SalamWebToday নিউজলেটার
সালামওয়েবটুডে থেকে সাপ্তাহিক নিবন্ধ পাওয়ার জন্য সাইন আপ করুন
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

ডিজিটাল মাধ্যমের ফাঁদ থেকে কীভাবে বাঁচাবেন শিশুকে?

প্রযুক্তি ২৬ নভে. ২০২০
ডিজিটাল মাধ্যমের

আজকের যুগে ইন্টারনেট আমাদের সর্বক্ষণের সঙ্গী, আমরা এখন বাস করি ডিজিটাল মাধ্যম বা ডিজিটাল দুনিয়ায়। বিশেষ করে কোভিড-১৯-এর আক্রমণের পর আমাদের কাজ কর্ম পড়াশোনা সামাজিক জীবন সবই ডিজিটাল মাধ্যমের অন্তর্গত হয়ে উঠেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছে শিশু ও কিশোররা। এতদিনে আমরা প্রত্যেকেই প্রায় অল্প বিস্তর জেনে গিয়েছি মাত্রাতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের কুফল।

ইসলামে কোনও কিছু নিয়ে বাড়াবাড়ি করার ব্যাপারে নিষেধ রয়েছে। অথচ আজ ডিজিটাল যুগের রমরমার কারণে মুসলমান শিশু ও কিশোরদের অধ্যাত্মবাদে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে, আর সেই প্রভাব কখনওই সুফলদায়ক নয়।

অতিরিক্ত টেকনোলজি ও ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে নিম্নলিখিত সমস্যাগুলি দেখা যাচ্ছে,

অমনোযোগ, অস্থিরতা ও স্মৃতিলোপ।

পারিবারিক ও সামাজিক যোগাযোগ কমে যাওয়া।

অনুপযুক্ত ও অসংগত বিষয়ে জানতে পারা, এর মধ্যে অহেতুক হিংস্রতা, ভুল খবর ও তথ্য, বিকৃত যৌনতা সবই রয়েছে।

ঘুমের অসুবিধা ও ইনসমনিয়ার মতো কঠিন অসুখ।

চোখ ও নার্ভের সমস্যা।

স্থূলত্ব, যা কিশোরদের মধ্যে ভয়াবহ হারে বেড়ে গিয়েছে।

শিশু ও কিশোরদের প্রথম আগ্রহ শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়া ও স্মার্টফোন দিয়ে, ঘরে বসে তথ্য জানার সুফল অচিরেই কখন কঠিন নেশায় পরিণত হয়ে যায় তা বুঝে ওঠা যায় না। এর ফলেই শিশুর মানসিক ও বৌদ্ধিক বিকাশ ব্যাহত হয়।

এই বিষয় থেকে নিজের সন্তানকে বাঁচাতে সহিহ মুসলমান পিতা ও মাতার প্রথম থেকেই সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

ডিজিটাল মাধ্যমের রমরমায় কীভাবে করা যাবে অধ্যাত্মিক উন্নতি?

একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে, অনলাইন সবকিছুই ভীষণ আকর্ষণীয়। ইন্টারনেটের দুনিয়াকে আগ্রহজঙ্ক করে তুলতে আরও বেশি করে সেই নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। প্রতি পদক্ষেপে নতুন কিছু করার আনন্দ, প্রাপ্তির আনন্দ, আর এতটাই মজাদার সবকিছু যে শিশু ও কিশোররা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে থকে। তুলনায়, চিরাচপ্রিত প্রথায় আত্মিক উন্নতির কথা শুনতে গেলে তা একটু নীরস বলেই মনে হবে। যখন চারপাশে এত ফাস্ট লার্নিং এর হুজুগ, সেখানে ধীর লয়ে কিছু শেখা বা অনুধাবন করা কিশোর বা শিশুদের খুব একটা আগ্রহী করে তুলবে না। চ্যালেঞ্জটা সেখানেই!

অল্প সময়ের মধ্যে ডিজিটালি অনেক কিছু মাথার মধ্যে প্রবেশ করতে থাকলে সূক্ষ্ম ভাবনা চিন্তার ক্ষমতা অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। ক্রিটিকাল থিংকিং, যুক্তির বিশ্লেষণ সবকিছুই একটি কিশোরকে অনাগ্রহী করে তোলে। খুব বুদ্ধিদীপ্ত ভাবে এই সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে।

হ্যাঁ এটা ঠিক যে এখন অনেক ইসলাম সংক্রান্ত মজাদার বিষয় অনলাইন পাওয়া যায়, শেখাও যায়। কিন্তু কিছু কিছু বিষয় রয়েছে যা পিতা মাতা বা বুজুর্গকে নিজের হাতে শিশুকে শিক্ষা দিতে হবে।

কী শিক্ষা দিতে হবে?

১। নিয়মিত পবিত্র কুরআন পড়া ও তা নিয়ে আলোচনা করা।

২। শিশু ও কিশোরদের ভাবতে সাহায্য করা। তাদের তদাব্বুর-এর ক্ষমতা যেন বেড়ে ওঠে।

উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, মহাকাশে গ্রহদের অবস্থান। ছোট ছোট মন গুলিকে এভাবেই ভাবনা চিন্তার দিকে ফিরিয়ে আনা যায়।

৩। আধকারের উৎসাহিত করা। প্রতিদিন যদি কিশোর মন শুভানল্লা, আলহাম দুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবর ইত্যাদি শব্দগুলি ব্যবহার করে তাহলে তাদের মনের স্থিরতা ফিরে আসবে। শুধু তাই নয় এই পবিত্র শব্দগুলির অর্থো তারা অনুধাবন করতে পারবে।

৪। আল্লাহর কাছে দুয়া প্রার্থনা করা। এর মাধ্যমে মানসিক উন্নতির সূচনা হয়। পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে নিজের প্রিয়জনের জন্য দুয়া প্রার্থনা করলে আল্লাহর রহমত বর্ষিত হবে।

হ্যাঁ শুরু শুরুতে হয়তো শিশু বা কিশোরের পুরোপুরি মনোযোগ পাওয়া যাবেনা। কিন্তু এটা মাথায় রাখতে হবে , তাদের মনন এভাবে শেখার জন্যই তৈরি। একসময় তারা ঠিকই আকর্ষণ বোধ করবে।

তবে, ইন্টারনেট থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়তো খুব যুক্তিগত হবেনা। কিন্তু আস্তে আস্তে আপনার সন্তানকে শেখাতে হবে ভারচুয়াল রিয়েলিটি আসলে সত্যি জীবন নয়।

টেকনোলজি ও ডিজিটাল মাধ্যমের সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখার কতগুলি নিয়ম রয়েছে,

১। পিতামাতা হিসাবে একই ভাবনা চিন্তায় থাকার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন আপনার সন্তান আপনাকে দেখে শিখবে,সুতরাং,শক্ত হাতে এই সমস্যার সমাধান করতে গেলে আপনাদের একজোট হতে হবে।

২। সন্তানের সঙ্গে সময় কাটান। একসঙ্গে ভিডিয়ো দেখুন, সিনেমা দেখুন।আবার বই পড়ুন। নতুন নতুন ট্রেন্ড-এর বিষয়ে খোঁজ রাখুন। ।

৩। বন্ধুত্বপূর্ণ ভাবেই আলোচনা করুন নানা টপিক নিয়ে। এভাবেই অনুপযুক্ত বিষয় নিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করুন।

৪। খেয়াল রাখুন সন্তানের মধ্যে কোণও ডিজিটাল আসক্তির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে কিনা।