ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীল হতে হবে নিজেকেও

প্রযুক্তি ২৮ নভে. ২০২০ Contributor
ডিজিটাল মাধ্যম
Photo by Azamat E on Unsplash

১৪০০ বছর আগে মহানবী রাসুল (সাঃ) প্রকৃত ও ঐক্যবদ্ধ মুসলমানদের জ্ঞান ও তথ্যনির্ভর সমাজ গঠনের নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন। একমাত্র প্রত্যেক মুসলমান ভাইয়ের প্রকৃত সহযোগিতা ছাড়া সমাজের অগ্রসর সম্ভব নয়। আবার, এই অগ্রসরতার জন্য যে জ্ঞান ও তথ্য প্রয়োজন ডিজিটাল মাধ্যম সহজে তা আহরণের ব্যাপারে অভূতপূর্ব সাহায্য করে। কিন্তু, তা ব্যবহার করতে গেলে নিজেদের দায়িত্বশীল হতে হবে।

ধরে নেওয়া যাক, একজন উলেমা কোনও বিষয়ে কিছু বক্তব্য রেখেছেন। আপনি যদি সেই বক্তব্যটি বিশদে বুঝতে না পারেন তাহলে সহজেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে খানিক জ্ঞান আহরণ করতে পারবেন। ইসলামের ধর্মের মূল বক্তব্যের সঙ্গে এভাবেই যদি ডিজিটাল মাধ্যমের সমতা থাকে তাহলে কিন্তু কোনও সমস্যার কারণ নেই। কিন্তু বাস্তবে অনেকসময় সমতার জায়গায় অসাম্য দেখা যায়।

ডিজিটাল মাধ্যমে অতিরিক্ত নির্ভরতা

এই ডিজিটাল যুগে, আমাদের হাতের কাছে সহজেই তথ্য ও আরও নানা সুবিধার যোগান দিয়ে ডিজিটাল মাধ্যম বিলাসিতা থেকে নিত্য প্রয়োজন হয়ে উঠেছে। প্রতি মুহূর্তের যেকোনো কাজেই স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট আমাদের সহায়। এটা আরও ভাল করে বোঝা গিয়েছে সারা বিশ্ব জুড়ে কোভিড-১৯-এর প্রকোপের পর। স্কুলকলেজ অফিস থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার… সবই এখন অ্যাপ নির্ভর।

এই অতিরিক্ত নির্ভরতা থেকে যে সমস্যা শুরু হয় তা হল সুবিধার কথা ভাবতে-ভাবতে বিপদ বা অসুবিধার কথা একেবারে ভুলে যাওয়া। বা আরও গুছিয়ে বললে, যে মাধ্যম আমই ব্যবহার করছি সেই মাধ্যম আদৌ সুরক্ষিত কতটা এই বিষয়ে যাচাই করে নেওয়ার মানসিকতা একেবারেই থাকে না।

ডিজিটাল মাধ্যম যেমন উপকারে লাগে, সেরকম অপকারেও লাগতে পারে। ব্যক্তিগত ক্ষতি থেকে নৈতিক ক্ষতি, সঠিক মাত্রায় ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার না করলে এই ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতেই হবে।

ডিজিটাল মাধ্যম, গোপনীয়তা ও বিশ্বাস

বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে গোপনীয়তা ও বিশ্বাসের ধারণা বিভিন্নরকম। তবে সব ভাবনারই মূল হল নিজের ব্যক্তিগত জীবন সুরক্ষিত রাখা।

এর জন্য মোটামুটি তিনটি পদ্ধতি নেওয়া যায়,

প্রযুক্তিগত পরিবর্তন

এটি মূলত ডিজিটাল মাধ্যমগুলির দায়িত্ব। ইউজারের সনাক্তকরণ ও তার তথ্যের বিশ্লেষণ যাতে তৃতীয় কোনও ব্যক্তির হাতে না পড়ে তাই বিভিন্ন নতুন নতুন প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইসলাম সংক্রান্ত অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে নজরদারি আরও জোরালো করা হয়েছে। এখন এমন প্রযুক্তি আনার চেষ্টা করা হচ্ছে যা ইউজারেরে পক্ষে সুবিধাজনক হয় ও হ্যাকাররা যা কিছুতেই ব্রিচ করতে না পারে।

সামাজিক পরিবর্তন

একটা সময় ছিল যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা আমাদের সমস্ত কিছু শেয়ার করতাম। ছবি থেকে লোকেশন, সব। কিন্তু বর্তমানে তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি সকলের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠায় এই অভ্যাসটি অনেকাংশেই কমেছে। বিশেষ করে লোকেশন শেয়ার করার বিষয়টি। মানুষ নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে চাইছে।

অর্থকরী পরিবর্তন

টাকা ট্রান্সফার করার অ্যাপ, ই-কমার্স সাইটগুলি অর্থকরী বিষয়ে আরও সতর্কতা জারি করেছে। ইউজার যদি সেই সতর্কতা মেনে চলে তাহলেই সুরক্ষার কোনও কমতি হবে না।

এভাবেই ডিজিটাল মাধ্যম সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে পারে, করে এসেছে এতদিন।

যে ওয়েবসাইট বা অ্যাপ প্রকৃত ভাবে ব্যবহারকারীর সুরক্ষা নিয়ে চিন্তা করে তা সবসময় খুব খোলাখুলি ভাবে গোপনীয়তা সংক্রান্ত বার্তা দেবে। স্পষ্ট করে জানিয়ে দেবে কোণ তথ্যগুলি গৃহীত হয়, সেগুলি কোথায় সঞ্চিত হয়। শুধু তাই নয়, প্রয়োজন হলে আইন যে মানা হয়েছে সেটাও জানিয়ে দেবে।

সুতরাং, কোন অ্যাপ ব্যবহার করছি। সেই অ্যাপের সুরক্ষা ব্যবস্থা কেমন। এই বিষয়ে আমাদেরও চোখ কান মগজ খোলা রাখতে হবে। অনর্থক অবিশ্বাস বা অতিরিক্ত বিশ্বাস দুইই বেশ বিপজ্জনক।