ডিপ্রেশনের এই লক্ষণগুলি কি আপনার মধ্যে দেখা যাচ্ছে?

ID 84804721 © Sanchai Rattakunchorn | Dreamstime.com

সবসময় একটা মানুষের জীবন তো একইভাবে কাটে না, জীবনে আনন্দ যেমন আছে, হতাশাও তেমনি। কিন্তু এই দুঃখের মধ্যে দিয়ে যেতে যেতেই মানুষ হতাশার স্বীকার হয়। ফলে সেই মানুষটির পুরো জগতের থেকে আস্তে আস্তে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। নিজেকে ধীরে ধীরে অন্ধকারে ঠেলে দেয়, সবেতেই যেন একটা বিরহ চোখে পড়ে। এটা বেশ কিছু সময় ধরে চলতে থাকলে মানুষের জীবন সম্পর্কে বিরক্তি ভাব চলে আসে। হতাশাবোধ থেকে সে ক্রমশ ডিপ্রেশনে চলে যায়।

ডিপ্রেশনে যেগুলো সবারই প্রায় যেটা দেখা গেছে সেগুলি হল-

আঘাত পেয়ে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া

অন্ধকারে থাকা

মূল্যহীনতা ও হতাশাবোধে ভোগা

ঘুমের পরিবর্তন

ক্ষুধার পরিবর্তন

শক্তির ক্ষয়

কোনো কাজে মনোনিবেশ করার অক্ষমতা

যেকোনো সাধারণ কাজ করতে অসুবিধা হওয়া

যেগুলো উপভোগ্য তা করার প্রতি আগ্রহ কমে যায়

বন্ধুদের কাছ থেকে দূরে চলে যাওয়া

মৃত্যুর দিকে যাওয়া বা নিজের কোনো ক্ষতি করার চিন্তা

ডিপ্রেশন মানুষকে এককোনে গিয়ে দাঁড় করায়, আলো থেকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়। জীবনের সমস্ত সহজ সুন্দর অনুভূতিগুলোকে তাড়িয়ে বেড়ায়। বাঁচার ইচ্ছেটাই যেন চলে যায়। ডিপ্রেশন একটা সুস্থ জীবনের চরম ক্ষতি করে দেয়।

প্রত্যেক মানুষের ডিপ্রেশন একরকম নয়। প্রায় নয় রকম ডিপ্রেশনের কথা জানা গেছে, সেগুলো হল-

মেজর ডিপ্রেশন

এই ডিপ্রেশন এ মানুষের মধ্যে প্রতিদিন ই লক্ষন গুলো দেখা যায়।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের এই ডিপ্রেশনে অভিজ্ঞতা বেশী।

হতাশা বা শোকে ভুগছেন
ঘুমাতে সমস্যা হচ্ছে
শক্তি কমে যাচ্ছে ও ক্লান্তি
অব্যক্ত বেদনা ও ব্যথা
খিদে কমে গেছে
আনন্দদায়ক কাজে আগ্রহ কমে যাওয়া
স্মৃতিশক্তি কমে যাচ্ছে
অবিরাম উদ্বেগ,আত্মহত্যার চেষ্টা

প্রায় ১৬.২ মিলিয়ন মানুষ এই রোগে ভুগছে, ফলে তাদের স্বাভাবিক জীবন কাটানো মুশকিল হচ্ছে।

পারসিসটেন্ট ডিপ্রেশন

কোনো সম্পর্কের  মধ্যে চাপ সৃষ্টি হয়  এবং দৈনন্দিন কাজগুলো যেন আগের থেকে অনেক বেশি কঠিন হয়ে যায়।

এর লক্ষণ
গভীর দুঃখ বা হতাশা
স্ব-সম্মান কম
আগ্রহ কমে যাওয়া
খাওয়ার পরিবর্তন ও ঘুম কমে যাওয়া
স্কুল বা অন্য কোথাও কাজ করতে অসুবিধা
সামাজিক প্রত্যাহার।

ম্যানিক ডিপ্রেশন

মানুষ অনেকসময় অযথা চিন্তা করে যা ম্যানিক ডিপ্রেশনের লক্ষন। কোনো আনন্দের মূহুর্তে অংশগ্রহণ করেও তার মন দোলাচলে ভোগে, ভাবে খারাপ কিছু মূহুর্ত হয়তো তার জীবনে আসতে চলেছে।শরীরে ঘুমের ঘাটতি শুরূ হয় ম্যানিয়া থেকে ফলে তাড়াতাড়ি  আসে ক্লান্তি ।এর প্রভাব পড়ে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে  সেই ব্যক্তি ধৈর্য হারিয়ে ফেলে তাড়াতাড়ি , বেশি কাজে বিরক্ত  প্রকাশ করতে শুরু করে।মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত হয়ে যায় যে সুইসাইড করার কথাও ভেবে ফেলতে পারে। প্রত্যেকটি মূহুর্ত মানুষের কাছে এতটাই যন্ত্রের হয়ে যায় সে তার জীবনের সব কাজ করতে অস্বীকার করে।

এছাড়াও ডিপ্রেশন আরও অনেকরকম ভাবে শরীরে বাসা বাঁধে, যেমন-

সাইকোসিস ডিপ্রেশন

এই ডিপ্রেশনে আক্রান্তরা সমাজ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেয়। তারা নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে রাখে সবথেকে,যার ফলে অবাস্তব কাজ করতে শুরু করবে।

পেরেন্টিয়াল ডিপ্রেশন 

মহিলাদের মধ্যে এই ডিপ্রেশন বেশিরভাগ সময় দেখা যায়। বাচ্চা হওয়ার আগের মূহুর্ত গুলিতে এমন কিছু হরমোন ক্ষরিত হয় যাতে মেজাজের ওঠানামা হয় খুব দ্রুত। এছাড়াও বাচ্চার স্বাস্থ্য, তার ভবিষ্যত নিয়ে অতিরিক্ত ভাবনা চিন্তা করে। এর ফলে নিজের মধ্যে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়।

আজকের পৃথিবীতে ডিপ্রেশনের মতো ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে, যেকোনো শারীরিক রোগের তুলনায় এটি বেশি ক্ষতিকর। কারণ শরীরের সাথে লড়াই করতে করতে গেলে একটা শক্ত মন লাগে কিন্তু লড়াই যখন মনের সাথে হয়, শরীরও দুর্বল হয়ে যায়।