ঠিক কী ঘটেছিল বদরের যুদ্ধ প্রান্তরে?

dreamstime_s_50732811
© Vertyr | Dreamstime.com

চতুর্থ পর্ব 

মুখোমুখি কুরাইশ ও মুসলিমরা

এদিকে মক্কার বাহিনী যে এগিয়ে যাচ্ছে তার খবর মুসলিমরা পেয়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে মুসলিম বাহিনী কি ব্যাপক যুদ্ধের জন্য নিজেকে প্রস্তুত ছিল না কারণ তারা মূলত কাফেলা আক্রমণের জন্য গঠিত হয়েছে। তবে মুসলিমরা চাইলে ওই সময় কুরাইশদের সাথে মুখোমুখি না হয়ে ফিরে আসতে পারতো। কিন্তু মুসলিমরা যদি কুরাইশদের মুখোমুখি না হয়ে ফিরে আসতো তবে কুরাইশদের ক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হতো।

তার সাথে তারা আরও এগিয়ে এসে মদিনাও আক্রমণ করতে পারত। এই বাহিনীর সংখ্যাগরিষ্ঠ মদিনার আনসাররা আকাবার বাইয়াত অনুযায়ী মদিনার বাইরে গিয়ে যুদ্ধ করতে বাধ্য ছিল না। এই অভিযানের খরচ অর্থাৎ ব্যবহার তাদের উপরই বেশিরভাগ ছিল। এই পরিস্থিতিতে নবীজি আলোচনার জন্য যুদ্ধ সভা ডাকলেন। সভায় সকলেই কুরাইশদের সাথে মুখোমুখি হওয়ার ব্যাপারে একমত পোষণ করেন। এর ফলে মুসলিমরা এগিয়ে বদরের নিকটে পৌঁছে যায়।

বদরে পৌঁছলেন নবীজী

বদরের পৌঁছানোর পর নবীজি ও আবু বকর প্রতিপক্ষ কুরাইশদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য বের হন। পথিমধ্যে এক বৃদ্ধ লোকের সাথে তাদের সাক্ষাৎ হয়। নবীজি ওই লোকটির কাছে মুসলিম ও কুরাইশ দুই বাহিনীর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। বৃদ্ধ লোক তাদেরকে দুই বাহিনী সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেয় । আলি ইবনে আবি তালিব (রা:), যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রা:) ও সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসকে (রা:) তথ্য সংগ্রহ করার জন্য সেদিন সন্ধ্যায় প্রেরণ করা হয়। দুজন ব্যক্তি বদরের কুয়ার পানি সংগ্রহরত অবস্থায় ছিলেন। তারা এই দুইজনকে বন্দী করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা জানায় যে, তারা মক্কার বাহিনীর সদস্যদের জন্য পানি সংগ্রহ করেছিল। নবীজি এসময়ের নামাজ আদায় করছিলেন। তবে তাদের কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় তাদেরকে আরও দৃঢ় ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো। এরপর তারা প্রকৃত সত্য প্রকাশ করে। কুরাইশ বাহিনী নয় তারা আবু সুফিয়ানের কাফেলা লোক। এ তথ্য জানার পর নবীজি ক্ষুব্ধ হন। এরপর নবীজির নিজে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তারার নবীজিকে তথ্য প্রদান করেন যে, উপত্যকার শেষে যে টিলা দেখা যাচ্ছে ওর পেছনে কুরাইশরা অবস্থান করছে। তাদের জন্য প্রতিদিন ৯ থেকে ১০ দশটি উট জবাই করা হয়। নবীজির সব শুনে বলেন যে তাদের সংখ্যা ৯০০ থেকে ১০০০ জন হতে পারে। দুজন বন্দি কুরাইশ বাহিনীতে থাকা সম্ভ্রান্ত কুরাইশ নেতাদেরও নাম বলে।

কূপের মুখ বন্ধের পরিকল্পনা

নবীজির নির্দেশ প্রদান করেন যে প্রতিপক্ষের পূর্বেই যেন বদরে পৌঁছানো যায়। যাতে কুরাইশদের দলটি কুয়ার দখল নিতে না পারে। বদরের নিকট এসে যখন মুসলিমরা থামে তখন রাত হয়ে গিয়েছিল। হুবাবা ইবনে মুনজির বলেন, এ সিদ্ধান্ত যদি আল্লাহর নির্দেশ হয় তবে তা যেন বাস্তবায়িত হয়। কিন্তু যদি এ সিদ্ধান্ত ব্যক্তি মোহাম্মদ (সা:) এর হয় তবে তার মতামত রয়েছে। তার মতামত অনুযায়ী কৌশল হিসেবে এগিয়ে গিয়ে কুরাইশদের সবচেয়ে কাছের যে কয়টি কূপ রয়েছে তাতে অবস্থান নিয়ে বাকি সব কুয়া বন্ধ করে দেয়া হোক। আর নিজেদের জন্য যে কুয়াটি রয়েছে তার উপর যেন চৌবাচ্চা তৈরি করা হয়।

যাতে সেখান থেকে পানি পাওয়া যায়। নবীজি এই মতামত শোনার পরে বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। নির্দেশনা অনুযায়ী কুরাইশদের সবচেয়ে নিকটবতী কুয়ার কাছে গিয়ে তারা শিবির স্থাপন করেন এবং অর্ধেক রাত শেষ হওয়ার আগেই বাকি সমস্ত কুপের মুখ বন্ধ করে দেন। সাদ ইবনে মুয়াজের পরামর্শ অনুযায়ী যুদ্ধক্ষেত্রের উত্তর-পূর্বের টিলার উপর নবীজির জন্য একটি তাবু নির্মাণ করা হয়। কারণ এখান থেকে পুরো যুদ্ধের সকল পরিস্থিতি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা যেত।

(চলবে)