ঠিক কী ঘটেছিল বদরের যুদ্ধে?

640px-Battle_of_Badr

তৃতীয় পর্ব 

আবু সুফিয়ানের আশঙ্কা

কুরাইশদের কাফেলার নেতা আবু সুফিয়ান আক্রমণের আশঙ্কা করেন। এবং তিনি তারে যাত্রাপথের বিভিন্ন কাফেলাগুলির কাছ থেকে সম্ভাব্য আক্রমণের ব্যাপারে মুসলিম বাহিনীর বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। এর ফলে আক্রমণের খবর তিনি পেয়ে যান। জমজম ইবনে আমর গিফারীকে বার্তা বাহক হিসেবে সাহায্য চেয়ে মক্কায় পাঠান। তিনি দ্রুত মক্কায় পৌঁছে যান। আরবদের তৎকালীন রীতি অনুযায়ী তিনি আসন উল্টিয়ে দেন, উটের নাক চাপড়াতে থাকেন, নিজের জামা কাপড় ছিড়ে ফেলেন, আর উঠে বসে ঘোষণা করেন যে মুসলিমদের হাতে পড়তে পারে মক্কার কাফেলা। মক্কায় আলোড়ন সৃষ্টি হয় এই খবর প্রচারের পর। তেরোশো সৈনিকের বাহিনী গড়ে তোলা হয়। আরে বাহিনীর প্রধান হন আবু জাহল। ৬০০ লৌহবর্ম, ১০০ ঘোড়া, এবং অসংখ্য উঠছিল এই বাহিনীতে। রসদ সরবরাহের দায়িত্ব নেন ৯ জন সম্ভ্রান্ত কুরাইশ। এই বাহিনীর জন্য প্রতিদিন উট জবাই করা হতো। কখনো নয়টি কখনো দশটি উট জবাই করা হতো।

আবু জাহল, উতবা ইবনে রাবিয়া, শাইবা ইবনে রাবিয়া, আবুল বাখতারি ইবনে হিশাম, হাকিম ইবনে হিজাম, নওফেল ইবনে খুয়াইলিদ, হারিস ইবনে আমির, তুয়াইমা ইবনে আদি, নাদার ইবনে হারিস, জামআ ইবনে আসওয়াদ ও উমাইয়া ইবনে খালাফসহ মক্কার অনেক অভিজাত ব্যক্তি মক্কার বাহিনীতে যোগ দেন। বিভিন্ন কারণে তারা যোগ দিয়েছিল। নিজেদের সম্পদ রক্ষা করতে চেয়ে কেউ কাফেলায় যোগ দিয়েছিল, আবার কেউ নিতে চেয়েছিল ইবনে আল- হাদরামির মৃত্যুর বদলা। এছাড়াও তাদের মধ্যে কেউ কেউ ভেবেছিল যে যুদ্ধে মুসলিমদের বিরুদ্ধে খুব সহজেই জয়ী হওয়া যাবে তাই তারা এই যুদ্ধে যোগদান করে। এ যুদ্ধে আবু লাহাব নিজে অংশ নেননি। বরং তার কাছে ৪০০০ দিরহামের ঋণগ্রস্ত ছিলেন আসি ইবনে হিশাম ইবনে মুগির। তিনি তাকে এই ঋণের বিনিময় যুদ্ধে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তিনি প্রথমে যুদ্ধে অংশ না নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন। আবার উকবা ইবনে আবু মুয়াইত তাকে নারী বলে লজ্জিত করেন। এ লজ্জা লজ্জা হয়ে তিনি যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করেন। তবে বনু আদি গোত্রের কেউই কুরাইশদের মধ্যে থেকে এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি।

নিয়মিত খবর সংগ্রহ করছিলেন আবু সুফিয়ান। মজদি ইবনে আমর নামক এক ব্যক্তির সাথে বদরের সন্নিকটে তার সাক্ষাৎ হয়। তাকে মদিনার বাহিনীর সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি। কিন্তু তিনি বলেন যে দুইজন ওটা রুহিকে তিনি একটি টিলার পাশে উটকে বসিয়ে রেখে মশকে পানি ভরতে দেখেছেন। সতর্কতার সাথে আবু সুফিয়ান সেখানে যান এবং উটের গোবর ভেঙে দেখেন। গোবর ভেঙে দেখার পরে তিনি সেখানে খেজুরের বিচি দেখতে পারি। তিনি বিচি থেকে বুঝতে পারেন এই খেজুর গুলি মদিনার খেজুর, এর ফলে তিনি সন্দেহমুক্ত হন মুসলিমদের আগমন এর ব্যাপারে। ইয়ানবুতে সমুদ্র উপকূলের দিকে তিনি কাফেলাকে নিয়ে চলে যান। জুহফা নামক স্থানে মক্কার বাহিনী পৌঁছানোর পর, আবু সুফিয়ানের বার্তাবাহক এসে বলে যে তাদের অগ্রসর না হয়ে ফিরে যাওয়া উচিত, কারণ কাফেলা নিরাপদে আছে। এই পরিস্থিতিতে মক্কার বাহিনীর বেশিরভাগ ফিরে যাওয়ার পক্ষে রায় দেয়। অপরদিকে এই বাহিনীর প্রধান আবু জাহল অসম্মতি জানায়। স্ত্রীর যুদ্ধ না করে ফিরে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। বনু জুহরা গোত্রের সেনাপ্রধান আখনাস ইবনে শরিক ও তার মিত্ররা ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে বেশিরভাগ তার স্বপক্ষে সাড়া না দেয়ায় তিনি বনু জুহর গোত্রের ৩০০ সদস্য নিয়ে মক্কায় ফিরে আসেন। এই চলে আসার ফলে মক্কা বাহিনীর সেনা সংখ্যা কমে যায়। এবুকে সেনা সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১০০০। আর এই একই পন্থায় আবু হাসিব ফিরে যেতে চায় মক্কায়।

তবে আবু জাহেলের কারণে তারা ফিরে আসতে আর পারেন না। তারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। বদরের উপত্যকায় একটি টিলার পেছনে অগ্রসর হয়ে আশ্রয় নেয় মক্কার বাহিনী।

(চলবে)