তাকওয়া শিক্ষা অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় মাহে রমজান

সিয়াম Contributor
Ramadan Kareem
© Lilkar | Dreamstime.com

রমজান ও তাকওয়ার মধ্যে সম্পর্ক

রমজান মাসের প্রতিটা রোজার প্রধান উদ্দেশ্য শুধুমাত্র না খেয়ে থাকা নয়, এর পিছনে রয়েছে আরও গভীর দর্শন।

আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “তোমরা যারা বিশ্বাস করো রোজা রাখা তোমাদের অবশ্যকর্তব্য, ঠিক যেমন তোমাদের পূর্বপুরুষেরাও করে এসেছে, এর ফলে তোমরা তাকওয়া লাভ করবে।” (২:১৮৩)

এখান থেকে আমরা জানতে পারি রোজা রাখা ও তাকওয়ার মধ্যে সম্পর্ক। আমরা যদি রোজার আক্ষরিক অর্থকে বিশ্লেষণ করি তাহলেই বোঝা যাবে রোজা রাখা মানে নিজের ভিতরের আকাঙ্খাগুলিকে দমন করা। এই মানসিকতা থেকেই তাকওয়া অর্জন করা যায়। তাকওয়া অর্থও নিজেকে দমন করা, ভালো ভাবে ব্যাখ্যা করলে দাঁড়ায় যে সেই সমস্ত কাজ থেকে নিজেকে দমন করা যা আল্লাহের কাজে অপ্রিয়।

নিজের মধ্যের নাপাক আত্মভরিতার দ্বারা যেসমস্ত গুণাহ করার বদইচ্ছাগুলো তৈরি হয় তা থেকে বিরত থাকাই তাকওয়া লাভ করা মূখ্য পথ।

রমজান ও তাকওয়া

রমজান আমাদের হাতেকলমে শেখায় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার উপায়। আমাদের জীবনে সম্ভাব্য ত্যাগ করার মতো বস্তুগুলিকে ত্যাগ করে আমরা তাকওয়া অর্জনের যোগ্য হই।

এই ত্যাগ করার মধ্যে দিয়ে যে ক্ষমতা তৈরি হয় তা থেকেই মানুষ নিজেকে দমন করতে পারে, হারাম থেকে নিজেকে বিরত রাখে।

এই সমস্ত কিছুই মাহে-রমজানের পবিত্র মাস থেকে শিক্ষা লাভ করা যায়। রমজানের এই শিক্ষা শুধুমাত্র ধর্মীয় নয় প্রতিদিনের জীবনেও সমান ভাবে উপযোগী।

আত্মনিয়ন্ত্রণই একমাত্র পথ যার দ্বারা আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতা পাওয়া। নিজেকে চক্রাবর্তে হারিয়ে না ফেলে প্রয়োজনীয় জিনিসকে গ্রহণ ও বাকি সবকিছুকে এড়িয়ে চললে যে জীবন পাওয়া যায় তা হয় প্রকৃত সুখের জীবন।

পবিত্র রমজান মাসে সকল রোজাদার ব্যক্তিই নিজেকে তাকওয়ার দাবিদার বানিয়ে তোলে।

আল্লাহ আমাদের সহিহ মুসলমান হয়ে ওঠার সমস্ত উপায় দিয়ে রেখেছেন। কুরআন থেকে নিয়মিত নমাজ আদায় করা সবই রয়েছে তার মধ্যে।