিত থাকে। গোটা আমে সেটা থাকে না, ফলে ডায়াবেটিক রোগীর জন্য গোটা আমই প্রয়োজন। তবে সারাদিন এ শর্করা যা খাচ্ছেন তার সাথে মেনটেন করে আম খেতে হবে।

শুধু কি তাই? আম খাদ্য পরিপাকেও দারুণ কাজ করে।পরিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম, খাদ্য আঁশ সবই থাকে। তাছাড়া সাইট্রাস ফলের সঙ্গে মিশিয়ে ফ্রুট সালাড ও খেতে পারেন। এটাও ডায়াবেটিক এর জন্য জরুরি এবং উপকারীও বলা চলে। ব্লাড গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ এই  আম ই করে।

ডায়াবেটিক রোগীদের আরো বেশি উপকার হয় যদি এর সাথে প্রোটিন যুক্ত খাদ্য যেমন সিদ্ধ ডিম বা বাদাম বা লো ফ্যাট দুধ খাওয়া যায়। আম এ প্রচূর পানি থাকে, যা দেহে পানির পরিমান বাড়িয়ে দেয়।কম পানি মানেই গ্লুকোজ বেশি। কাঁচা আম ও খেতে পারেন তবে বাইরে থেকে চিনি যোগ করা যাবে না। তাছাড়া ডাক্তার এর ওষুধ ও নিয়মিত ব্যায়াম অবশ্যই করবেন।একটু সতর্কতা বা moderation এর সাহায্যে খান। নিয়ম মেনে চলুন, সময় ও পরিমাণ দুটোই দেখে মেনে চলুন তাহলে পছন্দের আম আপনাকে ছাড়তে হবে না।